শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮
Thursday, 05 Jul, 2018 09:59:41 am
No icon No icon No icon

জীবনকে ভালবাসুন জীবনকে সুযোগ দিন


জীবনকে ভালবাসুন জীবনকে সুযোগ দিন


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ: আমি যে তোমার ছায়া, আশ্রয়দাতা তা কি তুমি জান?
তোমার হাসি, সুখ যে আমার কাছে সবচেয়ে দামী তা কি তুমি মানো? তোমার জন্য সব দু:খ, কষ্টের অরণ্য, পাহাড়, মরুভূমি, নদী/সমুদ্রের স্রোতধারা, ঝড় বৃষ্টি/ঘূর্ণি ঝড়ের বিপদ সংকুল পথকে পাড়ি দিতে পারি।
তাই ভালবাসা মানে কেবল একতরফা প্রত্যাশা/পাওয়া না কিংবা তা পাবার জন্য জেদ, পাগলী, সহিংসতা, নৃশংসতা না।
ভালবাসা মানে ভাললাগা/ভালবাসার নারীর শত, হাজারো স্বপ্ন, ইচ্ছে, বায়না পূরণের চ্যালেঞ্জ। তার মুখের অনাবিল হাসি, তাকে সুখী দেখার আকাঙ্ক্ষা। বটগাছের মত ছায়া হওয়া। ভালবাসা মানে নিজের অনেক স্বপ্ন, স্বাধ, ইচ্ছের কথা ভুলে যাওয়া/ত্যাগ করা/গোপন রাখা। জীবনের সব কষ্ট-দু:খ, আত্নত্যাগকে স্বাভাবিকভাবে/হাসি মুখে মেনে নেয়া। ভালবাসা মানে ভালবাসার নারীর স্বপ্ন, ইচ্ছা, ভাললাগা, ভালবাসাকে মূল্যায়ন করা, সম্মান দেয়া।
এক জীবনে সব কিছু পাওয়া সম্ভব না এবং জীবনে সব সময় সব কিছুতেই জয়/সাফল্য পাওয়া/আশা করা যায় না। কেউই পায় না। তাই জীবনে পাওয়া, জয়, সাফল্য, সুখ, আনন্দ, উল্লাসের মত না পাওয়া, পরাজয়, অসফলতা, দুঃখ, বেদনা, হতাশার ব্যাপারগুলো স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই এসবকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে, ব্যর্থতাকে ভুল/পেছনে ফেলে, মাথা ঠান্ডা রেখে, সাহস করে, ধৈর্য্য ধরে যেকোন বিপর্যকর/প্রতিকূল সময় ও পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাবার, সফল হবার আত্নবিশ্বাস ও সংগ্রাম করাই হচ্ছে প্রকৃত সাহসী, বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষণ পুরুষের কাজ এবং তার পৌরুষ্যত্বের প্রকাশ।

আমার এই লেখাটি সেই সব অবুঝ, বিপথগামী, সহিংস প্রিয় কাপুরুষ কিশোর, তরুন, পুরুষ ভাইদের প্রতি যারা ভালবাসা মানে বোঝে জোর করে কোন নারীর সাথে প্রেম করাকে কিংবা কাঙ্ক্ষিত নারীকে বিয়ে করে জেতাকে। তারা একতরফা জেদের ভাললাগাকেই ভালবাসা বলে মনে করে/বুঝে। আর সেই কাঙ্ক্ষিত নারীর কাছ থেকে নিজের মত করে সাড়া/ভালবাসা না পেলে কিংবা তাকে কাছে না পেলে ভীষন হতাশাগ্রস্ত, বিভৎস প্রতিহিংসুক কামুক/ধর্ষক/হত্যাকারী হয়ে উঠে। ইভটিজিং, এসিড সন্ত্রাস, ধর্ষন, হত্যাকান্ড ঘটিয়ে থাকে। ভালবাসার নারীর সুন্দর, আনন্দময় স্বাভাবিক জীবন, স্বপ্ন, ভবিষ্যৎকে নষ্ট করে দেয়। তার সুখের সংসারকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। তার পরিবারের জন্য নানাবিধ দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। অপরদিকে অভিমানী ও হতাশাবাদীরা নিজেরা নিজেদের জীবন, স্বপ্ন, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎকে ধবংস করে দেবার ব্যবস্থা করে। নিজেদের পরিবারের জন্য কষ্ট-দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। ভালবাসার নারীর ভালবাসা না পেলে কিংবা তাকে জীবন সঙ্গীনী হিসাবে কাছে না পেয়ে মদ্যপ/মাদকাসক্ত, পাগল/উন্মাদ, অপরাধী, সন্ত্রাসী বিপথগামী হয়ে যায়। এমন কি আত্নহত্যার চেষ্টা করে। মারা যায়, পঙ্গুত্ব বরণ করে। বিপথে গিয়ে নিজের জীবন, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎকে ধবংস করে দেয়। এগুলো হচ্ছে পৌরুষ্যত্বহীন, ব্যক্তিত্বহীন, সাহস-ধৈর্য্য-বুদ্ধিহীন, জীবন-কর্ম-শ্রম বিমুখ হতাশাগ্রস্ত, দুর্বল, নুপুংশক কাপুরুষের কাজ এবং পরিচয়।

জীবন একটাই। মানব জীবন অনেক সুন্দর। এর অনেক ভাল উদ্দেশ্য আছে এবং ভাল কাজে লাগাবার অনেক যোগ আছে। তাই জীবনকে একবার নয় বার বার সুযোগ দিন। আপনাদের সবার নিজ নিজ পরিবার, বাবা-মা, ভাই-বোন, নিজের ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ আছে। তাদের সবার প্রতি এবং নিজের প্রতি আপনাদের অনেক দায়িত্ববোধ আছে। তাই কেবলমাত্র এক ভালবাসার নারীর কাছ থেকে জোর করে ভালবাসা কিংবা তাকে জীবন সঙ্গীনী হিসাবে পাবার জন্য অযথা হতাশাগ্রস্ত, মরিয়া, উন্মাদ, বিপথগামী, সহিংস, অপরাধী, মাদকাসক্ত, আত্নঘাতী হবেন না। নিজের জীবন, যৌবন, সুন্দর ক্যারিয়ার, ভবিষ্যতকে নষ্ট করবেন না। এসব করে যুগে যুগে দেশে দেশে হাজার হাজার কিশোর, তরুন, পুরুষদের জীবন, যৌবন, ক্যারিয়ার গড়ার, ভবিষ্যতের সুন্দর সময়, সুযোগ নষ্ট/ধবংস হয়ে/হারিয়ে গেছে/যাচ্ছে। তারা নানাবিধ অপরাধ করে/তাতে যুক্ত হয়ে নিজেদের পরিবারের এবং নিজেদের সম্মান-মর্যাদা নষ্ট করছে। ফেরারী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে/জেল খেটে দাগী আসামী হয়েছে/হচ্ছে। তাই নিজের মনের সংকীর্ণ, নেতিবাচক চিন্তাচেতনা, দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে নিজেকে, সমাজকে আরো গতিশীল, আধুনিক করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

আপনি যাকে ভালবাসেন সে যদি আপনাকে ভাল না বাসে তাহলে তার উপর কেন জোর জবস্তি করতে যাবেন? সে কি আপনার কোন ব্যক্তিগত/পৈত্রিক সম্পত্তি? আপনার ইচ্ছা পূরণের দাসী? প্রতারণা, ষড়যন্ত্র/জোরজবস্তি করে/এসবের মাধ্যমে কোন মেয়েকে ভালবাসার জালে জড়ালে/বিয়ে করলে ভবিষ্যতে তা আপনার জন্যই বুমেরাং/আত্নঘাতী হবে। কারণ এতে করে মেয়েটি কখনোই মনেপ্রাণে আপনাকে মেনে নিতে/ভালবাসতে পারবে না। সম্মান দিবে না। এরফলে প্রথমে আপনার জন্য মেয়েটির জীবন/ভবিষ্যত নষ্ট হবে। দ্বিতীয়ত মেয়েটিকে নিয়ে সাংসারিক অশান্তিতে ভুগে নিজের জীবন, ভবিষ্যত নষ্ট হবে এক পর্যায়ে। আর তৃতীয়ত আপনাদের মাঝে/ঘরে/সংসারে যে অনাগত সন্তান আসবে সে একটি অস্বাভাবিক ও অসুস্থ পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠবে। তখন সারা জীবন আফসোস করবেন। অনুতপ্ত হবেন। তাই নিজের আবেগ, অবুঝপনা, জেদকে নিয়ন্ত্রণ, জয় করতে এবং এগুলোকে সঠিকভাবে ভাল কাজে লাগাতে শিখুন।

একজন নারীর ভালবাসা না পাওয়া, তাকে প্রেমিকা/ জীবন সঙ্গীনী হিসাবে না পাওয়া মানেই আপনি তার অযোগ্য, নুপুংশক, জীবন যুদ্ধে পরাজিত নন কিংবা আপনার সব স্বপ্ন-ভবিষ্যত শেষ নয়। এসব অহেতুক নেতিবাচক চিন্তা করার মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসুন। এই ব্যাপারগুলোকে জীবনের স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক ব্যাপার হিসাবে মেনে নিন/নেবার চেষ্টা করুন। কারণ আপনার ভালবাসার নারী হয়ত অন্য কোন পুরুষকে ভালবাসে, হয়ত সে আপনার চেয়ে আরো যোগ্য ছেলেকে প্রত্যাশা করে, হয়ত আপনার কিংবা আপনার পরিবারের অনেক ব্যাপার/ব্যবহার তার ভাল লাগে না। যদি সত্যি তাকে ভালবাসেন তাহলে ভালবাসার নারীর আনন্দ, আকাঙ্ক্ষা, ভাললাগা, ভালবাসাকেও অনুভব করতে এবং সম্মান দিতে শিখুন। তাকে দুর্বল, দাসী, পণ্য ভেবে জোর করে জিততে/দখল করে নিতে যাবেন না। আপনি নিজের যোগ্যতায় আপনার ভাললাগার মেয়ের চেয়ে আরো ভাল মেয়ের সন্ধান করুন। নিশ্চয়ই আপনি আপনার মনের মত কাঙ্ক্ষিত অন্য ভালবাসার নারী/প্রেমিকা/ স্ত্রী পেয়ে যাবেন। যে আপনাকে/আপনার পরিবারকে ভালবাসবে, সম্মান করবে, আপন করে নিবে। অতীতের ব্যর্থতা, তিক্ততাকে ভুলে নতুনভাবে জীবনে পথ চলতে শুরু করুন এবং এক সুন্দর, সফল, সুখী ভবিষ্যত গড়ে তুলুন। দেখবেন জীবনকে ভালবাসার মত, সুন্দরভাবে সাজানোর মত, সুখী হবার মত অনেক কিছু এবং অফুরন্ত সুযোগ আছে।

এজন্যই আমি বলছি, জীবনকে ভালবাসুন, জীবনকে বার বার সুযোগ দিন। জীবন-যৌবনের সুন্দর সময়, সম্ভাবনা, সুযোগকে ভবিষ্যতের জন্য ভালভাবে কাজে লাগানোর আন্তরিক এবং আপ্রাণ প্রয়াস করুন। জীবন ও কর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা, সুখ, উন্নতি সবই পর্যায়ক্রমে আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। জীবন আপনার। একে বুদ্ধি, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা দিয়ে সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, গুছিয়ে চলা, সাফল্য মন্ডিত এবং সুখী করার দায়িত্ব ও ক্ষমতা আপনার মাথায় এবং হাতেই আছে। তাই জীবনে কখনো কোন পরিস্থিতিতেই নিজের উপর আস্থা/আত্নবিশ্বাস হারাবেন না। সব কিছুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে, ধৈর্য্য ধরে নতুনভাবে পরিকল্পনা মত সঠিক পথ/লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার, সফলতা অর্জনের এবং প্রতিষ্ঠিত হবার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করুন। ভবিষ্যতে এক পর্যায়ে/পরিণত বয়সে আপনি নিজেকে সফল, প্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত, সুখী ব্যক্তি হিসাবে দেখতে পাবেন। নিজের জীবন, সফলতা, অবস্থানকে নিয়ে সন্তুষ্ট ও গর্ব অনুভব করতে পারবেন। জীবন লঘ্নে অনুভব করতে পারবেন আশিফুল ইসলাম ভাইয়ের কথাগুলো কেবল কোন মিথ্যা আশ্বাস, অতি রঞ্জিত কথা, স্বপ্ন দেখানোর ফুলঝুড়ি ছিল না। তবে এজন্য প্রয়োজন নিজের উপর প্রচন্ড আস্থা/আত্নবিশ্বাস, উদার/প্রগতিশীল বাস্তব সম্মত মনোভাব। জীবনে সংগ্রাম করার এবং জীবনের লক্ষ্যকে জয় করার অসীম ধৈর্য্য, ইচ্ছাশক্তি, সাহস, সঠিক বুদ্ধি, পরিকল্পনা এবং প্রচেষ্টা। তবেই নিজের ভেতরের সর্বপ্রকার কাপুরুষতাকে জয় করে প্রকৃত পৌরুষ্যত্বকে অনুভব, জয়, প্রতিষ্ঠা করা এবং জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি, পরিচালিত, সাফল্য মন্ডিত করা সম্ভব। 

লেখক:আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ, টাইমস ২৪ ডটনেট, সিনিয়র রিপোর্টার, ঢাকা।
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK