বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮
Sunday, 01 Jul, 2018 07:54:53 pm
No icon No icon No icon

এমন রাত ফুটবলবিশ্ব দেখতে চায় না


এমন রাত ফুটবলবিশ্ব দেখতে চায় না


মাশরাফি বিন মুর্তজা: এক রাতে মাঠে নেমেছিলেন ফুটবলের দুই মহাতারকা। অনেকেই হয়তো ধরে নিয়েছিল রাতটি হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। রোনালদোর পর্তুগালের চেয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল ফুটবলভক্তদের। কিন্তু এবারও মেসিকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই পথে হেঁটেছেন রোনালদোও। এক রাতেই খসে পড়ল দুই তারকা। আমি নিশ্চিত, এমন রাত ফুটবলবিশ্ব দেখতে চায় না।
কিন্তু এটা বিশ্বকাপ। এখানে মাঠের লড়াই-ই আসল। দল বাছাইপর্ব না পেরোনোয় অনেক তারকা ফুটবলার আছে, যারা বিশ্বকাপে খেলারও সুযোগ পায় না। তাই বিশ্বকাপে নিজেদের এবং ভক্তদের প্রত্যাশা মেটাতে হলে সেরাটাই খেলতে হয় সবাইকে। কিন্তু মেসি ও রোনালদোরা সেটা করে দেখাতে পারেননি। নিজে নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করে গেলেও দলগতভাবে সেটা করতে পারেনি তারা। রোনালদোর দল দলগতভাবে কিছুটা এগোতে পারলেও মেসির আর্জেন্টিনা এ পথে পুরোপুরি ব্যর্থ।
ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে অসহায় দেখিয়েছে। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে খেলে গেছে এমবাপ্পে-গ্রিজম্যানরা। আর্জেন্টিনা তিনটি গোল দিলেও শাসন করেছে ফরাসিরাই। তাদের হারের ব্যবধানটা আরও বড় হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ফ্রান্সের গতিময় ফুটবল দেখে আমার তো মনে হয়েছিল আরও গোল হজম করবে আর্জেন্টিনা। এমন রক্ষণভাগ নিয়ে বিশ্বকাপে লড়াই করা খুবই কঠিন।
স্ট্রাইকারের ছড়াছড়ির মাঝে সব সময়ই রক্ষণভাগ নিয়ে ঝামেলায় থাকে আর্জেন্টিনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এতটা দুর্বল রক্ষণভাগ কোনো দলের হতে পারে, সেটাও বিশ্বকাপের মঞ্চে; এটা মানা কষ্টের। মূলত রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণেই ফ্রান্সের বিপক্ষে হার মেনেছে আর্জেন্টিনা। কারণ ফ্রান্স কেবল পাল্টা আক্রমণ থেকেই গোল করে গেছে।
তবে ফ্রান্সের সামর্থ্যকে আমি ছোট করে দেখছি না। এই ফ্রান্স সত্যিই ভয়ঙ্কর। এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, পগবা, জিরুডদের সামর্থ্য রয়েছে যে কোনো দলের বিপক্ষে জেতার। সাজানো আক্রমণের চেয়ে এমন পাল্টা আক্রমণেই যদি বেশি সফলতা আসে তাহলে সেই সুযোগ কেন কাজে লাগাবে না প্রতিপক্ষরা। ফ্রান্স ঠিক এই কাজটাই করেছে। তবে এমন আচমকা আক্রমণে গোল আদায় করে নেয়াও কঠিন কাজ। ফ্রান্স যেটা খুব সহজভাবেই করেছে।
আরেক ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে খারাপ খেলেনি পর্তুগাল। ম্যাচ হারলেও স্বাভাবিক ফুটবলই খেলেছে তারা। রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগ; সবখানেই গোছালো ছিলেন রোনালদোরা। কিন্তু উরুগুয়ের শক্তির সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা। সুয়ারেজ ও কাভানি অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। পুরো মাঠজুড়ে তারা দৌড়েছে। সেদিক থেকে মেসির মতো রোনালদোকেও কিছুটা নিষ্প্রভ মনে হয়েছে আমার কাছে।
আজ রাতে স্বাগতিক রাশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। স্পেন বড় দল হলেও এবারের বিশ্বকাপে তারা ছন্দময় ফুটবল খেলতে পারেনি এখনও। দুই ড্র ও এক জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে তারা। অন্যদিকে রাশিয়া দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে। আর দুই ম্যাচেই গোল উৎসব করেছে তারা। শেষ ম্যাচটি হারলেও স্বাগতিকদের পক্ষে অনেকেই বাজি ধরছে। ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে খেলবে তারা। আমার মনেহয় ম্যাচটিতে জমজমাট লড়াই হবে।
বাকি ম্যাচে লড়বে ক্রোয়েশিয়া-ডেনমার্ক। এই ম্যাচেও সমানে সমানে লড়াই হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে রাখতে চাই আমি। গ্রুপ পর্বে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে তারা। নাইজেরিয়া, আইসল্যান্ড, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে তারা। এই ধারায় থাকতে পারলে আমার মনে ডেনমার্ক কুলিয়ে উঠতে পারবে না ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।       
অনুলিখন: শান্ত মাহমুদ
সূত্র: প্রিয় ডটকম।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK