বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮
Friday, 15 Jun, 2018 01:28:44 am
No icon No icon No icon

সৌন্দর্যে মুখোশ


সৌন্দর্যে মুখোশ


লুপা তালুকদার: অদ্ভুত এক সমাজ ব্যবস্থা আর মানুষের বিচিত্র উদ্ভট মানুষিকতায় ভরপুর এই সমাজে আমি আছি তা ভাবতে শিওরে ওঠে বুকের পাঁজরে গচ্ছিত আমার বিবেক। সভ্যতার খোলস পড়া মানুষ গুলো কতটা অসভ্য হলে নিজেকে নিজে তিরস্কার এর গ্লানিতে শুদ্ধ প্রমাণিত করতে বেকুল হয়ে ওঠে। এইতো মাত্র কিছুক্ষণ আগে নিজের কানে যা শুনলাম। অবশ্য অন্যের কাছে শুনলে আমিও তা বিশ্বাস করতে পারতাম না। 
সুনামধন্য নিজেকে সমাজের সামাজিক মানুষ ভাবেন মহিবুল ইসলাম সাহেব। অহংকার ও প্রতারণাময় গরিমায় জিনি নিজেকে বিশাল পুরুষত্বপূর্ণ পুরুষ ভাবেন তিনি নিজে Bastard বা বেজন্মার জন্মদাতা হয়ে একটি পিত্রি পরিচয়হীন মেয়ে কে Bastard বেজন্মা রাস্তায় জন্ম হয়েছে এমন সব কথা বলে গালি দিলেন। 
কি অদ্ভুত তার শব্দের উচ্চারণ। অথচ এই শব্দ রশিক মহিবুল ইসলাম সাহেব নিজেও যে এমন একটি শিশুর পিতা তা তিনি ভুলে গেছেন। কি অদ্ভুত আজব এই সমাজে বসত করা মানুষ নামের অমানুষদের বাহারি সৌন্দর্য মুখোশ।
দেহ বিক্রিকরা দেহকর্মীদের পতিতা বলা হচ্ছে কতো সহজ ভঙ্গিতে। অথচ রাতের আধারে এই পতিতাকে কতো যত্ন করে ভোগ করেন মহিবুল ইসলামের মতো সমাজের সভ্যজনরা। আর দিনের অলো ফুটলেই তারা যত্নের রত্ন হিসেবে ওই দেহ কর্মীকে পতিতা বা বেশ্যা বলে গালিদেন। কিন্তু একবার ও তারা ভাবেননা যে যাকে সে গালি দিচ্ছেন তিরস্কার করছেন সেই পতিতা আর তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরঞ্চ ওই পতিতা তার চেয়ে বেশী সতসাহসী। পতিতা তার পরিচর সাহসের সাথে স্পষ্ট ভাবে দিতে পারে কিন্তু মুহিবুল ইসলাম তার নিজের পতিতা হবার পরিচয় সৌন্দর্য মুখোসে ঢেকে রাখেন। তার যে সাহস নেই সত্য বলবার।আচ্ছা আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন - মহিবুল ইসলাম সাহেব একটি Bastard বা বেজন্মা বা জারজ শিশুর জন্মদাতা হওয়া সত্যেও যে তিনি এমনি একটি মেয়েকে Bastard জারজ বলে গালি দিলেন তাতেকি তার পুরুষত্ব বা মানবতায় আঘাত হানেনি???
আমরা একটা সভ্য সমাজে বাস করেও অসভ্যতার ভিরে হারিয়ে যাচ্ছি প্রতিণিয়ত। চোখের সামনে সব দেখেও প্রতিবাদ করছিনা। প্রতিরোধ করাতো দূর।
আমার কষ্ট এখানেই নিজেকে শিক্ষিত বা গ্রাজুয়েট দাবী করা মানুষ গুলো তাদের বিবেক চরিত্র জলাঞ্জলি দিয়ে কেমন করে এই রূপ শব্দ উচ্চারণ করে। 
এই সমাজে তিন প্রকার পিত্রি পরিচয়হীন শিশুর জন্ম হয়। ১/ ভালবাসা বা প্রেম নামক প্রতারণার শিকার হওয়া মায়ের গর্ভে।
২/ রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো মানুষিক ভারসাম্যহীন পাগলী মা এর গর্ভে।
৩/ দেহকর্মী মায়ের গর্ভে।
আর এই সকল শিশুদের জন্মদেয় সমাজের সামাজিক নিয়মে শ্রদ্ধাশীল মহিবুল ইসলাম এর মতো সৌন্দর্য মুখোশ পড়া পুরুষরা। সব জেনেও সমাজ পতিরা নীরব। কারণ তাদের হয়তো রাতের আধারে গোপনে বেশ্যা হতে ভালোই লাগে।
বিষয়টি খুব অদ্ভুত তাইনা। স্বেচ্ছায় রাতের আধারে ভিন্নভিন্ন কৌশলে হওয়া পুরুষ বেশ্যারা দিনের আলয়ে তার কৃতকর্মের সাজা কখনো ভালবেসে বিশ্বাস করা সরলমনা মেয়েটির উপর কখনো রাস্তার পাগলী অথবা জীবনের প্রয়োজনে নিজেকে বিক্রিকরা দেহকর্মীর উপড় চাপিয়ে দিচ্ছে। আর নিজেকে সামাজিক মানুষ বলে বুকটান করে দাবী করছে।
Bastard জারজ জন্ম দেয়া পিতা পুরুষ আবার সেই শিশুটিকেই Bastard জারজ বলে হাসিমুখে তিরস্কার করে। ছিঃ! আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন এসব বলতে বা করতে আপনাদের খারাপ লাগেনা?
বিবেকে বাধে না?
সবদিক বিবেচনা করলে যা দেখা যায়। এইরূপ পুরুষ বেশ্যাদের কারনে প্রতিনিয়ত সমাজ নোংরা হচ্ছে।

লেখক: লুপা তালুকদার, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK