রবিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৮
Friday, 11 May, 2018 06:39:25 pm
No icon No icon No icon

সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য চাই সবুজ অর্থায়ন


সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য চাই সবুজ অর্থায়ন


ড. আতিউর রহমান: বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির দৌড়ে এক দশকের মতো সময় ধরে বেশ ক্ষীপ্রতা দেখিয়ে চলেছে। দশকব্যাপী ৬ শতাংশেরও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশ চলতি বছর এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ৭.৬৫ শতাংশ হারের রেকর্ড অর্জন করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিন বছর ধরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি থাকার এক বিরল রেকর্ড অর্জিত হতে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে যাওয়া বাংলাদেশের এই অর্জনের পেছনে লাগাতার এই বাড়ন্ত প্রবৃদ্ধির হার বজায় রাখার কৃতিত্ব বর্তমান উন্নয়নবান্ধব সরকারের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণ সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের দিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে খাত হিসেবে রপ্তানিমুখী শিল্পের (গার্মেন্ট ও চামড়া) ব্যাপক অবদান অনস্বীকার্য। এখানেও তরুণ উদ্যোক্তা ও আমাদের পরিশ্রমী নারী কর্মীদের অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা না বললেই নয়। তাদের সম্মিলিত অবদানের ফলেই ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর প্রভাব সার্বিক প্রবৃদ্ধির ওপর গিয়ে পড়ছে। তা ছাড়া ব্যাপক কর্মসংস্থান প্রদান করে এই খাত দারিদ্র্য নিরসনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। প্রবৃদ্ধির এই জয়যাত্রা স্থিতিশীল রাখার জন্য কৃষি ও সেবা খাতের ভূমিকাও কম নয়। শিল্পের মতো ততটা না হলেও এ দুটি খাতের প্রবৃদ্ধিও কিন্তু ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। কর্মসংস্থানের বেলায় এ দুটি খাতের অবদান সর্বোচ্চ। ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির এই ধারা টেকসই করতে হলে সুশাসন ও সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই।

উন্নয়ন অভিযাত্রায় এই চোখ ধাঁধানো সাফল্য সত্ত্বেও এ কথা মনে রাখা চাই যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রথম সারির একটি দেশ। আবহাওয়ার রকমফেরের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, খরা, শীত, গ্রীষ্ম ও ঝড়-বৃষ্টির মেজাজমর্জি বোঝাই দায়। তা ছাড়া উপকূলে উষ্ণ সমুদ্রতট স্ফীত হয়ে নোনা পানির প্রবেশ, খেয়ালি নদীর তীর ভাঙন ও দ্রুত পরিবর্তনশীল চর জেগে ওঠা, হাওরে হঠাৎ বন্যার কারণে লাখ লাখ মানুষের জীবন চলা নিরন্তর দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে। এসবের কারণে এসব অঞ্চলে বসবাসকারী পুরুষ ও নারীর পক্ষে উৎপাদনশীল সম্পদের ওপর অধিকার রাখাই মুশকিল হয়ে উঠছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আর্থিক ও ব্যাবসায়িক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি না করার কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণ উৎপাদনশীল কর্মে যুক্ত হতে পারছে না।

 আর এ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার স্থানীয় আর্থ-সামাজিক কাঠামোর ওপর। এসব অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি সেভাবে গতিময় করা যাচ্ছে না বলে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য নিরসন বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে যাচ্ছে। এদের বিরাট অংশ বাধ্য হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে আক্রান্ত অঞ্চল থেকে মাইগ্রেট করে শহরাভিমুখী হচ্ছে। ফলে অপরিকল্পিত নগরায়ণে তারাও বাড়তি উপাদান যোগ করছে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির গতির মুখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার এসব মানুষের তৈরি অনাকাঙ্ক্ষিত নগরায়ণ।

এই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সাতের আলোকে নানামুখী নীতি-কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে এ লক্ষ্য পূরণে ব্যক্তি খাতের ভূমিকাই যে প্রধান সে কথা জাতিসংঘও স্বীকার করেছে। এসডিজির জন্য যে বিপুল বিনিয়োগের দরকার তার ৭৭ শতাংশই ব্যক্তি খাত থেকে আসবে বলে জাতিসংঘ আশা করছে। আর সে কারণেই আমাদের ব্যক্তি খাতকে প্রয়োজনীয় ব্যাবসায়িক নিয়ম-নীতি সহজ করে উৎসাহী করা এতটা জরুরি। একই সঙ্গে এ খাতকে সবুজ বিনিয়োগে উৎসাহী করারও প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে, সবুজ জ্বালানি উৎপাদন ও বিতরণে ব্যক্তি খাতকে উপযুক্ত অর্থায়নসহ নানা রকম প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহী করা গেলে একদিকে আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ন্ত থাকবে এবং একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

 এই সার্বিক পরিপ্রেক্ষিত মনে রেখেই সম্প্রতি আমি গাইবান্ধার সাদুল্যাহপুর উপজেলায় গিয়েছিলাম একটি প্রতিষ্ঠানের ‘রিনিউয়েবল এনার্জি’র কিছু তৃণমূল সবুজ কর্মসূচি দেখার জন্য। একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হয়েও তারা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনীমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে কী করে সবুজ উন্নয়নে সামাজিক দায়বোধের পরিচয় দিচ্ছে, তা-ই অবলোকন করতে গিয়েছিলাম। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সোজা চলে গেলাম সাদুল্যাহপুরে ‘ত্রি-ই প্ল্যাটফর্ম’ কর্মসূচির আওতায় একটি উদ্যোক্তাকেন্দ্রে। সফরসঙ্গী ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের কাজী ফারুক, শায়লা আলম ও মিনহাজ এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের ওয়ালিউল ইসলাম।

 এই কেন্দ্রে একজন তরুণ উদ্যোক্তা ফেরদৌস আলম সবুজ পণ্যগুলো (সোলার হোম পদ্ধতি, সোলার বাতি, এলইডি বাল্ব, সূর্য চুলা, চার্জার, পানি তোলার পাম্প ইত্যাদি) মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে বাজারজাত করছেন। নিজে ২০ শতাংশ পুঁজি মোবাইল ওয়ালেটে ভরলেই প্রকল্পের পক্ষ থেকে বাকি ৮০ শতাংশ চলতি মূলধন ওই ওয়ালেটে পাঠানো হয়। এভাবেই এ প্রকল্প শুধু সবুজ পণ্য বিক্রি করতে সাহায্য করে তা-ই নয়, পরিবেশে কার্বণ নিঃসরণের পরিমাণও কমিয়ে ফেলছে। সে কারণেই এ উদ্যোগকে সবুজ উদ্যোগ বলা যায়। এ প্রকল্প এরই মধ্যে ১১০ জন উদ্যোক্তা তৈরি করেছে। তাঁদের প্রত্যেককে ডিজিটাল মূলধন দিয়েছে এ প্রকল্প। সব মিলিয়ে প্রায় কোটিখানেক টাকা এরই মধ্যে বিনিয়োগ করেছে এ প্রকল্প। উদ্যোক্তারা এরই মধ্যে ১৫ লাখ ডলার মূল্যমানের সবুজ পণ্য বিক্রি করেছেন। এভাবেই তাঁরা ‘উদ্যোগ, ক্ষমতায়ন ও জ্বালানি’র সম্মিলন ঘটিয়ে এক নয়া ব্যাবসায়িক মডেল দাঁড় করতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্যোক্তাকেন্দ্রেই রয়েছে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সুবিধা। তরুণ উদ্যোক্তা এই এজেন্ট ব্যাংকিংও পরিচালনা করেন।

 তাঁকে সহযোগিতা করেন কয়েকজন সহকারী। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী। তাঁরা এই মডেলের আওতায় স্থানীয় গ্রামীণ জনপদের টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী। স্মার্ট গ্রাম উন্নয়নের অংশ হিসেবে তাঁরা গ্রামীণ নারীদের একটি সমিতিতে সংগঠিত করছেন। এই নারীরা এজেন্ট ব্যাংকের সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। এমন একটি গ্রামের নাম জামুডাঙ্গা। এই গ্রামের সমিতিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিসেস মিনারা। তাঁর সমিতিতে ৩৬ জন সদস্য রয়েছে। তারা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়মিত সঞ্চয় করে, সাদুল্যাহপুরের এজেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে হিসাব পরিচালনা করে, কেনা পণ্যের কিস্তি প্রদান করে। মিনারার বাড়িতে একটি প্রদর্শনীমূলক পানির পাম্প (সোলার শক্তিতে চলে) বসানো হয়েছে। নলকূপের সঙ্গে লাগানো এই পাম্প দিয়ে উঁচুতে রাখা ট্যাংকে পানি তোলা হয়। সেই পানি তিনটি ফিল্টার পেরিয়ে সুপেয় পানিতে পরিণত হয়। গ্রামবাসী বিনা মূল্যে এই পানি ব্যবহার করছে। তবে একপর্যায়ে হয়তো এর জন্য কিস্তিতে মূল্যও পরিশোধ করতে হবে। মিনারার বাড়িতে সোলার বাতি জ্বলছে। সূর্য চুলায় মিনারা রান্না করছেন। ওই চুলার জন্য পেলেট স্থানীয় উদ্যোক্তাই সরবরাহ করছেন। মোবাইল ফোন চার্জ করছেন।

 অন্যান্য ঘরেও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য সোলার লণ্ঠন ব্যবহৃত হচ্ছে। গরমে গ্রামবাসী ফ্যান ব্যবহার করছে। সব মিলিয়ে গ্রামের জীবনযাপনে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তার ব্যবসারও প্রসার ঘটছে। এমন সামাজিক দায়বোধসম্পন্ন ব্যবসায় অংশগ্রহণ করতে পেরে ভোক্তা গ্রামবাসীও সন্তুষ্ট। ওই গ্রাম থেকে একটু দূরেই একটি বাজারে (এনায়েতপুর বাজার) গিয়ে দেখলাম দোকানদাররা এলইডি বাল্ব দিয়ে সোলার শক্তির ব্যবহার করছে। বাজারেরই মসজিদে কয়েকটি সোলার প্যানেল বসিয়ে পুরো বাজারে ব্যাবসায়িক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন উদ্যোক্তা। যখনই স্বাভাবিক বিদ্যুৎ চলে যায় তখনই সোলার বিদ্যুৎ জ্বলে ওঠে। দিনে পাঁচ টাকা খরচ করেই দোকানিরা তাদের ব্যবসা অক্ষুণ্ন রাখছে। আর বাণিজ্যিকভাবে সোলার বিদ্যুৎ বিক্রি করার সুবাদে উদ্যোক্তার পক্ষে একটি সংমিশ্রণমূলক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। বাজার ও গ্রামে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তিনি স্থিতিশীল ব্যবসা করতে পারছেন। এভাবেই তরুণ উদ্যোক্তাদের সবুজ ব্যবসার সঙ্গে জড়াতে সক্ষম হয়েছে বাণিজ্যিক এই প্রতিষ্ঠান। একেবারে গ্রামপর্যায়ে পণ্য বিক্রি করার লক্ষ্যে তারা এই উদ্ভাবনীমূলক ব্যবসা পদ্ধতি চালু করেছে।

 এর ফলে কর্মীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে মনিটর করা যাচ্ছে। ভোক্তাদের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যাবসায়িক লেনদেন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কর্মীদের ধীরে ধীরে সবুজ উদ্যোক্তায় রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। এ প্রকল্প সোলার ও স্বল্প কার্বন নিঃসরণকারী পণ্য বিক্রি ছাড়াও ডিজিটাল ওয়ালেটে আর্থিক লেনদেন করে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এক নয়া দিগন্তের উন্মোচন করছে। গ্রামীণ মানুষকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা প্রদানের এ উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অভিযানে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তরুণ সবুজ উদ্যোক্তা তৈরি করে, সমাজের ভেতরে সাংগঠনিক সহমর্মিতার বিকাশ ঘটিয়ে কার্বনমুক্ত জ্বালানি সরবরাহ করে এক নয়া ধাঁচের সামাজিক ব্যবসার প্রসারে এ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ৮০ হাজার গ্রামে ৫০ লাখ খানার ভাগ্যোন্নয়ন করা। আর তা করা সম্ভবও। বাংলাদেশে সবুজ ব্যবসার সম্ভাবনা প্রচুর।

 সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করাকে সর্বজনীন করতে পারলে এবং সেই মতো ওই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের জন্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে পারলে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিই সবুজ রূপ ধারণ করবে। এর পাশাপাশি নেট মিটারিং চালু করতে পারলে নগরেও ‘রুফটপ’ জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যাবে। এক হিসাবে জানা যায় যে দেড় কোটি সোলার হোম সিস্টেম ও সংশ্লিষ্ট উঈ বিদ্যুৎ পণ্য প্রচলন, দুই হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও তা গ্রিডে সরবরাহ, ১০ লাখ বিদ্যুত্চালিত পরিবহন, ২৫ হাজার চার্জিং স্টেশন, ১০ লাখ সোলার সেচ পাম্প ও তিন হাজার শিল্পে সোলার রুফটপ সল্যুশন চালু করা সম্ভব। এই বিপুল পরিমাণের সবুজ বিদ্যুত্চালিত ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে উৎসাহী ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক ও রেগুলেটরি প্রণোদনা দেওয়ার মতো নীতি সাহস দেখানোর সময় যে বয়ে যাচ্ছে।

এ খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, তাদের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা, ব্যবসা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের জোগান দেওয়া, উপযুক্ত প্রচার ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করে সবুজ অর্থনীতির ব্যাপক প্রসার করা খুবই সম্ভব। এ জন্য ব্যক্তি খাতের উন্নয়নে নীতিনির্ধারণী সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নের স্বার্থে বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চলমান আর্থিক অনিয়ম ও অস্থিতিশীলতার দোহাই দিয়ে যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবুজ অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে কেউ ব্যাহত না করতে পারে সেদিকে সর্বোচ্চ নীতি সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।

আমার বেশ ভালো লেগেছে একটি ব্যক্তি খাতের সবুজ উদ্যোগের কাজকর্ম দেখে। একেবারে তৃণমূলে তারা সবুজ কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটিয়ে একদিকে নয়া উদ্যোক্তা তৈরি করছে; অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য কার্বনমুক্ত জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারে আশাজাগানিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করছে। প্রত্যেক উদ্যোক্তা তাঁর ব্যবসা থেকে ১০-১২ শতাংশের মতো মুনাফা অর্জন করছেন। তা ছাড়া সামাজিক মানমর্যাদাও লাভ করেন। আমি যে প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি দেখতে গিয়েছিলাম তারা আশা করছে, আগামী দু-তিন বছরে তারা ৪৫০টি উপজেলাতেই এই সবুজ জ্বালানিনির্ভর ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সক্ষম হবে। একপর্যায়ে তারা কোর-ব্যাংকিং সমৃদ্ধ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সুযোগ নিয়ে ই-কমার্সও চালু করতে আগ্রহী। তখন শুধু বাংলাদেশের স্থানীয় বাণিজ্য নয়, তারা সারা বিশ্বেই বাণিজ্য করতে পারবে। মূলধারার ব্যাংকিং খাত এ ধারার সবুজ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সমর্থন দিয়ে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কার্পণ্য করবে না—সেই প্রত্যাশাই করছি। সরকারের বাজেটেও সবুজ উদ্যোক্তাদের বাড়তি আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

লেখক :ড. আতিউর রহমান, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
[email protected]

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK