রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
Thursday, 08 Mar, 2018 05:09:24 pm
No icon No icon No icon

সময় এখন নারীর


সময় এখন নারীর


জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (জেড সেলিম), বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা :আজ ৮ মার্চ; আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ‘সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তাঁরা বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরে কর্ম জীবনধারা’ শিরোনামে আজ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে উদ্যাপিত হচ্ছে দিবসটি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার রক্ষা, নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর প্রতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠাই এবারের নারী দিবসের মূল লক্ষ্য।দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে রোড মডেল হিসেবে স্বীকৃত।’ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

নারীর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধ করাসহ একই কাজে নিয়োজিত নারীদের পুরুষের সমান বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া ও রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধি বাড়ানোর দাবিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ দপ্তরের সামনে কর্মসূচি পালন হবে আজ। নির্যাতিত নারীরা ‘মি টু’ লেখা ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে সমবেত হবেন সেখানে। এ ছাড়া বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশই হলো গ্রাম ও পল্লী এলাকায় বসবাস করা নারী, যারা বিভিন্ন উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। গ্রামীণ নারীর অধিকার রক্ষা ও তাদের কার্যক্রমও তুলে ধরা হবে। দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসও বাণী দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারিভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। রাত ১২ টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের সূচনা হয়। ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।এতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো রাজধানীসহ সারাদেশে সমাবেশ, শোভাযাত্রা, সেমিনার, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের অডিটোরিয়ামে বিকেলে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। 

নারী দিবস উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা।সেই মিছিলে চলে সরকারের লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তঃনারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন।এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ সাল থেকে নারীর সমঅধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা।১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে শুরু করে।বাংলাদেশেও ১৯৭১ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়।দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহবান জানায় জাতিসংঘ।এরপর থেকে পৃথিবীজুড়েই পালিত হচ্ছে দিবসটি।
ইতিহাসের পাতায় নারী দিবসের উল্লেখ্যযোগ্য দিন-- 
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন,১৮৬০ সালের ৮ মার্চ নারী শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নিজস্ব ইউনিয়ন গঠনে ব্যর্থ হয়,১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনের নেত্রী ক্লারা জেটকিন পুরুষের পাশাপাশি নারীর সম-অধিকারের দাবিটি আরও জোরালো করেন,১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলন,১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়
১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে ১৭টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন ,১৯১১ সাল থেকে ৮ মার্চ দিনটিকে `নারীর সম-অধিকার দিবস` হিসেবে পালিত হয় ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে এই সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ,১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা করা হয়। এই দিনে সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, অষ্ট্রিয়া ও জার্মানিতে লক্ষাধিক নারী মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ দিনটি উদযাপন করেন,১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে,১৯৪৫ সালে সানফ্রান্সিসকোতে রাষ্ট্রসংঘ স্বাক্ষর করে `জেন্ডার ইকুয়ালিটি` চুক্তিতে নারী অধিকারের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় রেখে ,১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যায়,১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ৮ মার্চ নারী দিবস পালনের জন্য উত্থাপিত বিল অনুমোদন পায়,১৯৮৪ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রসংঘ। ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ এই সিদ্ধান্ত নেয়,২০০৯-এ বিশ্বের ২৯টি দেশে সরকারি ছুটি সহ প্রায় ৬০টি দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হয়েছে,২০১০ সালে বিশ্বজুড়ে নারী দিবস পালন করা হয়। অভূতপূর্ব সাড়া মেলে।
বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারী ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। তন্মধ্যে - আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া,আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি-বিসাউ,ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান,কিরগিজিস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া,মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান,উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম[ এবং জাম্বিয়া।এছাড়া, চীন,মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালেশুধুমাত্র নারীরাই সরকারী ছুটির দিনভোগ করেন।নারী আজ স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল। তাঁদের এই স্বাধীনতা আর অজর্নের আত্মবিশ্বাস প্রতিদিন পথে ঘাটে নির্মমভাবে হত্যা করে কিছু নোংরা কুৎসিত হাত। নিজের যোগ্যতায় সন্মানের সাথে কাজ করার অধিকারও যেনো এদেশে তাঁদের নেই!! পথ চলতে, কর্মক্ষেত্রে, পাবলিক পরিবহনে তাঁরা অপমান আর লান্ছনার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, স্কুল শিক্ষিকা, ছাত্রী, গার্মেন্টস কর্মী, গৃহবধু- দিন মজুর... রেহাই পাচ্ছেননা কেউ। এই অন্যায়, এই অনাচারের কোন বিচার নেই, নেই কোন প্রতিকার!!! নারী দিবসে মানবাধিকার কর্মী বা নারী অধিকার সংস্থার হর্তা কর্তারা কি এগিয়ে আসবেন এই অসহনীয় সমস্যার সমাধানে?শুধু কর্মক্ষেত্রেই তাঁদের এই দুর্ভোগের শেষ নয়, দুটো অতিরক্তি অর্থের জন্য, কখনও কারখানার অস্তিত্বের প্রয়োজনে অভারটাইম শেষে গভীর রাতে ঘরে ফেরার পথে রক্তাক্ত হন একদল হায়নার কালো থাবায়, এই হায়নারা কখনও বাসের হেল্পার কন্ডাক্টারের রূপে আর্বিভূত হয়, আবার কখনওবা আইনশৃংখলা রক্ষাকারীর বেশে। তাঁদের যেনো সম্ভ্রম থাকতে নেই, শ্রমজীবি হলেও তাঁরা যেনো ভোগ্যপণ্য মাত্র!! আজ নারী দিবস, কি দেবে এই শ্রমজীবি হতভাগ্য নারীদের! অথচ, বিশ্ব নারী দিবসটির ব্যাপকতা এই শিল্পের শ্রমজীবি নারীদের হাত ধরে!

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK