বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
Thursday, 08 Mar, 2018 12:12:23 am
No icon No icon No icon

বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার ঐতিহাসিক ৭মার্চ এর স্মৃতি চারন


বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার ঐতিহাসিক ৭মার্চ এর স্মৃতি চারন


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: এই দিন অপরাহ্ণে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষন দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই বক্তৃতা যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালীর প্রেরনা ও গৌরবের উৎস্য হয়ে থাকবে।
এই বক্তৃতায় উনি আমাদের স্বাধীনতার লক্ষে প্রতিরোধ সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই দিয়ে ঘরে ঘরে প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীর আশা আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পরিপূর্ন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন।

সামরিক শাসন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরত নেয়া, গুলী করে যাদের হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করা,......দাবী করেছিলেন।

জয় বাংলা দিয়ে বক্তৃতা শেষ করেছিলেন।

বাস্তবে ১ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পর দেশের পরিস্থিতি পুরো পালটে গিয়েছিল। আমার ইঙ্গিনিয়ারিং ফাইনাল পরীক্ষা মার্চ মাসের আগেই শেষ হয়েছে। পুরো সময় দলীয় কাজ করার সুযোগ ছিল। আমি তখন ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, এবং নিউক্লিয়াস এর কর্মকান্ডের সংগে যুক্ত।

আন্দোলনে ১ মার্চ থেকে ৭ তারিখ ছিল এক বিশেষ পর্ব। জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত হয়ে যাওয়ার ঘোষণা শোনার পর আমরা বুয়েট থেকে ছাত্র লীগ কর্মীরা শহীদ মিনারের দিকে যাই, ওখান থেকে আবার পল্টনে। ততক্ষনে পল্টন মানুষে সয়লাব। আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির সভা ছিল পূর্বানি হোটেলে, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেখানে। ৭ তারিখে রেস্কর্সে সভা করার সিদ্ধান্ত জানানো হল।
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ( স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ঐদিন) ২ তারিখ বটতলায় সভা করার ঘোষণা দেয়। সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুয়েট থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে গেলাম বটতলায় বেলা দশটার দিকে। অভুতপূর্ব বিশাল ছাত্র জনতার সভা। সংগ্রাম পরিষদ পাকিস্তানের সংগে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষনা দিলো। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে আসম রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দিলেন, যা ছিল এক সময় জয় বাংলা বাহিনীর পতাকা। ৭০ এর ৭ জুন জয় বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজে এই পতাকা ব্যবহার করা হয়েছিলো। পতাকার মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র যুক্ত ছিল। ২৩ তারিখে পাকিস্তানে প্রজাতন্ত্র দিবসে সারা দেশে ঐ পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২২ মার্চ দেশের অনেক দৈনিক পত্রিকাতে এই পতাকার নক্সা ছাপা হয়েছিল।পাকিস্তানি শাসকরা রোজ মিছিলের উপর গোলাগুলি করে মানুষ হত্যা করছিল। ৩ তারিখে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভা ডাকা হয় পল্টনে, বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন নিউক্লিয়াসের নেতারা। তার উপস্থিতিতে এই সভায় স্বাধীনতার ইস্তাহার পাঠ করেন শাজাহান সিরাজ। সারা দেশে স্লোগান উঠে,- বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর-বাংলাদেশ স্বাধীন কর, তোমার দেশ আমার দেশ- বাংলাদেশ বাংলাদেশ,......।। ২-৬ তারিখ পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আধা বেলা হরতাল চলছিল। রাতে সরকারের কারফিউ ছল। দিনে হরতালের পিকেটিং, রাতে কারফ্যু ভাঙ্গা, এবং ৭ তারিখে বঙ্গবন্ধুর জনসভা সফল করা ,- এসব ছিল রুটিন কাজ ৭ মার্চ পর্যন্ত। নিউক্লিয়াসের নেতারা আমাদের জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেবেন, সে জন্য আমরা বেশ উত্তেজিত ছিলাম।
সেদিন পর্দার অন্তরাল থেকে নিউক্লিয়াসের সাহসী তৎপরতায় এবং বঙ্গবন্ধুর দুরদর্শী নেতৃত্বে আওয়ামী রক্ষণশীলরা পরাজিত হয়েছিলো এবং বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের পথে অগ্রসর হয়েছিলো, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় বাংলাদেশ চলতে শুরু করেছিল।

এই সময়ের সংগ্রামে জানা অজানা সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

জয় বাংলা। জয় বাংলা দেশ

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK