মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮
Sunday, 14 Jan, 2018 03:22:49 pm
No icon No icon No icon

মাদকের বিরুদ্ধে তালপাতার সিপাই


মাদকের বিরুদ্ধে তালপাতার সিপাই


আলম রায়হান: জাতিসংঘের কনভেনশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাধ্যবাধকতার আওতায় ১৯৮৯ সালে অধ্যাদেশ অতঃপর ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ব্রিটিশ আমল থেকে সুদীর্ঘ ধারাবাহিক কার্যক্রম ধারণ করে এ অধিদপ্তরের গোঁজামিলের পথচলায় ২০০২ সাল পর্যন্ত এক রকম ঠিলেতালে চলেছে। এর পর হঠাৎ করে ছন্দপতন হয়। জনবল সংকট, যানবাহনের অভাব, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাহীন, নেতৃত্বের নানানমুখিতা ও দোদুল্যমানতাÑ সব মিলিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর হয়ে গেছে অনেকটা তালপাতার সিপাই। অথচ এ অধিদপ্তরকে দাঁড়াতে হচ্ছে দেশি-বিদেশি মাফিয়া চক্রের বিলিয়ন ডলার স্বার্থের বিরুদ্ধে।
ধনবান পরিবারের সন্তান তমাল এবং আরও কয়েকজনসহ ইয়াবা আটকের প্রথম ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০০২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশেষ এক উচ্চতায় পৌঁছায়। কিন্তু এর পরই রহস্যজনকভাবে এ অধিদপ্তরের দুর্গতির ধারা বুলেট গতি পায়। এর বিপরীতে মাদক ব্যবসায়ী চক্র হয়ে ওঠে অতি ক্ষমতাধর। এরা এতই ক্ষমতাধর যা অনেকেরই কল্পনার অতীত। এমনো অভিযোগ আছে, ইয়াবা আটকের ঘটনায় মাদক চক্র ক্ষিপ্ত হয়ে ২০০৩ সালের ১০ মার্চ মহাপরিচালকের পদ থেকে মোহাম্মদ সালামকে অপসারণ করেছিল। মাদক ব্যবসায়ী চক্র এতটাই ক্ষমতাধর! সরকার পরিবর্তন হলেও মাদক চক্রের ক্ষমতা খুব একটা হ্রাস পেয়েছেÑ এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। এ ধারায় সদ্য বিদায়ী বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির তিন তারিখ, এক মাসের ব্যবধানে দুই কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অবস্থা হয়েছে অনেকটা গুটিয়ে যাওয়া শামুকের মতো। এ ঘটনার আগে থেকেই এ সংস্থাটি ছিল যেন দন্তহীন ব্যাঘ্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভাষায়, ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজের বহর কিন্তু অনেক লম্বা; অনেকটা বিয়ের বাজারের তালিকার মতো। দেশের মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমন, আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ, আইনপ্রয়োগ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত মাদক সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল বা রাসায়নিক আমদানির জন্য লাইসেন্স প্রদানÑ সবই রাষ্ট্রীয় সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতাধীন। শুধু তাই নয়, অধিদপ্তরের কাজের আওতা সম্প্রসারিত আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত। তা হচ্ছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ওয়ার্কিং রিলেশন স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্র্জাতিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করা। এমনকি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজ জাতিসংঘ পর্যন্ত সম্প্রসারিত। কিন্তু কাগজপত্রে কাজের এ বহরের কোনো কাজই বাস্তবে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য মাত্রায় করতে পারছে না সরকারি এ অধিদপ্তরটি।
অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী চক্র ব্যতিরেকে সব মহলই মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধের বিষয়ে উচ্চকিত কণ্ঠ। এ ছাড়া অনেক সাফল্যের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে বারবার তার সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে আসছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। কিন্তু কোনো কিছুতেই তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে যা হওয়ার তাই হচ্ছে; অর্থাৎ চরম সর্বনাশ হচ্ছে দেশের। এরই মধ্যে জাতির প্রাণশক্তি অনেকটাই শুষে নিয়েছে মাদকের আগ্রাসন; মরুভূমির বালিতে পানি শোষার মতো! অনেকেই মনে করেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশের চলমান দুর্গতির প্রধান একটি কারণ হচ্ছে, বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে চরম দৈন্য। যাকে বলা যায়, গোড়ায় গলদ। তা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারতেন, মাদকের আগ্রাসনের শিকড় অতি প্রাচীন এবং খুবই গভীরে প্রথিত; যা সহজে উপড়ে ফেলার নয়।
ইতিহাস বলে, এ অঞ্চলে আফিম চাষ ও আফিম ব্যবসা চালু করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে আফিম উৎপাদন করে চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। সে সময় স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্যও আফিমের দোকান চালু করা হয়। কোম্পানির এ উদ্যোগের সাফল্য ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয় ১৮৫৭ সালে। এর পর আফিম আইন প্রবর্তন এবং ১৮৭৮ সালে আফিম আইন সংশোধন করা হয়। এ আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয় আফিম ডিপার্টমেন্ট। কোম্পানির মাদক ব্যবসা থেকে শুরু হয় ব্রিটিশ সরকারের রাজস্ব আদায়। পরে এর আওতায় আনা হয় গাঁজা ও মদ। ১৯০৯ সালে বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্ট ও বেঙ্গল এক্সাইজ ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। আফিম, মদ ও গাঁজা ছাড়াও আফিম ও কোকেন দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মাদকের প্রসার ঘটানো হয় নানান কৌশলে। এ ব্যাপারে ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার বিস্তারিত একটি আইন প্রণয়ন করে। এসবই করা হয় মাদকের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে। ১৯৩২ সালে আফিম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি আইন করা হয়। এ আইনের ফলে আফিমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত না হয়ে আরও সম্প্রসারিত হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলমানদের মদপান নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৫০ সালের এ আইন সংশোধন হয়। কিন্তু এ আইন দ্বারা মুসলমানদের মদপান থেকে বিরত রাখা গেছে বলে কেউ মনে করে না। ষাটের দশকে বেঙ্গল এক্সাইজ ডিপার্টমেন্টকে এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন ডিপার্টমেন্ট হিসেবে নামকরণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভুদ্যয়ের পর ১৯৭৬ সালে এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন ডিপার্টমেন্টকে পুনরায় পুনর্বিন্যাস করে নারকটিকস অ্যান্ড লিকার পরিদপ্তর নামে ন্যস্ত করা হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন। ১৯৮২ সালে কোডিন মিশ্রিত কফ সিরাপ এবং অ্যালকোহলযুক্ত কতিপয় টনিক, ট্যাবলেট, সিরাপ উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৮৪ সালে আফিম ও মৃতসঞ্জীবনী সুরা নিষিদ্ধকরণ এবং ১৯৮৭ সালে গাঁজার চাষ বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালে তুলে দেওয়া হয় সব গাঁজার দোকান। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর অন্যান্য মাদকসহ মদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর সরকার। কিন্তু ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত পটপরিবর্তনের পর সবকিছু উল্টোপথে চলার মতো মাদক প্রশ্নের রাষ্ট্রের পলিসিও পাল্টে যায়। যে ধারা থেকে মাদক প্রশ্নে আর কোনো সরকারই মুক্ত হতে পারেনি।
আশির দশকে সারা বিশ্বে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বাংলাদেশে এ সমস্যার মোকাবিলায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধ, মাদকের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে গণসচেতনতার বিকাশ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, অতঃপর ১৯৯০ সালের ২ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ প্রণয়ন করা হয়। নারকটিকস অ্যান্ড লিকারের স্থলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এটি রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। এর পর ১৯৯১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ অধিদপ্তরকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হয়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষে আফিমের মাধ্যমে মাদকের যে আনুষ্ঠানিক অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল তা যুগের পরিক্রমায় কেবলই বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশরাজের নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের হাতে। যে চক্র খুবই ক্ষমতাধর। এ চক্রের কারসাজিতে বিভিন্ন দেশে একের পর এক অধিকতর মারাত্মক মাদক বাজার দখল করছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এখন চলছে ইয়াবার জোয়ার। আবার পিছিয়ে নেই মদ-গাঁজা-ফেনসিডিলেরও আগ্রাসন। সব মিলিয়ে দেশ এক রকম মাদকে ভাসছে। আর মাদকে যখন দেশ ভাসে তখন জাতি হিসেবে আমরা যে টাইটানিক জাহাজের মতো ডুবে যাচ্ছি, তা কি কারো চোখে বা কানে উত্তপ্ত লোহার রড ঢুকিয়ে বোঝানোর প্রয়োজন আছে!
আজকে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেটি আগেভাগে বিবেচনায় নিয়েই ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রমেই কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পেতে ‘ফুসফাস’ করার ক্ষমতাও প্রায় হারিয়ে ফেলেছে এ সংস্থাটি। এ বিষয়টি দ্রুততর করে দিয়েছে গত বছর ও চলতি বছর মিলিয়ে এ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক কামনাশীষ সরকারকে গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয় সদ্যবিদায়ী বছরের ২৫ নভেম্বর। এ সময় তার অফিস থেকে ৬৮ কেজি গাঁজা ও ২৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ আছে। এ ঘটনায় মাদক আইনে কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে করা হয়েছে তুঘলকি এ কা-। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাকে বিভাগীয় উদ্যোগে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্বাচীনতার স্বাক্ষর রয়েছে। প্রশাসনে অভিজ্ঞ মহলের মতে, অভিযুক্ত পরিদর্শক কামনাশীষ সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল। এমনকি প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি পাওয়া পরিদর্শক কামনাশীষ সরকারকে চাকরি থেকে বিদায় করারও উদ্যোগ নেওয়া যেত। তাদের মতে, মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ গভীরভাবে চিন্তা না করেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে তিনি না চাইলেও অধিদপ্তর এক রকম নাজুক অবস্থায় পড়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব মাদক পাচারের জন্য খুবই সংবেদনশীল একটি এলাকা। অথচ এ ভৈরবকে অর্গানোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে এ এলাকার মাদককেন্দ্রিক অনৈতিক সুবিধা চলে যেত জেলায় সহকারী পরিচালকের কাছে; সেখান থেকে আরও ওপরে। ফলে ভৈরব সার্কেলে ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়ায় কিশোরগঞ্জের জেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে এক রকম স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আর এ দ্বন্দ্বের ফাঁদে পা দিয়েছে অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রশ্নবিদ্ধ ভাবমূর্তি অধিকতর ক্ষুণœ হয়েছে। পাশাপাশি অধিকতর বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী চক্র। যার এক রকম স্টেজ রিহার্সাল হয়েছে এক মাসের মাথায় যশোরে ৩ জানুয়ারি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মো. নাজমুল কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক। তার অফিসের ড্রয়ার থেকে ঘুষের দুই লাখ টাকা ছাড়াও আরও কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, বাংলা মদের এক কারবারির লাইসেন্স নবায়ন বাবদ ডিডি মো. নাজমুল কবির তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দুই লাখে রফা হয়। ৩ জানুয়ারি বিকাল তিনটার দিকে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক সেই দুই লাখ টাকাসহ মাদকদ্রব্যের উপপরিচালককে গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে নেতৃত্ব প্রদানকারী দুদক ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, যশোর শহরের বাসিন্দা মহব্বত আলী টুটুল নামে এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বাংলা মদের ব্যবসা করেন। কিন্তু তার লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছিল না; উপপরিচালক মো. নাজমুল কবির ওই ব্যবসায়ীর লাইসেন্স প্রায় তিন মাস আগে নিজের হেফাজতে নেন। তিনি লাইসেন্স নবায়ন বাবদ তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের গ্রেপ্তারকৃত উপপরিচালক মো. নাজমুল কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্য-মিথ্যা নির্ভর করছে অধিকতর তদন্ত ও বিচারের ওপর। দীর্ঘ এ প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত সত্য জানার জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হবে। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের ঘটনা হতে পারে, আবার হতে পারে প্রকৃত ঘটনা। আর কোনটি সত্য তা নির্ধারিত হবে আদালতে। কিন্তু এর আগেই সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়োজিত তালপাতার সিপাইদের সম্পর্কে একটি ইমেজ নির্ধারিত হয়ে গেছে, যা মোটেই সুখকর নয়। আর এ ইমেজের ওপর দাঁড়িয়ে মাদক ব্যবসায়ী চক্র অধিকতর বেপরোয়া হবে; এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রইল না।
অনেকেই মনে করেন, যা হওয়ার হয়েছে; এখন বাংলা মদের ব্যবসার অন্তরালে মহব্বত আলী টুটুল আসলে কী করে সে বিষয়ে উচ্চমহল থেকে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা দরকার, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে মহব্বত আলী টুটুলের যোগাযোগ এবং ‘মহব্বতের’ বিষয়টিও। তা হলে হয়তো অনেক ভয়ানক কাহিনি বেরিয়ে আসতে পারে। তা না হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্রয়লার মুরগির মতো বসে থাকা ছাড়া বিশেষ কিছু করার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে থাকার আশঙ্কাই বেশি। আর এ সুযোগ ব্যবহার করে দেশে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের রমরমা বাজার আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। সবাই জানে, মাদক ব্যবসায়ীরা যত আগাবে ততই রসাতলে যাবে দেশ; যে খাদের কিনারে জাতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছি আমরা!
লেখক: আলম রায়হান, সাংবাদিক ও কলাম লেখক

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK