শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮
Sunday, 07 Jan, 2018 12:20:54 pm
No icon No icon No icon

হাত বাড়াও শীতার্ত নিঃস্ব মানুষের দ্বারে


হাত বাড়াও শীতার্ত নিঃস্ব মানুষের দ্বারে


লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা): আজ ০৩-০১-১৮ (বুধবার), শীতকাল , সন্ধা প্রায় ৬ ঘটিকা, আমি অফিসে , কোন ভাবেই সামনে ০৫-০৩-১৮ (শুক্রবার) সময় বের করতে পারছি না, বাসায় মেহমান আসবে বৃহস্পতিবার রাতে বাজার করা ও শুক্রবার তাদের সাথে সঙ্গ তো আমাকে দিতেই হবে। শীতও বেশ বাড়ছে, টেলিভিশনের খবর ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ফেইসবুকের মাধ্যমে দেখতে পেলাম, ছিন্নমূল মানুষগুলো খুব দুর্ভোগের মধ্যে আছে- মনের ভিতর বেশ কষ্ট অনুভব করছি কিছুদিন ধরে। তাছাড়া গত ১৫-১২-১৭ তে আমি নিজে রাস্তার ধারে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট ও দূর্ভোগ সচক্ষে দেখেছি এবং বেশ কিছু শীতের কাপড় আমিও নিজ হাতে তাদের মাঝে বন্টন করেছি। ক্ষুধার কষ্ট পেয়ে পেয়ে নিথর দেহে অসহায় মানুষগুলো হয়ত ঘুমিয়ে যেতে পারে, কিন্তু ফুটপাতে, রাস্তায়, খোলা আকাশের নিচে সুয়ে থাকা মানুষ গুলো কি করে শীত বস্ত্র ছাড়া শীতের রাত পার করবে, একটা শীতের বস্ত্র, একটা কম্বল, একটা বালিশ, একটা কাথা থাকলে কিন্তু ওরা অনেকটা বেঁচে যেতে পারে। আমি কিন্তু সেই ছোট্ট বয়স থেকেই কেনো জানিনা গরীব মানুষগলোর পাশে থাকতে চেয়েছি, আমার অনেক জামা কাপড়ই কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে গরীব ছেলেমেয়েদের মাঝে বিলিয়ে দিতাম। আমার মনে আছে, আমি তখন ৫ম শ্রেনীতে পড়ি, আমাদের বাসায় ভিক্ষা করতে এক পঙ্গু মা আসে, তার সাথে আমার বয়সি একটা ছেলে খালি গাযে

দেহঘড়ি

ছিল,আমি তখন আমার একটা গেঞ্জি দিয়ে যেই ঘরে ঢুকতে যাচ্ছি, তখনি বাবার সামনে পড়ি, ভয়ে কলিজার পানি শুকিয়ে গিয়েছিল- যদিও বাবা কিছু বলেনি, বরং মাথায় হাত দিয়ে আদর করে দিয়েছিল। আসলে বাবাদের ভালবাসা, আমরা, মাদের ভালবাসার মত দেখি না, মা ই যেন সব, বাবার যে কত কষ্ট, ক্ষণে ক্ষণে কত যে ক্ষয়ে যাওয়া, তা বুঝতে চাই না। আসলে সবারই বাবা ও মাকে সমান ভাবে ভালবাসা উচিৎ, মাঝে মাঝে তাদের সন্তানের মত করে বুকে জড়িয়ে ধরা উচিৎ, মা কে আমরা যেভাবেই জড়িয়ে ধরি, বাবাও কিন্তু অমন টা চায়, কিসের যেন একটা দেয়াল বাবার সাথে অনেকের হয়ে যায়, এটা দুর করা উচিৎ। আমার বাবা আমার যখন জ্ঞান হয়েছে তখন বিদেশে চাকুরী করতেন, বছরে তিন মাস আমাদের সাথে ছুটি কাটাতেন, আমরা ভাই বোনেরা একটু দুরে দুরেই থাকতাম, একটু ভয়ও করত, কিন্তু অদ্ভুত একটা ব্যপার ছিল কোনদিন আমার বাবা আমাদের গায়ে হাত তুলেনি, একবার শুধু আমার মেজবোনকে একটা চড় মেরেছিল পাশের বাড়িতে ছায়ছন্দ দেখতে গিয়েছিল বলে। পরের দিন ই দেখি বাবা ন্যশনাল সাদাকালো টিভি নিয়ে বাসায় হাজির, সেই আনন্দ , সেই উচ্ছলতা, সেই ভালবাসা, কোথায় গেল- আজ সবার বাসায় বিশাল বিশাল এল ই ডি স্মার্ট টিভি, কিন্তু সেই শৈশব, সেই ভাললাগা , সেই ভালবাসা, কোথায় গেল, আহা! সকাল বেলার সেই নতুন কূড়ির বাচ্চাদের অনুষ্ঠান, শিশু শিল্পী ইশিতার কাজের মেয়ের অভিনয় দেখে কানতে কানতে শেষ, তারিনের অভিনয় তো বুকে দাগ কেঁটে আছে।

নিশিথও রাতের কাব্য

মার কথা কি ভুলা যায় , আহা মা, আহা স্বর্গীয় মা, কি আদরের ভালবাসা, একটারেও কম ভালবাসেনি, আমরা সাত ভাইবোন, ৫ বোন ২ ভাই সবাইকে কি বন্ধনে আগলে রেখেছিল। আমাদের বাসা ও গেট খুলতেই রাস্তা হওয়াতে,  কত হাজার গরীব মানুষের সাথে যে মায়ের ভাব দেখেছি, খুব কম দিনই আছে আমাদের সাথে দুই একজন গরীব বা ভিক্ষুক খেতে বসেনি, আমরা ভাই বোনেরা ও অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মায়ের জন্য আমার প্রতি বছরই দুই তিনটা করে সোয়েটার কিনতে হত, কেননা সে বার বারই কারো গায়ে গরম কাপড় না দেখলে তাকে গরম কাপড়টা দিয়ে দিত। বাবাকে দেখতাম গরীব কোন বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালার রিক্সাতে করে বাজার থেকে আসলেই, প্রথমে তাকে চেয়ারে বসাত, এরপর ফ্রিজ থেকে পানি দিয়ে লেবু সরবত খাইয়ে বিদায় করত, ভাল লাগত তাদের এই মহৎ কাজগুলো, এখন দেখছি আমার ভাইবোনগুলোও আমাদের বাবা মায়ের মতই গরীব দুঃখিদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। আজ আমার বাবা, মা, দুজনেই মারা গেছেন, কিন্তু হাজারো গরীব, দুঃখী মানুষ যখন তাদের কথা স্মরণ করেন,  দোয়া করেন, তখন আল্লাহর কাছে সত্যই খুব তৃপ্তি অনুভব করি, শিক্ষা এমন একটা বিষয়, আসলে এই শিক্ষাটা পরিবার থেকে আসতে হয়, মাঝে মাঝে রাস্তা ঘাটে দেখি মানুষ কত উশৃঙ্খল আচরন করে, সাধারন একটা কথা নিয়ে সেদিন এক ভদ্র লোক প্রাইভেট কার থেকে বের হয়ে রিক্সা আরোহী এক ছেলের নাক ফাটিয়ে, রক্ত বের করে ফেলল, ছেলেটি শুধু বলেছিল , এই প্রাইভেট কারগুলোর জন্যই রাস্তায় জ্যাম বাধে, স্থান গাউছিয়া মার্কেটের গলি। একটু ভালবাসা, একটু সহমর্মিতা, একটু মানবিকতা কি মানুষের মধ্যে থাকবে না। সবার মাঝেই আছে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, যাদের মাঝে কম আছে তাদেরকেও সুস্থ্য সুন্দরভাবে চিন্তা ও চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে, আমি অবশ্যই বিশ্বাস করি, যে লোকটি রিক্সা আরোহীকে আহত করেছিল নিশ্চয়ই তার রাতে ঘুম হয় নি, অনুশোচনায় আহত হয়েছেন, যেহেতু মানুষ, নিশ্চয়ই হয়েছেন। যাহোক যে কথা বলছিলাম, শীতে মানুষ কিন্তু খুব আহত, খুব কষ্ট হচ্ছে তাদের, তাদের পাশে আমাদের সবাইকে দাড়াতে হবে, বাঙালীতো সব পারে, এত বড় রোহিঙ্গা গোষ্ঠিকে অবারিত দ্বারে যারা ঠাই দিতে পারে, নিজেরা দু’বেলা খেয়ে একবেলার আহার যারা দিতে পারে, তারা কি আজ পারবে না ছিন্নমূল বসত-বাড়ি হীন

মায়ের ক্রন্দন

বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষগুলোকে সাহায্য করতে, কেন পারবে না, চাইলেই পারবে এবং এটা সবাইকেই করতে হবে, আমি করব আপনি করবেন আমরা সবাই করব। যার যার বাড়িতে অতিরিক্ত শীতবস্ত্র আছে, চলুন না আমরা অতিরিক্ত শীতবস্ত্রগুলো বিলিয়ে দিই, কমুক না মানুষের কষ্ট, ফুটুক না তাদের মুখে হাসি, এই হাসি কিন্তু আপনিও আপনার বুকের মাঝে অনুভব করতে পারবেন। আমার ভাললাগা, এখনও মনে আছে তখন আমি দশম শ্রেনীর ছাত্র, প্রাইভেট পড়ে দু’দিন ধরে রিক্সায় করে বাসায় ফিরি , মনের ভিতর কেমন খচখচ করতে থাকে – এত শীতে রাস্তার আইল্যান্ডের উপর একটি পাগলি শুয়ে আছে, সকারে দেখতাম ওর পা টা পাতলা কাপড়ের নিচ দিয়ে সাদা হয়ে বের হয়ে আসছে, খুব খারাপ লাগত আমার, ভয়ে ভয়ে আমি আমার কালো কম্বলটা দুইদিন ধরে ডান পাশের ধারালো দাঁত দিয়ে বেশ কিছূ জায়গায় কাটলাম, তৃতীয় দিন মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম, মা কম্বলটাতো ইদুরে কেঁটে ফেলছে, শীতে বাইরে একটা পাগলি খুব কষ্টে আছে, ওকে দিয়ে আসি – মা ঠিকই বুঝতে পেরেছে, মা আমাকে সেদিন জড়িয়ে ধরে অনেক চুমুদিয়ে  আদর করেছিল,আজ ভাবলে দু’চোখ দিয়ে কেন জানি অঝর ধারায় পানি চলে আসে। কেন যে মারা মরে যায়, বাঁচতে পারে না সারাজীবন। মা আমাকে অতি উৎসাহ দিয়ে বলেছিল যা বাবা দিয়ে আয় – আমি রাত ১১ টায় সেই প্রধান রাস্তায় যেয়ে পাগলির গায়ে কম্বলটা পরিয়ে দিয়ে এসেছিলাম, এরপর দেখলাম তার শান্তির ঘুম। এই শান্তি কেন প্রতিটা মানুষ পাবে না, এটা দেওয়া তো আমাদের দ্বায়িত্ব, শুধু বললেই হবে-এটাতো সরকারের দায়িত্ব, আমাদের নিয়েইতো সরকার, আমরা কেন আমাদের কাজটুকু করব না। প্রতি শীতেই আমি আমার গাড়িতে কম্বর ও সোয়েটার রাখি সামর্থ হবার পর থেকে, যেখানেই দেখি অসহায় মানুষ কষ্ট করছে, চেষ্টা করি তাদের সাহায্য করতে, গরমের দিনে কিছু মশারীও দেবার চেষ্টা করি। যাহোক ০৩-০১-১৮ ই তারিখে আমার অতি প্রিয় একটি গ্রুপের মাধ্যমে (ছেলে সম , ছোটভাই সম) কমলাপুর রেল ষ্টেশনে বেশকিছু শীতবস্ত্র বিতরন করতে সক্ষম হলাম, শিশ্চয়ই এ বস্ত্র গুলো পেয়ে তারা ভীষন খুশি ও উপকৃত হয়েছে, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, আমি যেতে পারিনি, কিন্তু কাউকে দিয়ে তো কাজটা করিয়েছি। এই কাজ যে শুধু আমি আমার নিজের টাকা দিয়ে করেছি তা নয়, এতে আমার আত্মীয়, স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজন ও সুভাকাঙ্খীদেরও সহোযোগিতা আছে, আমার ইচ্ছা আমার অনুভব, আমার প্রচেষ্টায় হয়ত কিছু অভাবী লোক সাহায্য পেয়েছে, এই যা। ছেঅট সময়ে যখন টাকা যোগার করলাম, মা বলত, মানুষ তোকে তো ভুল বুঝতে পারে, আমি গর্ব করে বলতাম মা আমিতো অন্যায় করব না এবং আজও করি না, মানুষের জন্য সাহায্য করারই সব সময় চেষ্টা করি, শীতের কষ্টে মানুষ যেন কষ্ট না পায় এই প্রচেষ্টা আমাদের সকলকে অবশ্যই করতে হবে, সংকোচ লাগলে রাস্তা দিয়ে যাবার সময়  রিক্সা থেকে একটা একটা শীতের কাপড় ফেলে গেলেই তো হয়, যা আমি আগে করতাম, যাহোক মূল কথায় আসি , দেশে এখন অনেক শীত, যাদের ঘর বাড়ি আছে, তাদের কথা আলাদা, কোন রকমে বেঁচে থাকতে পারবে, কিন্তু যারা গৃহহীন, ছিন্নমূল, তাদের পাশে অবশ্যই আমাদের প্রত্যেককে দাড়াতে হবে, এত এত ভাল মানুষ, এত এত ভাল মনের মানুষ চারিদিকে থাকতে, কিছু মানুষ, কয়েকহাজার মানুষ, কয়েক লক্ষ মানুষ কেন কষ্ট করবে, তাহলে আমরা কি করলাম, কি করব, অবশ্যই আমাদের সকলের যার যার সাধ্যমত এগিয়ে আসতে হবে, এখানেই মনুষ্যত্ব, এখানেই মানবতার জয়।

হায়রে দুঃখ

প্রদীপের আলোর দিকে কি
শুধুই তাকিয়ে থাকবে
প্রদীপের আলো কি গায়ে মাখবে না
জোনাকির ক্ষীণ আলো অবলোকন করবে
আলোর কিনারে কি অবগাহিত হবে না
দিয়াশলাইয়ের ঐ ছোট্ট কাঠির
অকাতরে নিঃশেষের গল্পই কি শুধু শুনবে
ওর মত কি জ্বলতে পারবে না
মানুষ আমরা, মানবতাই বড় কথা
মানুষের দুঃখ, কষ্টে কি প্রচেষ্টা থাকবে না
মানুষের তরে আত্ম ত্যাগে বলিয়ান হও
স্রষ্টার মহিমায় কোনদিন ছোট হবে না।

” ছোট্ট প্রয়াশ মানবতার জাগরনে”

***************************

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
Cop[email protected] by BDTASK