মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
Friday, 05 Jan, 2018 08:38:58 pm
No icon No icon No icon

“আলো নিভে নাই”


“আলো নিভে নাই”


লেখক: ক্যাপ্টেন মোঃজাহাঙ্গীর হোসেন (অব:): একটা দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক ঘটনা ঘটল আমার সামনে- যেহেতু সামনে পরেছে তাই এরিয়ে যেতে পারলাম না। ছবিতে দেওয়া অভুক্ত এ মানুষটি (অস্পষ্ট ছবি দিলাম) হুর হুর করে হোটেলে ঢুকে গেল – খালি গা, লুঙ্গি পরিহিত, স্যান্ডেল বিহীন হত দরিদ্র একজন মানুষ। যেহেতু গরীব তারপর গায়ে কাপড় নেই এবং কিছুটা স্বাভাবিকতা হতে বাইরে, তাই ভদ্র সমাজে হোটেলের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তো নষ্ট করা যাবে না। যথারীতি হোটেল কর্মচারীর নির্দয় বাঁশের আঘাত “ওরে মারে ওরে বাবারে” করে দৌড়ে পালিয়ে গেল লোকটি, বিন্দু বিন্দু কষ্ট ও জমাট একটা ক্রোধ জমলো মনের ভিতর - কেন যেন প্রতিবাদ করলাম না - মনে মনে ভাবলাম আমিওকি হোটেল কর্মচারীর মত নির্দয় হয়ে গেলাম, নাকি পাছে লোকে কিছু বলে, বলেইকি এভেবে পিছিয়ে গেলাম- প্রতিবাদের একটা স্ফুলিঙ্গ ভিতরে ভিতরে খেলা করছিল। যা হোক সমাজে তো আমার তেমন অবদান নেই, সমাজসেবা কিংবা রাজনীতি কোনটাএতা আমি করি না, এই স্বাভাবিক মানবিক প্রতিবাদ টুকুও কি আমি করব না ? হাজারো মানুষের উজ্জীবিত বিবেকের মত আমার বিবেক ও আলোড়িত হল। মৃদু ভতৎর্সনা করলাম ঐ হোটেল কর্মচারীকে, যেহেতু এটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং হোটেলে পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষ খাবার খাওয়ায় ব্যাস্ত তাই তেমন বিস্তারিত কিছুই আর বল্লাম না। আমার খাওয়া শেষ, যথারিতী হোটেল বয় কাচু মাচু করে আমার দিকে টিস্যু এগিয়ে দিতে এসেছে ( বিনয়ের যেন অভিব্যক্তি ঘটেছে পর্বতসম), যাহোক মুখ মুছতে মুছতে বের হব ওমনি- মৃত কঙ্কাল লোকটি হোর মোর করে হোটেলে আবার ও ঢুকতে এল- “অনেক ক্ষিদা লাগছে একটু ভাত খামু”- পাশে আবার সেই বাঁশের লাঠি, আবার সেই কর্মচারীর গর্জন। এবার তো আর আমি নিষ্চুপ থাকবো না প্রতিবাদ আমাকে করতেই হবে। বুকের আব্দার তো আর লোকচক্ষুর ভয়ে দমিয়ে রাখলে চলবে না। একথালা ভাত আর একটা ডিম সাথে কিছু তরকারী - খাবার যে আল্লাহর কত বড় নিয়ামত তা ঐ লোকটির খাবার খেতে দেখে বুঝলাম। সংকোচ সংশয় যে মানুষের কত বড় শত্রু তা আমি অনুধাবন করলাম। লোকটিকে খাওয়াতে পেরে একটা তৃপ্তি অনুভব করলাম।
খুব বেশি যে আল্লাহ দিয়েছেন তা বলব না, তবে যা দিয়েছেন তাতেই শুকরিয়া। কিন্তু নিজে নিজে দন্দে ভুগি, আরেকটু সচেতন হলে হয়তবা আরো কিছু করতে পারতাম- কতইবা খরচ হল আমার সব মিলে ৮০ টাকা আর আধঘন্টা সময় কিন্তু ক্ষুধার্ত অবহেলিত মানুষের পাশে আসতে পারাটা যে ঐ অবহেলিত মানুষের কতটা প্রয়োজন ছিল তা বুঝলাম। ক্ষুধা যে কি - তা যে খাবার না পায় সে বুঝতে পারে, পানি যে কি তা পানি না খেলেই বলা যায় আমরা অনেকেই বলি আমার তো কিছুই নেই, আমি আবার কারে সাহায্য করুম। আসলে সাহায্য সহনুভুতি হল মনের ব্যাপার। একজন অন্ধ মানুষকে পথ পার করে দিয়েও কিন্তু সাহায্য করা যায়, আবার একজন বয়স্ক লোককে কিন্তু বাসের সিটটি ছেড়ে দিয়ে সাহায্য করা যায়। সুতরাং মানবিক মুল্যবোধের কাছে কিন্তু যুক্তিতর্ক কখনোই বড় কোন ব্যাপার হতে পারে না। সবকিছুর মধ্যে সবসময় ভালোর অন্নেষন করতে হবে। 
ভালই শক্তি, ভালই মুক্তি ভালই হোক সহচর 
শুদ্ধ সুন্দর মন থাকলেই হবে তুমি ঈশ্বরের অনুচর। 
“ছোট প্রয়াশ- মানবতার জাগরনে।”

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK