বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
Saturday, 11 Nov, 2017 07:31:32 pm
No icon No icon No icon
কি বিচিত্র সেলুকাস

সাংবাদিক উৎপল দাস নিখোঁজের একমাসেও তৎপর হয়নি প্রশাসন


সাংবাদিক উৎপল দাস নিখোঁজের  একমাসেও তৎপর হয়নি প্রশাসন


জাহাঙ্গীর খান বাবু:নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাস আমার এক সময়ের সহকর্মী। স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সহযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সৈনিক। এই সহকর্মীর নিখোঁজে সংবাদে প্রথমে অতোটা বিচলিত না হলেও এখন শংঙ্কিত হচ্ছি। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে দৈনিক জনতায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেই পরিচয় হয় উৎপল দাস-এর সাথে। উৎপল আমার বয়সে অনেক ছোট হলেও ৭ দিন আগে দৈনিক জনতায় যোগদান করেন। যার কারণে, কখনো কথায় মতো পার্থক্য হলে হাসতে হাসতে বলতো- বাবু ভাই হাজিরা খাতায় আপনার উপরে আমার নাম। দৈনিক জনতায় আমি কিন্তু আপনার সিনিয়র। 
উৎপল দাস তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র পাশাপাশি দৈনিক জনতায় রিপোটিংয়ে কাজ করেন। প্রতিদিন বিকেলে সবার আগেই অফিসে এসে নিউজ লেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেক চঞ্চল সহজেই মানুষকে কাছে টানতে পারেন তাই অল্প সময়েই সকল সহকর্মীদের মধ্যমনি হয়ে ওঠেন। চীফ রিপোর্টার, সম্পাদক, দৈনিক জনতা’র চেয়ারম্যানের কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। এ কারণে অফিসের সাপ্তাহিক মিটিংয়ে উৎপল দাস-এর গুরুত্বও ছিলো একটু বেশি। অল্পদিনের মধ্যে তার বেতনও বাড়িয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। তার নিষ্ঠা আর কর্মদক্ষতার কারণে দৈনিক জনতার পক্ষ থেকে উৎপল দাসকে এ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেয়ার সুপারিশ করা হয়। ২০১২ সালের মার্চের কোনো একদিন জানতে পারি প্রিয় সহকর্মী উৎপল দাস জনতা ছেড়ে দৈনিক যায়যায়দিন-এ যোগদান করেছেন। ওই সময় জনতা কর্তৃপক্ষ বেতন আরো বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিলেও অভিমানী উৎপল দাসকে ফেরানো যায়নি। তবে জনতার সাথে যোগাযোগ রেখেছিল ঠিকই প্রথম দিকে সপ্তাহে পরে প্রতিমাসে একবার করে হলেও সন্ধ্যায় দৈনিক জনতায় হাজির হয়ে কর্মকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করতেন।
প্রিয় এই সহকর্মী উৎপল দাস নিখোঁজের ঘটনার একমাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধারের পদক্ষেপের কথা বলা হলেও তেমন কিছুই দৃশ্যমান হয়নি। যার ফলে গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দেশের শীর্ষ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আশাহত সহকর্মীরা উৎপল দাসের উদ্ধারের দাবিতে ঢালাওভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক সাংবাদিক সমাবেশ হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে প্রতিদিন দুপুরে চলছে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। এসব কর্মসূচী থেকে সাংবাদিক উৎপল দাস-এর উদ্ধারের জন্য প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। 
গত মাসের ২৩ তারিখে সন্তানকে ফিরে পেতে নিখোঁজ উৎপল দাসের উদ্বিগ্ন বাবা ও ভাইবোনরা সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকতাদের সহায়তা চেয়েছেন। সে দিন সন্তান হারানো উৎপল দাস-এর পিতাও ভাইবোনের আহাজারিতে উপস্থিত সকল সংবাদকর্মীরা কেঁদেছেন। 

আমারও একটি দাবি আছে
প্রিয় সহকর্মীর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় রাতে ঘুমাতে পারছেন না উৎপল দাস-এর বন্ধুরাও। গত অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখ রাতে কাওরান বাজারস্থ একুশে টেলিভিশন ভবনের সামনে মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্যদিয়ে তার সহকর্মী ও সিনিয়র সাংবাদিকরা উৎপল দাস-এর ২৯তম জন্মদিনে নিরবে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন।
সাংবাদিক উৎপল দাস-এর সর্বশেষ কর্মস্থল অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিম বিডি ডটনেটের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান আবেগ আপ্লুত হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ও সমাবেশ থেকে সহকর্মীকে উদ্ধারের জন্য বারবার সহায়তা চেয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টদের কাছে। প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রনায় উৎপল দাস-এর পরিবারের কান্না যেন থামছে না কোন ভাবেই। তাদের সান্তনা দেয়ার যেনো কোনো ভাষাই আর থাকছে না সহকর্মীদের ভান্ডারে। 
যত দিন যাচ্ছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা ততই বাড়ছে। ক্ষীণ হয়ে আসছে তাকে জীবিত উদ্ধারের আশা।
কখন ফিরবে সন্তান সেই আশায় পথচেয়ে অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না উৎপল দাস-এর মায়ের। গত ১০ অক্টোবর মাকে ফোন করে উৎপল। একপর্যায়ে বলে- ‘মা লাইনটা কেটে দাও। আমার একটা জরুরি ফোন এসেছে। আমি রাতে তোমাকে ফোন করবো।’ এরপর ছেলের ফোনের আশা কত রাত যে যাচ্ছে তার কোনো হদিস নেই। 
ঐদিন বিকেল ৪টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে গত অক্টোবর মাসের ২১ ও ২২ তারিখে সাংবাদিক উৎপল দাস-এর নিখোঁজের ঘটনা জানিয়ে রাজধানীর মতিঝিল থানায় পর পর দুটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন কর্মস্থল ও পরিবারের পক্ষ থেকে। (লেখক:সিনিয়র রিপোর্টার,দৈনিক জনতা)

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK