মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Thursday, 12 Jul, 2018 08:44:22 am
No icon No icon No icon

ইংল্যান্ডকে বিদায় করে স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া


ইংল্যান্ডকে বিদায় করে স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া


শামীম চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা:  শেষ বাঁশি বেজে উঠতেই ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারদের দিক্বিদিক ছোটাছুটি। অ্যাশলে ইয়ং-জর্ডান পিকফোর্ড-হ্যারি কেইনদের চোখ বেয়ে যখন জল গড়িয়ে পড়ছিল, রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামের আকাশে-বাতাসে তখন পুষ্পবৃষ্টি দেখতে পাচ্ছিলেন লুকা মদ্রিচ-ইভান পেরিসিচ-মারিও মানজুকিচরা। ততক্ষণে স্বপ্নের ফাইনালে উঠে গেছে তাদের দেশ ক্রোয়েশিয়া। এমন বুনো উল্লাস তো হবেই। এ উল্লাস ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফুটবল বিশ্বকাপে সেরা হওয়ার দৌড়ে মাথা উঁচু করে টিকে থাকার। এ উল্লাস প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার।
ধ্রুপদী লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের প্রথম মিশনেই সেমিফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়া সেবার ফ্রান্স বাধায় আটকে গিয়েছিল। ৯৮’র বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে শেষ চার থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা।
এবার আর শেষ চারে আটকে থাকেনি ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে নেমে ধ্রুপদী ছন্দে ইংলিশদের কাছ থেকে স্বপ্নের ফাইনালের টিকেট ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। ১৫ জুলাই লুঝনিকি স্টেডিয়ামে সেই ফ্রান্সের বিপক্ষেই শিরোপা ঘরে তোলার মিশনে মাঠে নামবে ক্রোয়েশিয়া। শিরোপার লড়াই তো বটেই, এ যেন মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার মঞ্চও ক্রোয়েশিয়ার জন্য।   

 
লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ৯০ মিনিট সমানে সমান লড়াই হয়েছে। ইংল্যান্ড ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে অনেকটা সময় পার করলেও ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে যেতে পারেনি। ইভান পেরিসিচের সমতাসূচক গোলের পর ১০৯ মিনিটে মারিও মানজুকিচের গোলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার উল্লাসে মেতেছে ক্রোয়েশিয়া। আর তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে নামা থ্রি লায়নসদের বাড়ি ফিরতে হয়েছে এক বুক হাহাকার নিয়ে। 
তবে প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডই শাসন করে খেলেছে। ক্রোয়েশিয়া বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে না থাকলেও ইংল্যান্ডের মতো আক্রমণ সাজাতে পারেনি। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে একদমই সময় নেয়নি ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। চার মিনিটেই আক্রমণ করে তারা। ক্ষীপ্র গতিতে ছুটে যাওয়া ইংলিশ মিডফিল্ডার ডেলে আলীকে ভালোভাবে সামলাতে পারেননি ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ডি বক্সের বাইরে আলীকে ফেলে দেন তিনি।
এই ফাউলই কাল হয়ে দাঁড়ায় ক্রোয়েশিয়ানদের জন্য। ডি বক্সের বাইরে থেকেই চোখ ধাঁধানো এক ফ্রি কিকে ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন ইংলিশ রাইটব্যাক কেইরান ট্রিপিয়ার। ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করা ট্রিপিয়ারের শট ফেরানোর চেষ্টাও করতে পারেননি ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচ। এগিয়ে গিয়ে আরও ধারালো আক্রমণ সাজাতে থাকে ইংল্যান্ড। এ সময় বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে যায় তারা।
১৪ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল ১৯৯০ সালের পর প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে নামা ইংল্যান্ড। কিন্তু কেইরান ট্রিপিয়ারের নেওয়া কর্নার কিক থেকে হ্যারি ম্যাগুইরের নেওয়া হেড একটুর জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। ২০ মিনিটে গিয়ে গোলমুখে প্রথম শট নেয় ক্রোয়েশিয়া। যদিও আন্তে বেরিচের শট ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ পেরিয়ে ডি বক্সেও ঢুকতে পারেনি।
প্রথমার্ধের এই সময়টাতে আক্রমণ করার চেয়ে বরং ডেলে আলী, অ্যাশলে ইয়ং, রহিম স্টার্লিং, কেইরান ট্রিপিয়ারদের সামলাতেই বেশি সময় খরচ করতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। ৩২ মিনিটে অসাধারণ একটি শট নেন রেবিচ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ান এই উইঙ্গারের বুলেট গতির শট সহজেই সামলে নেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে দারুণ সুযোগ তৈরি করেও গোলমুখে শট নিতে পারেননি ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের অন্যতম সেরা অস্ত্র ইভান রাকিটিচ। প্রথমার্ধে আর সমতায় ফেরা হয়নি ক্রোয়েশিয়ার।

ইংল্যান্ডকে বিদায় করে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের সন্ধানে মরিয়া থাকা ক্রোয়েশিয়া সেভাবে আক্রমণ করতে পারছিল না। পরিস্কার আক্রমণ সাজাতে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। ৬৫ মিনিটে ইভান পেরিসিচ দুর্বার গতির এক শট নেন। ইংলিশ রাইটব্যাট কাইল ওয়াকার গা দিয়ে বল ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে এ যাত্রায় রক্ষা করেন। যদিও পেরিসিচকে বেশি সময় দমিয়ে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ।
তিন মিনিট পরই ইংলিশদের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে গোল আদায় করে নেন ক্রোয়েশিয়ার এই উইঙ্গার। সিমে ভ্রাজাকোর ক্রসে আলতো পায়ের ছোঁয়ায় ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানের হয়ে খেলা পেরিসিচ। সমতায় ফিরতেই বদলে যায় ক্রোয়েশিয়া। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শাসন চালাতে থাকে তারা। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে দিশেহারা করে তোলে মদ্রিচ-পেরিসিচরা।
৮৩ মিনিটে মারিও মানজুকিচের শট সামলে নিতে সমস্যা হয়নি ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিকফোর্ডের। তবে পরের মিনিটেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারত ইংলিশদের। কারণ পেরিসিচ যখন গোলপোস্টের উদ্দেশে আস্তে করে বলটি পাঠিয়ে দিয়েছেন, ইংল্যান্ডের গোলপোস্ট তখন পুরোপুরি অরক্ষিত। আক্রমণ থেকে দলকে বাঁচাতে গিয়ে ফেরার সুযোগ পাননি পিকফোর্ড। এরই মধ্যে শট নিয়ে নেন পেরিসিচ। কিন্তু তার শটটি গোলপোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর কোনো দলই গোলের ঠিকানা না করতে পারায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৮ মিনিটে জন স্টোনসের দারুণ হেড থেকে ক্রোয়েশিয়াকে বাঁচান ভ্রাজাকো। স্টোনসের হেড সুবাসিচকে ফাঁকি দিয়ে ক্রোয়েশিয়ার জালে জড়িয়ে যাচ্ছিল। ভ্রাজাকো না থাকলে পিছিয়ে পড়তে হত ক্রোয়েশিয়াকে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে কপাল পোড়ে ইংল্যান্ডের। সবাই যখন ভাবছিল আরেকটি টাইব্রেকার রোমাঞ্চ অপেক্ষা সবার জন্য, তখনই ইংলিশদের স্বপ্ন চুরমার করে দেন ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড মারিও মানজুকিচ। ১০৯ মিনিটে পেরিসিচের হেড থেকে বল পেয়ে দেরি করেননি মানজুকিচ। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়ানদের স্বপ্নের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেন জুভেন্টাসের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড। বাকি সময়ে অনেক চেষ্টা করেও ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি ইংল্যান্ড।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK