শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯
Thursday, 04 Jul, 2019 09:13:58 am
No icon No icon No icon
প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

চীনের কাছে অনেক কিছুই শেখার আছে

//

চীনের কাছে অনেক কিছুই শেখার আছে

টাইমস ২৪ ডটনেট, চীন থেকে: চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবার সঙ্গে বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের লিজেনডেল হোটেলে তাঁর সম্মানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে দেশটির লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) গ্রীষ্মকালীন সভায় অংশ নিয়ে গতকাল সকালে বেইজিং পৌঁছার পর তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয় চীন সরকার। নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত ৭০ বছরে চীন নিজেকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীনের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী যারা চীনে লেখাপড়া করছে তাদের আমি বলব, এই দেশটির কাছ থেকে তারা অনেক কিছুই শিখতে পারে, কী করে চীনের জনগণ দিনরাত এত পরিশ্রম করে।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নই করছে না, দেশের পররাষ্ট্রনীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, এর আলোকে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবেও সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশ কিভাবে একই সঙ্গে ভারত ও চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখছে। তিনি বলেন, ‘এর উত্তরে তাঁদের বলেছি যে ওই দুটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কোনো সমস্যাই নয়।’
বাংলাদেশ প্রতিবেশীসহ সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি এবং যে কারণে কারো সঙ্গেই আমাদের বিরূপ সম্পর্ক নেই।’ তিনি বলেন, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসছে। আর বিনিয়োগ তখনই আসে যখন দেশে স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান থাকে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, চীনের সহযোগিতায় কর্ণফুলী টানেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকার কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যাসমূহ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এর আগে গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১১টার পর একটি বিশেষ বিমানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। বেইজিং বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার চিং গ্যাং। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একটি ছোট শিশু ফুলের তোড়া দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা করে দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। চীনের রাজধানীতে সফরকালে তিনি সেখানেই থাকবেন।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ওই বিশেষ বিমানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ডালিয়ানের ঝৌশুজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ডালিয়ান সিটির ভাইস মেয়র জিয়াও শেংফেং প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে চীনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবার চীনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য-বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের বিষয়টিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এর আগে জানিয়েছিলেন।
বেইজিংয়ে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এবং  আগামীকাল শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। আজ সকালে তিনি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। 

সূত্র : বাসস।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK