বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
Sunday, 23 Jun, 2019 09:40:15 am
No icon No icon No icon

বাংলাদেশের সব অর্জন আ.লীগের হাত ধরে

//

বাংলাদেশের সব অর্জন আ.লীগের হাত ধরে


সহিদুল ইসলাম রেজা, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো কি? রাজনীতির নানা দিক নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যে এই একটি প্রশ্নে বরাবর রাজনৈতিক সমালোচকরাও দলটিকে কিছু বলতে পারেন না। পাকিস্তানের শাসনামলে ১৯৪৯ সালের আজকের দিনে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিটি লড়াই আর দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বও দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে শীর্ষ নেতাদেরকে হত্যা করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও আওয়ামী লীগ জনগণের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে বরাবরই অটল।
জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনও গড়ে তুলেছে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটিই। আবার বাংলাদেশের মর্যাদাকর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বীকৃতি ও অর্জনের বেশিরভাগই এসেছে এই দলেরই শাসনামলে। তাই আওয়ামী লীগের নেতারা গর্বভরে বলেন, বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের ভিত পুরোটাই রচনা করেছে এই দলটি। প্রতিষ্ঠার পর পথ পরিক্রমায় আরও একটি বছর পার হলো আর আজ রবিবার আওয়ামী লীগ উদযাপন করছে তার ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেদিন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠাকালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক হন। কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে করা হয় যুগ্ম সম্পাদক।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা সেদিন রোজ গার্ডেনে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেন ‘সকলেই একমত হয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করলেন; তার নাম দেওয়া হল- ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে। সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে।’
১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের বছর ঢাকার 'মুকুল' প্রেক্ষাগৃহে পূর্ব পাকিস্তান দলের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালে কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয়-‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।
এর মধ্যে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ১৯৮২ সালে আরেক সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও দখল করেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। আর এরশাদবিরোধী ৯ বছরের আন্দোলনেও নেতৃত্ব দেয় আওয়ামী লীগ।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় শেখ হাসিনার দল। তবে ক্ষমতায় ফিরতে আর দেরি হয়নি। পরের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জিতে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দলটি।
এর পাঁচ বছর পর আবার ছন্দপতন। ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে যায় সদ্য ক্ষমতা ছাড়া দলটি। যদিও দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কারচুপির মাধ্যমে তাদের হারানো হয়েছে।
২০০৬ সালে আবার বিএনপি-জামায়াতবিরোধী আন্দোলনে নামে দলটি। আর জারি হয় জরুরি অবস্থা। এই অবস্থাতেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে জয়ী হয়ে সরকারে ফেরে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ক্ষমতায় ফেরা সহজ হয় দলটির জন্য। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK