শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
Tuesday, 10 Jul, 2018 10:52:10 am
No icon No icon No icon

খালেদাকে কারাগারে রেখে সংসদ নির্বাচন হবে না: বিএনপি


খালেদাকে কারাগারে রেখে সংসদ নির্বাচন হবে না: বিএনপি


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় সাত ঘণ্টার প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এই অনশন কর্মসূচিতে যে সমস্ত বক্তারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে এসেছে যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না।
এই অনশন কর্মসূচি থেকে আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবি আবারও করছি যে, এখানে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিয়ে পুনরায় গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তবেই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এ দেশে নির্বাচন হবে অন্যথায় নির্বাচন হবে না।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে আজকে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না, তার ন্যূনতম যে প্রাপ্য, সেই প্রাপ্যটুকু তাকে দেওয়া হচ্ছে না। এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তার সব কিছু রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। দেশনেত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্য একটাই। সেটা হচ্ছে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। উদ্দেশ্য একটাই বিএনপিকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।’

সকল রাজনৈতিক ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য শুধু নয়, বিএনপি নির্বাচন যাওয়ার জন্য নয়। আজকে এ দেশের মুক্তির জন্য, ১৬ কোটি মানুষের মুক্তির জন্য, মানুষের আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবার জন্য, স্বৈরাচার সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে বিএনপির উদ্যোগে মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন হয়। এতে ঢাকা মহানগরসহ অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অনশনে অংশ নেন। রাজধানী ছাড়াও সারা দেশে প্রতীকী অনশনের এই কর্মসূচি পালিত হয়।


 
অনশনে স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার একটাই ষড়যন্ত্র করছে। সেটা হচ্ছে দেশনেত্রীকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া, ২০ দলকে ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসন আবার পুনরাবৃত্তি করতে।’

এই কর্মসূচিতে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যার জন্যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, যত কৌশল করা হোক না কেন, এটা সম্ভবপর হবে না। তার কারণ একদিন না একদিন তাদের কৌশল ও ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোনো একপর্যায়ে গিয়ে তারা দেশনেত্রীকে জামিন না দিয়ে আর পারবে না।

আমি আশাবাদী তিনি আমাদের মধ্যে মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন খুব শিগগিরই। যদি আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হয়, তার একমাত্র বিকল্প হলো রাজপথ। রাজি আছেন (উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে)? হাত তো তুলেন, সময় মতো তো পাওয়া যায় না। এবার প্রস্তুতি নেন কর্মসূচি দেওয়া হবে, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইনশাল্লাহ আমরা জয়যুক্ত হব।’

কর্মসূচিতে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘পৃথিবীর বহু রাষ্ট্র নায়কের এ রকম জেল হয়েছে, আবার মুক্ত হয়েছেন, জামিনও হয়েছে; আবার অনেকে সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্ত হয়েছেন। আজকে দেশনেত্রীকে তিলে তিলে হত্যার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি সবদিক থেকে। স্বৈরশাসক এরশাদ হাত মিলিয়েছে হাসিনার সঙ্গে।

সেও লজ্জা পেয়ে গেছে, বাপরে বাপ আমি তো বাঁইচ্যা গেলাম, আমার চেয়ে বড় স্বৈরশাসক বাংলাদেশে এখন হাজির হয়েছে। এটা আমার কথা নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম ছবি আছে, খুব লজ্জার সঙ্গে হাসিনাকে বলেছেন, “ম্যাডাম আমি যা পারি নাই, আপনি তা কইর‌্যা দেখাই দিলেন। আমারে বাচাইয়া দিছেন”।’

বিএনপির মহাসচিবের সভাপতিত্বে অনশনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নুল আবদিন ফারুক, কবির মুরাদ, আতাউর রহসান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আশারফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম আলীম, কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, আফরোজা আব্বাস, মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, আবদুল কাদের ভুঁইয়া, সাদেক আহমেদ খান, হাফেজ এম এ মালেক, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


 
বিএনপির এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছিলেন যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দ পাশে বসে কিছু সময় অবস্থান করেন। তবে কোনো বক্তব্য দেননি।

একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য্ অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, সাদা দলের আহবায়ক আখতার হোসেন খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।
নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল রিজভী, সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদসহ অফিস কর্মীরা অনশনে অংশ নেন। ফেব্রুয়ারি থেকে রিজভী বিভিন্ন মামলার কারণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বের হচ্ছেন না।বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে পেশাজীবী নেতা গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাষ্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ফলের রস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।

সূত্র: প্রিয় ডটকম।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK