সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
Thursday, 31 May, 2018 12:53:04 am
No icon No icon No icon

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন


সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে জনগণের রায়ই শেষ কথা। তবে নিজের দেশের মাটিতে যাদের জায়গা নেই, আস্থা নেই, তারাই বিদেশিদের কাছে নালিশ করে, মিথ্যাচার করে। আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ মানুষ। বাংলার মাটিতেই আমার জায়গা। দেশের মানুষের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তাই সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। আর নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। বুধবার বিকালে দুই দিনের ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান মাদকবিরোধী অভিযান, আগামী নির্বাচন বিষয় ওঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীও সাবলীলভাবে সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনকালে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া ডি.লিট ডিগ্রিটি মঞ্চের মূল টেবিলের ওপর রাখা ছিল। এ অর্জন তিনি দেশবাসীর প্রতি উৎসর্গ করেন।
নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোর জোট গঠনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বিচারে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে, হত্যা-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, তাদের (বিএনপি-জামায়াত) আর দেশের জনগণ কোনো দিন ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

তাই ছোট ছোট দল যদি জোট করে নির্বাচনে আসতে পারে, তাহলে খুব ভালো কথা। আমাদের তো কোনো আপত্তি নেই এবং তাদের সাধুবাদ জানাই। তবে যারা (বিএনপি) দেশের স্বার্থ বিক্রি করে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে, সেই দলের সঙ্গে আমরা নেই, দেশের জনগণও নেই।
দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদক সমাজে একটা ব্যাধির মতো। আপনারাই পত্রপত্রিকায় লিখেছেন মাদকের বিরুদ্ধে। আবার আজ যখন অভিযান চলছে, তখন কোনটা কীভাবে কী হচ্ছে, সেটার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার শুরু করেছেন। অভিযান নিয়ে সমালোচনা করছেন। আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা কোনটা চান? অভিযান চলুক নাকি বন্ধ হয়ে যাক? আমি শুধু বলব, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মনে রাখবেন, আমি যখন ধরি, ভালো করেই ধরি। কার ভাই, কার আত্মীয় তা দেখা হবে না।’
‘অভিযানে মাদকের গডফাদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে’- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কে ডন, গডফাদার কে কী, এটা আমরা বিচার করছি না। গোয়েন্দা সংস্থা অনেক দিন ধরে কাজ করেছে। আপনারা যেটা ভাবছেন সেটা না। হুট করেই এ অভিযান শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন থেকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এমন দিন নেই ইয়াবাসহ মাদক ধরা পড়েনি। এখন তাদের ধরা হচ্ছে। ডন, গডফাদার যেই থাকুক ছাড়া হচ্ছে না, হবে না। আপনারা তো জানেন আমি যখন ধরি ভালোমতোই ধরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের ওপর গ্রেফতার হয়েছে। ‘আমি খুব অবাক হই, এত এত রিপোর্ট ছাপা হচ্ছে, কিন্তু কতজনকে গ্রেফতার করা হল তা কেউ লিখছে না। শুধু ক্রসফায়ারের কথা আসছে। একটা অভিযান চালাতে গেলে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতেই পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আত্মরক্ষা করবেই। কোথাও কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে থাকলে এবং নিরীহ ব্যক্তি শিকার হলে বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।’
তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হোক মাদক বন্ধ করতে হবে। আর যদি বলেন তাহলে অভিযান বন্ধ করে দিই। অভিযান বন্ধ করলে কি সমাজ ভালো থাকবে? আজকের সমাজে হাহাকার এ মাদকের কারণেই। মেয়ে বাবা-মাকে হত্যা করছে, ছেলে বাবাকে হত্যা করছে, ভাই ভাইকে হত্যা করছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি যখন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছি তখনও সমালোচনা হয়েছে। এখনও হচ্ছে। আপনারা দেখবেন, সারা বিশ্ব সন্ত্রাসে আক্রান্ত হচ্ছে, এখন সেই তুলনায় আমরা ভালো আছি।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া-খালেদা জিয়ারা কী কমবার ভারতে গেছেন? জিয়াউর রহমান তো অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে দু’বছরের মধ্যে ভারতে গিয়েছিলেন। জিয়া-খালেদা তো গঙ্গা-তিস্তাসহ কোনো সমস্যারই সমাধান করেনি। আজ বিএনপি নেতারা তিস্তা নিয়ে কথা বলেন। অথচ তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিলেন। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই গঙ্গা চুক্তি, শান্তিচুক্তি, ছিটমহল বিনিময়, সমুদ্রসীমা অর্জনসহ অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে আজও ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছে। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পর এই ছিটমহল বিনিময় নিয়ে সংসদে ভারতের সব দল ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে আমাদের সমর্থন দিয়েছে। এখন সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, বিএনপি ভারত নিয়ে কথা বলেন, অথচ ১৯৯১ সালে এই ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন খালেদা জিয়া। আমি কিন্তু তখন রাজি হয়নি। দেশের স্বার্থ রক্ষা না করে যারা মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে, তাদের সঙ্গে দেশের জনগণ কোনোদিন থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ভারতকে যা দিয়েছি সেটা ভারত সারাজীবন মনে রাখবে। প্রতিদিনের বোমাবাজি, গুলি; আমরা কিন্তু ওদের শান্তি ফেরত দিয়েছি। এটা তাদের মনে রাখতে হবে। কাজেই আমরা ওগুলোর প্রতিদান চাই না। প্রতিদানের কী আছে এখানে? চাওয়ার অভ্যাস আমার একটু কম। দেয়ার অভ্যাস বেশি।’

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা যে আমাদের সমর্থন দিয়েছে, শরণার্থীদের তারা সাহায্য করেছে, লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে ট্রেনিং দিয়েছে। যুদ্ধের ময়দানে একসঙ্গে রক্ত দিয়েছে, আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সেটা স্মরণ করি।’

ঢাকা শহরের বক্স কালভার্ট ভেঙে খাল খনন করা হবে : সংবাদ সম্মেলনে পানি সমস্যার সমাধানে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে বক্স কালভার্ট ভেঙে খাল করে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা এবং তার ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনার আছে। আরেকটিবার সুযোগ পেলে শান্তিনগর খাল, পান্থপথ খাল ও সেগুনবাগিচার খাল খনন করার কথা সাংবাদিকদের জানান তিনি।

তিস্তার পানি প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিস্তা ব্যারাজ কেন নির্মাণ করা হল? ব্যারাজ করে কেন এখন পানি ভিক্ষা চাইতে হচ্ছে? আগের সরকারগুলোর কাছে এর জবাব কী?

তিস্তাচুক্তি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি গিয়েছিলাম বাংলাদেশ ভবন স্থাপন করতে, কাজেই সেটার ওপর জোর দিয়েছিলাম। তিস্তার বিষয়ে যৌথ নদী কমিশন আছে। তারা আলোচনা করছে।

তারা কথা দিয়েছে। সব কথা এখন জানার তো দরকার নেই। আর এটা (বিকল্প প্রস্তাব) তাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তাব। তারা বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবে। তাদের প্রস্তাব তাদের ওখানে থাকতে দেন। দরকার হলে তাদের জিজ্ঞাসা করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তিস্তা পানি চুক্তির জন্য ভারতের আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করে বাংলাদেশ বসে নেই। আমি কোনো কিছুতেই কারও ওপরই ভরসা করে চলি না। আমার দেশের পানির ব্যবস্থা কীভাবে করতে হবে সেটা আমি করে যাচ্ছি। নদী ড্রেজিং করছি। জলাধার তৈরি, পুকুর খনন করছি। পানি যাতে ধরে রাখা যায়, সেই ব্যবস্থা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে নোবেল পুরস্কার পেতে এখন থেকেই প্রক্রিয়া চালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া চালানোর আমার কোনো ইচ্ছা নেই, আর লবিস্ট রাখার মতো আর্থিক সামর্থ্যও আমার নেই। আর সামর্থ্য থাকলেও এসব আমি সমর্থন করি না।
শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার আমি পেয়েছি। কোনোটাই কিন্তু আমি চাইনি। পুরস্কার আমার কাছে কিছু না, বাংলাদেশের মানুষকে শান্তি দিতে পারলাম কিনা, তাদের মুখে দু’বেলা খাবার দিতে পারলাম কিনা, সেটি আমার কাছে বড় বিষয়। গরিব মানুষের সুদের টাকায় নোবেল পাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। সাহিত্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নানা অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কবি নজরুলের নামে ডিগ্রি পেয়েছি, এটাই অনেক সম্মানজনক আমার কাছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোর্ট মুক্তি না দিলে আমি কি জেলের তালা ভেঙে তাকে নিয়ে আসব?’ তিনি বলেন, ‘ওনার মুক্তি চাইতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাক। তিনি মুক্তি না দিলে আমাদের ওপর দোষ দিতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খাওয়ায় মামলা হয়েছে, আমি তো মামলা দেইনি। মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১০ বছর মামলা চলার পরে রায় হয়েছে।’

মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানসহ তারকাদের নির্বাচন করা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই তারকারা মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। এটা নতুন কিছু নয়। তারা আমাদের দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন, খেলাটাকে ভালো অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। পৃথিবীর সব দেশেই এটা দেখা যায়। তার মানে এই নয় যে তৃণমূলের নেতারা মনোনয়ন পান না। আমরা সবাই তৃণমূল থেকে এসেছি। স্কুলজীবন থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছি। আমরা সেলিব্রেটি হয়ে আসিনি। কাজেই আমরা তো আছিই।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার পশ্চিমবঙ্গ সফরের বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরে বলেন, তারা আমাদের কাছে প্রতিবেশী। এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে দু’দিনের সরকারি সফরে পশ্চিমবঙ্গ যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বিশ্বভারতীর শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন ছাড়াও সেখানকার সমাবর্তনে যোগ দেন তিনি। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

এরপর সেখান থেকে যান রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে যেখানে জন্ম নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’র বিশেষ সমাবর্তনেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া সম্মানসূচক ‘ডি.লিট’ ডিগ্রি গ্রহণ করেন তিনি। এরপর কলকাতায় ফিরে নগরীর ভবানীপুরে ‘নেতাজি ভবন’ পরিদর্শনে যান শেখ হাসিনা।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK