মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯
Saturday, 16 May, 2015 02:19:57 pm
No icon No icon No icon

মানবপাচার বন্ধে 'এনকাউন্টারে' সমাধান খুঁজছে সরকার!

//

মানবপাচার বন্ধে 'এনকাউন্টারে' সমাধান খুঁজছে সরকার!


মোহাম্মদ ইব্রাহীম, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মতিয়া চৌধুরী বলেছেন সমুদ্র পথে মানব পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সবকিছুতে সফল এ কথা কোন সরকার বা দেশ কখন দাবি করবেনা।”

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে মতিয়া চৌধুরী বলেন মানবপাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শতভাগ সফল না হলেও তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া হচ্ছে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন মানবপাচার নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন বলেই পাচারকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘এনকাউন্টারের’ মতো ঘটনা ঘটছে।

শুক্রবার টেকনাফে সন্দেহভাজন তিনজন মানব পাচারকারী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হবার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “(সরকার) উদ্বিগ্ন না হলে এনকাউন্টারটা হল কেন? যে তিনজন মারা গেছে, এটা কি এমনি এমনি মারা গেছে? এনকাউন্টারে মারা গেছে। যারা পাচার করছিল তাদের সঙ্গে এনকাউন্টার হয়েছে বলেই মারা গেছে।”

মানবপাচারের জন্য দালালরা সমুদ্রপথকে বেছে নিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে মতিয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন বিস্তীর্ণ সমুদ্র নজরদারীর বিষয়টি কঠিন ব্যাপার।

তিনি বলেন, “এই সমুদ্রে ফিশিং ট্রলার কোনটা আর মানুষ যাচ্ছে কোনটায় এগুলো আলাদা করা খুব কঠিন। তবে সরকার এ্যাকটিভ (সক্রিয়)।”

বার্মা থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই সে দেশে ফেরত যেতে হবে। বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র পথে মানবপাচারের ঘটনা বেড়ে যাবার পেছনে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ একটি বড় বিষয়।

সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তে বন্দীশিবির আর গণকবরের সন্ধান পাবার সাথে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মানুষের পাচার হবার করুণ চিত্র উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে একজন দর্শক প্রশ্ন তোলেন যে সরকার এটা বন্ধ করতে পারছে না কেন? অনুষ্ঠানে আরও একজন দর্শক প্রশ্ন তোলেন যে সীমান্তরক্ষী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কি এ বিষয়ে কোন দায় নেই?

অনুষ্ঠানের আরেকজন আলোচক বিএনপি নেতা লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব) বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার জন্যই মানবপাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না।

মি: রহমান বলেন, “আমরা কোস্টগার্ড করেছি। তাঁদের যথেষ্ট জনবল আছে, এ দায়িত্ব তাঁদের। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, তাঁদেরও দায়িত্ব আছে। আমি মনে করি এখানে যারা আইনশৃঙ্খলায় বা দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাঁদের গাফেলতি আছে।”

বাংলাদেশ সংলাপের আরেকজন আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সিআর আবরার বলেন মানবপাচার বেড়ে যাবার বিষয়টিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাটো করে দেখাতে চাইছেন।

তিনি বলেন বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সংস্থার প্রতিবেদনে মানবপাচার বেড়ে যাবার কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন কোস্টগার্ড এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন মানবপাচার আগের তুলনায় কমে এসেছে।

মি: আবরার উল্লেখ করেন , “এই যে অস্বীকার করার প্রবণতা, এটা যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত তাদেরকে আরও উৎসাহিত করে।”

তিনি অভিযোগ করেন মানবপাচারকারীদের সাথে যাদের সম্পর্ক রয়েছে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন মি: আবরার।

মানব পাচারের পেছনে একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে বৈধ অভিবাসনে সরকারের ব্যর্থতা।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

২০১২ সালে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য সরকার একটি চুক্তি করার পর এতে প্রায় চৌদ্দ লাখ মানুষ নিবন্ধন করে। কিন্তু ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আসলে যেতে পেরেছেন এগারো হাজারেরও কম লোক।

বাংলাদেশ সংলাপের আরেকজন প্যানেলিস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ওয়ালি-উর রহমান বলেন, “সরকারের উদ্যোগ ভাল, তবে বেসরকারি ক্ষেত্রকেও এখানে নিয়ে আসতে হবে।”

তিনি বলেন বেসরকারি পর্যায়ে খরচ বেশি হলেও মানবপাচার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটা ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলন বেশি হবার পরও চাল আমদানি কেন?

ভারত থেকে চালের আমদানির কারণে বাংলাদেশের কৃষক ন্যায্য মূল্য না পাবার প্রসঙ্গে আনোয়ার পারভেজ নামে একজন দর্শক প্রশ্ন করেন, “চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে এমনটা বলা হলেও ব্যাপকভাবে চাল আমদানি করা হচ্ছে কেন?”

দর্শক

কৃষিমন্ত্রী বলেন সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সরকার কয়েকদিন আগে দশ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, “গত তিন বছর সরকার আমদানি এক ছটাকও করেনি, এটা আমি পরিষ্কার বলতে পারি।”

তবে খাদ্যদ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে কোন শুল্ক না থাকায় বেসরকারি পর্যায়ে অনেকে সেই সুযোগ নিয়ে চাল আমদানি করেছে।

খাদ্যদ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে কোন শুল্ক না থাকায় বেসরকারি পর্যায়ে অনেকে সেই সুযোগ নিয়ে চাল আমদানি করেছে।

যে কারণে ধানের বেশ ফলন ভালো হলেও ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না কৃষকেরা। এর একটি অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারত থেকে কম দামে চাল আমদানি করাকে।

এ বিষয়ে বিএনপি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় কৃষকের হতাশাজনক পরিস্থিতির পেছনেও সরকারেরই ব্যর্থতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন “কৃষকেরা ধান উৎপাদন করছে কিন্তু পানির মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এখানে সরকারের পলিসির নিশ্চয়ই কিছু একটা গ্যাপ আছে। অনেক শক্তিধর ব্যবসায়ী আছে (আমদানিকারক) তাদেরকে ঠিকমতো দমন করতে হবে।”

এ বিষয়ে ডঃ সিআর আবরার উল্লেখ করেন যে কৃষকের শ্রমকে হিসেবে নেয়া হ না। যে মূল্য নির্ধারণ করা হয় তাতে ধনী কৃষকেরা লাভবান হলেও প্রান্তিক ও মধ্যম পর্যায়ের কৃষকরা কোন সুবিধা পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কিন্তু ওয়ালি-উর রহমান বলেন যে উৎপাদন কম বা বেশি যেটাই হোক না কেন সবাই সরকারেরই সমালোচনা করে থাকে যেটা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, “আজকে একটি মানুষ না খেয়ে মরছে না এটা কি আমরা মনে রাখব না, বলব না?”

মন্তব্য করছেন একজন দর্শক

সরকার কি চাপের মধ্যে রয়েছে?

মোঃ আজিজুল হক নামে একজন দর্শক সংলাপে প্রশ্ন করেন, “জাতিসংঘ মহাসচিব সিটি নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত করার পরামর্শ দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে বিদেশীদের কাছে মাথা নত করা হবে না। এই বক্তব্য কি প্রমাণ করে যে সরকার এক ধরণের চাপের মধ্যে রয়েছে?”

এ বিষয়টিকে পুরোপুরি নাকচ করে দেন ওয়ালি-উর রহমান। তিনি বলেন, “বান-কি-মুন জানতেনই না যে এটি স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং তাঁকে এটা বোঝানোর পর ক্ষমা চেয়েছেন মিঃ মুন।”

তবে বিএনপির নেতা মাহবুবুর রহমান বলেছেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পূর্ণ ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ এবং সেটা সকলেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি বলেন “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কেন কারও কাছে মাথা নত করবে?তিনি হিমালয়ের উচ্চতায় মাথা তুলে রাখবেন। কিন্তু এই কথাটা কেন এসেছে? কারণ এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ, বিদেশে আমাদের ইমেজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

বিগত তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

একজন দর্শক

মি:আবরার বলেন “বিদেশীদের বক্তব্য যখন পক্ষে যাবে তখন সেটাকে আমরা জোরেশোরে প্রচার করব, কিন্তু আমাদের দেশের কোন একটা বিষয় নিয়ে তারা যখন নেতিবাচক মন্তব্য করবেন তখন সেটাকে আমরা অস্বীকার করব, এ দ্বৈততা পরিহার করতে হবে।”

তিনি ওয়ালি-উর রহমানের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন বিদেশীরা চাপ দিয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত না হলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে দেশের সার্বিক সম্পর্ক ঠিক রাখতে এ উদ্বেগকে অস্বীকার করলে চলবে না।

এ পর্যায়ে একজন দর্শক মন্তব্য করেন, “যে নির্বাচন হয়েছে, বাইরের দাতাগোষ্ঠীরা বা সবাই যা বলছে এটাই বাস্তবতা। এটা সরকার মানুক বা নাই মানুক। কারণ সরকার ছাড়া আর সবাই একবাক্যে বলছে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।”

জবাবে মতিয়া চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন সেখানে সাতজন মারা গেলেও জাতিসংঘ থেকে সেখানে ফোন করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই কেন উপদেশ দেয়া হচ্ছে?

বাংলাদেশের অবস্থা একটা সময় ‘ঢেঁকির মতো’ ছিল বলে মতিয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “ঢেঁকিতে যেমন সবাই একটা করে লাথি মারে, বাংলাদেশকে সেভাবেই লাথি মারার পর্যায়ে আমরা নিয়েছিলাম। এখান থেকে আমরা বের হয়ে আসছি এটা অনেকের পছন্দ নয়।”

সূত্র: শীর্ষ নিউজ।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK