সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮
Saturday, 20 Oct, 2018 01:06:45 pm
No icon No icon No icon

ধর্ষিতার বিয়ে


ধর্ষিতার বিয়ে


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ছেলেপক্ষের সামনে নিয়ে আসা হলো হিমিকে। হিমি বারবার ঘোমটা টানছে সামনের দিকে, এমন ভাবে ঘোমটা টানছে যেন কেউ তাকে না দেখতে পারে।হিমি ঐ রাতের পর সব সময় এমনি ঘোমটা টেনে রাখে যেন বাহিরের কেউ তাকে না দেখতে পারে আর সেই সাথে আঙ্গুল দিয়ে শাড়ীর আঁচল টা টেনে ধরে রেখেছে। এরিমধ্যে পাত্রপক্ষ থেকে একজন বলে উঠলো “হিমি তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো?
দেখো লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, আমি রাশেদের বোন। আর এখানে তোমাকে আমরা তেমন কিছু কঠিন কাজ করতে বলবো না।তোমাকে আমরা একটু দেখবো সে সাথে তুমিও আমাদের দেখবে বিশেষ করে রাশেদ কে ভালো করে দেখবে কারণ পরে যদি আমার ভাইকে পছন্দ না হয়।
হিমিকে তার মা কানে কানে এসে কি জানি বলে গেলো তারপর হিমি ঘোমটা সরিয়ে ফেললো। হিমির গাঁয়ের রংটা শ্যামবর্ণ, চোখ গুলো অনেক মায়াবী। হিমির চোখ রাশেদের দিকে যেতেই হিমি রাশেদকে দেখে।হিমি চমকে উঠে সাথে সাথে হিমির চোখ লাল হয়ে যায়।এরিমধ্যে হিমির চোখে পানি চলে আসে আর তাই হিমি সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চলে আসে। সবাই খেয়াল করেনি ভেবেছে লজ্জা পেয়েছে মনে হয় কিন্তু রাশেদ ঠিকি হিমির চোখের পানি খেয়াল করেছে।
এরিমধ্যে সবাই রাশেদের মতামত জানতে চাচ্ছে হিমিকে রাশেদের পছন্দ হয়েছে কিনা।
এদিকে হিমি রুমে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশ রুমে গিয়ে সাওয়ার ছেড়ে দিয়ে কান্না করতে থাকে।এরিমধ্যে হিমির মা এসে হেসে হিমিকে বলে “কি রে হিমি কি হলো? তাড়াতাড়ি আয় না মা তোর শ্বশুরবাড়ির সবাই যে চলে যাচ্ছে।”
হিমি সেখান থেকেই তার মাকে বললো “শ্বশুরবাড়ি মানে?”
হিমির মা আবারো হেসে বললো”তোকে ওদের সবার পছন্দ হয়েছে।”
হিমি অবাক হয়ে বললো”রাশেদের ও আমাকে পছন্দ হয়েছে?”
হিমির মা হ্যাঁ বললো।
সেদিন রাতে হিমি অনেক কিছু ভাবছে বসে বসে।আচ্ছা রাশেদ কি হিমির উপর দয়া দেখাচ্ছে? নাকি হিমিকে চিনতে পারেনি?
এমন অনেক প্রশ্ন আসছে হিমির মনে।হিমি সারারাত ভেবে সিদ্ধান্ত নিলো সে রাশেদের সাথে দেখা করবে।
হিমি রাশেদকে দেখা করতে বলাতে রাশেদ অবাক হয়নি। হিমি রাশেদকে খুব নির্জন একটা জায়গায় দেখা করতে বলে।এই জায়গা টা হিমির অনেক পরিচিত, এইই জায়গাটা হিমির অনেক কষ্টের সাক্ষী।
হিমি লাল একটা ড্রেস পড়ে এসেছে আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, চোখে মোটা করে কাজল দেয়া।
ঠিক যেমন সেজেছিল ২ বছর আগে এই জায়গায় আসার সময় আজ হিমি সেই জায়গায় সেভাবেই সেজে গেছে।
হিমি সেখানে গিয়ে দেখে রাশেদ দাঁড়িয়ে আছে।হিমি রাশেদকে প্রথমেই বলে আজ সে একটা কাহানী বলতে এসেছে।
রাশেদ ও শুনতে আগ্রহ দেখায়।
হিমি বলে এখানে ঠিক ২ বছর আগে একটা মেয়ে তার প্রেমিকের সাথে বাসা থেকে পালিয়ে এসে এখানে দেখা করে।মেয়েটা বাসা থেকে আসার সময় তার সাথে করে অনেকগুলো গহনাগাটিআর টাকাপয়সা নিয়ে আসে।
মেয়েটা খুব বোকা ছিলো সে ভাবতো ছেলেটা বুঝি তাকে ঠিক তার মতোই ভালোবাসে।ছেলেটা মেয়েটার কাছ থেকে সব টাকাপয়সা গয়নাগাটি নিয়ে যায়।
তারপর কিছু বাহিরের ছেলে আসে আর তাদের কাছে মেয়েটাকে দিয়ে যায়।মেয়েটা অনেক কান্নাকাটি করে অনেক হাত জোর করে যেন ছেলেটা না যায় তাকে ছেড়ে।তাও ছেলেটা চলে যায়,মেয়েটাকে সবাই মিলে রক্তাক্ত অবস্থা করে সেখান থেকে চলে যায়।
সেখান থেকে একটা ছেলে তাকে সেই অবস্থায় দেখে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ছেলেটা মেয়েটার ব্যাগ থেকে ফোন নিয়ে মেয়েটার বাড়িতে সব ঘটনা জানায়।
পরেরদিন হাসপাতাল থেকে মেয়েটার বাবা মা লোক জানাজানির ভয়ে বাড়ি নিয়ে আসে এমনকি যে ছেলেটার কল দিয়ে জানায় তার সাথে পর্যন্ত দেখা করেনি।
ছেলেটা মেয়েটাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেছে এরপর আর তাদের দেখা হয়নি।
যদিও এই ঘটনার পর মেয়েটা অনেকবার সুইসাইড করতে চেয়েছিল কিন্তু তার বাবামা তাকে তা করতে দেয়নি।
এরপর হিমি রাশেদকে বললো “আমার কাহানী বলা শেষ।আপনার কি কিছু মনে পড়েছে? ”
রাশেদ বললো “হ্যাঁ,সেই ছেলে যে মেয়েটাকে বাঁচিয়েছে সেটা আমি আর মেয়েটা তুমি আর সেদিন আমি তোমাকে দেখেই চিনে ফেলছিলাম, আর এখানে দেখা করতে বলাতে আরো শিওর হয়েছিলাম।”
হিমি এবার প্রশ্ন করলো “আচ্ছা এখনো আপনি আমাকে বিয়ে করবেন? ”
রাশেদ এবারো হ্যাঁ বললো।
হিমি রাশেদকে বললো ” এত্ত কিছু জেনেও কেন বিয়ে করবেন? ”
রাশেদ হিমিকে বলে দেয় এই উত্তর টা সে বাসরঘরে বসে হিমিকে বলবে।
হিমি আর রাশেদের বিয়ে হয়ে যায় ধুমধাম করে।হিমি বাসরঘর বসে আছে তখনি রাশেদ আসে রুমে।
হিমি রাশেদকে সালাম করে তারপর রাশেদকে ধন্যবাদ জানায়।
রাশেদ হিমিকে বললো “ধন্যবাদ কেন?”
হিমি বললো ” সেদিন আমাকে আরেকটা নতুন জীবন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দেওয়া হয়নি তাই আজ দিয়ে দিলাম। আচ্ছা আপনি আমাকে এটা বলেন এত্ত কিছু জানার পর বিয়ে কেন করলেন আমাকে ?
রাশেদ বললো ” তোমার ধর্ষণ হয়েছিলো আর সেটাতে তোমার অন্যায় কোথায়? তুমিতো একটা মানুষকে শুধু ভালোবেসেছিলে শুধু।আমি সেসব মানুষদের মতো না যারা সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে কিন্তু নিজের চিন্তা ভাবনা পরিবর্তন করতে পারেনা। তোমার বাবা মা যদি সেদিন সমাজের কথা না ভেবে তোমার কথা চিন্তা করে পুলিশের কাছে যেতো তাহলে তুমি এমন ভয় আর লজ্জ নিয়ে বাঁচতে হতো না।
রাশেদের কথা শুনে হিমির চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে।
রাশেদ হিমির চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে “অনেক কান্না করেছে আর না।
হিমিকে জড়িয়ে ধরে রাশেদ বলে “এখন থেকে আর লজ্জা পাবেনা। এসব কিছুতে তোমার কোন দোষ ছিলোনা। আমরা অনেক ভালো থাকবো।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK