শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮
Monday, 11 Dec, 2017 10:45:21 am
No icon No icon No icon

রাজধানী‌তে ব‌ডি ম্যা‌সাজ এর আঁড়া‌লে মাদক, দেহ ব্যবসা ও ব্লু ফিল্ম তৈ‌রি চল‌ছে


রাজধানী‌তে ব‌ডি ম্যা‌সাজ এর আঁড়া‌লে মাদক, দেহ ব্যবসা ও ব্লু ফিল্ম তৈ‌রি চল‌ছে


এমএ‌বি সুজন, টাইমস ২৪ ডটনেট, বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজধানীর যতসব অ‌ভিজাত এলাকায় গোপন ও প্রকা‌শে বিউ‌টি এন্ড স্পা সুপার সেলুন নামধারী ত‌লেত‌লে নরনারী সমানতা‌লে ব‌ডি ম্যাসাজ সেন্টার গু‌লো‌তে চল‌ছে ভয়াবহ অবাধ মাদক, সেক্স আইটেম ও দেহ ব্যবসা। অ‌ভিনব এসব বিউ‌টি পারলার এন্ড স্পা কেন্দ্রসমূহে বি‌শেষ নিরাপত্তায় ভিআই‌পি, সিআই‌পি ও ভি‌ভিআই‌পি যৌনকর্মী নারী/পুরু‌ষের মিলন‌মেলা যৌন‌নীলাখেলা চল‌ছে পু‌লিশ পাহাড়ায়। ঢাকা বিমানবন্দর থানাধীন উত্তরা ১নং সেক্টর, ১নং রোড, মস‌জি‌দের সা‌থে ১নং বহুতল ভব‌নের লেভেল ও লিফ্টের ৭ এ নিউ সি‌টি ইন স্পা এন্ড হেলথ কেয়ার ও গুলশান ২, বা‌ড়ি ১২/‌বি, রোড ৫৫, লে‌ভেলএ স্মাইল বিউ‌টি কেয়ার এন্ড স্পা এর গ‌র্বিত মা‌লিক নিশাত ব‌লেন, আমি একজন র্যাব কর্মকর্তার স্ত্রী। থানা পু‌লিশ, এসি ও ডি‌সিকে ম্যা‌নেজ ক‌রেই চল‌ছে আমার ব্যবসা। বৈধ কি অ‌বৈধ জা‌নিনা আমার প্র‌তিষ্ঠান নি‌য়ে বা‌জে মন্তব্য কর‌লে কিংবা আমার বিরু‌দ্ধে নিউজ দি‌লে আপনারা যতবড় সাংবা‌দিক হন না কেন গ্রেপ্তার ক‌রে আপনা‌দের শা‌য়েস্তা করব।
এ‌বিষ‌য়ে সং‌শ্লিষ্ট থানার ও‌সি, সা‌র্কেল এসি ও জোনাল ডি‌সিসহ এতদ সংক্রান্ত দা‌য়িত্বশীল মোট ৩১জন উর্ধ্বতন পু‌লিশ কর্মকর্তা‌কে অব‌হিত ক‌রেও কোন প্র‌তিকার ফল পওয়া যা‌চ্ছেনা বিধায় এলাকাবাসী বল‌ছেন, এসব পা‌পকাজ পু‌লিশ পাহাড়ায় চ‌লে। এদি‌কে গোপনসূ‌ত্র জানায়, এসব অ‌বৈধ অসামা‌জিক স্পা সেন্টা‌রে গোপন ক্যা‌মেরায় ব্লু ফিল্ম তৈ‌রি ক‌রে খ‌দ্দের‌দের সা‌থে ব্ল্যাক‌মেইল করা হয় প‌রে ওসব ভি‌ডিও পাচার কর‌লে তা ছ‌ড়ি‌য়ে প‌রে ইন্টার‌নে‌টে।
উত্তরা পূর্ব থানার সেক্টর ৪, রোড ৬ ও বা‌ড়ি ২১ এ জ্যাকুলাইন সুপার সেলুন এন্ড স্পার কর্ণধার না‌সির ব‌লেন, এখা‌নে থানাসহ ডি‌সি অ‌ফিস থে‌কেও মেহমান আসে সবুজ সেবা নি‌তে তাই কেউ বাড়াবা‌ড়ি কর‌লে তার বিরু‌দ্ধে পু‌লিশী ব্যবস্থা নেয়া হয়।
আস‌লে রাজধানী‌তে 'স্পা সেন্টার' নাম ব্যবহার করে চলছে মূলতঃ অবৈধ দেহ ব্যবসা যা কখনো বৈধ হতে পারেনা। তাই এ ব্যবসার প্রতিকার না হলে, স্পা সেন্টারগুলোর প্রতি ধীরে ধীরে মানুষের ধারণা পা‌ল্টে যা‌চ্ছে।
ব্যবসা সফল কর‌তে রাজধানীতে অনলাইনে চলছে তদ্রুপ জমজমাট যৌনবাণিজ্য। পছন্দ, দরদাম ও টাকা পরিশোধও চলছে অনলাইনেই। উঠতি মডেল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চাভিলাসী ছাত্রী ও পেশাদার যৌনকর্মীদের একাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চাইলেই নির্ধারিত স্পা পারলা‌রে পৌঁছে যাবে কাঙ্খিত সুন্দরী।
নগরীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, বনশ্রী, নিকুঞ্জ, নি‌কেতন ও ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায় অন্তত ২০টিরও বে‌শি স্পা স্পটে চলছে রমরমা দেহব্যবসা। এর বাইরে আবাসিক বাড়িতেও চলছে যৌনবাণিজ্য।
এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলেছেন, পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই তারা যৌনবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম জানান, থানা পুলিশ চাইলেই এগুলো বন্ধে উদ্যোগ নিতে পারে। তবে প্রতারিত কেউ অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক স্পা সেন্টার গড়ে উঠেছে। সেখানে স্পা এর কথা বলা হলেও এর আড়ালে চলে দেহব্যবসা। নির্ধারিত স্পট ছাড়াও বাসা বাড়িতে যৌন কর্মীদের পৌঁছে দেয়ার কাজও করে স্পা সেন্টারগুলো। গুলশান বনানী কেন্দ্রিক অন্তত ১০টি চক্র রয়েছে, যারা অনলাইনে এ ধরনের প্রচারণা চালায়। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ফেসবুক পেজে অশ্লীল ছবিও ছাড়ছে তারা। আর এভাবেই অনলাইনে চালানো হচ্ছে জমজমাট স্পা যৌনবাণিজ্য।
এ‌দের পেজগুলোতে মোবাইল নম্বর যুক্ত আছে। ফোন করলেই তারা ঘণ্টা চুক্তি অফার করে। স্পা সার্ভিসের পেজে বডি ম্যাসাজ ও শারীরিক মিলনের জন্য টাকার অঙ্কও তুলে ধরা হয়েছে। আর এসব পেজ মনিটরিং-এর জন্য সার্বক্ষণিক একজন রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক রিল্যাক্স স্পা অ্যান্ড এসকর্ট এজেন্সির কর্মীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত তার কাজই হলো ফেসবুক পেজ অপারেট করা। শুধু তিনিই নন, তার মতো আরো ১৫ জন রয়েছে এ কাজে। তাদের কাজ-ফোন অথবা ফেসবুক পেজের গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
গুলিস্তানে মাজারের পাশে সরু গলি দিয়ে এক মার্কেটের সিঁড়ি দিয়ে তৃতীয় তলায় উঠতেই চোখে পড়ে ওয়েস্টার্ন পোশাক পরা বিভিন্ন বয়সের নারীদের। এসব নারীদের কেউ কেউ ছেলেদের সঙ্গে মদ খাচ্ছেন। কেউ সিগারেটও টানছেন। এরই মধ্যে কোনো কোনো তরুণ-তরুণী বের হচ্ছেন, আবার প্রবেশ করছেন। সেখানে আসা কয়েকজন জানায়, তাদের কেউ অনলাইনের মাধ্যমে এসেছেন আবার কেউ এসেছেন পূর্ব পরিচিত হিসেবেও।
একই ভাবে ব্যবসা চলছে গুলশান-২ এর ৫২ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতেও। বাড়িটিতে লিফট আছে। ওই বাসার চারতলায় চলছে এ কর্মকান্ড। বাসাটি দেখে কারও মনেই হবে না সেখানে এ কাজ চলছে। পরিচয় গোপন করে সেখানে নিয়মিত আসা দুই তরুণীর সঙ্গে কথা হয় তারা দুজনই ‌মডেল ব‌লে দাবী ক‌রেন। একজন মডেলিং করেন সিনেমার আইটেম গানে, অন্যজন বিজ্ঞাপণের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই আইটেম গার্ল জানান, ফিল্মে কাজ কম থাকায় টাকা রোজগারের জন্যই তারা এমন নিরাপদ স্পা সেন্টা‌রে যান। মডেলিং-এর পাশাপাশি তারা কাজ করেন এসকর্ট গার্ল হিসেবেও। তারা বলেন, টাকার বিনিময়ে কাউকে তো মন দিচ্ছি না। এটি এক ধরনের ব্যবসা। আলাপকালে তারা জানান, তাদের রেট খুব বেশি। তাই মধ্যবিত্ত শ্রেণির কেউ তাদের কাছে যেতে পারেন না। উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী, আমলা ও বিদেশিরা স্পা সেন্টারগু‌লোর নিয়মিত খদ্দের।
আরেক তরুণী জানান, এসকর্ট গার্ল হিসেবে ওয়েবে তার কোনো ছবি নেই। ফেসবুকে তার একটি আইডি ও পেইজ আছে। সেখানেই নক করে নানা অফার পান। যিনি নক করেন তার প্রোফাইল দেখে বিত্তশালী, স্মার্ট ও বিশ্বস্ত মনে হলেই সাড়া দেন তিনি। এছাড়াও এসকর্ট থেকে ফোনে মাঝে মধ্যে খদ্দের পান। এসকর্ট এজেন্সির কর্মীরা জানান, চাকরিজীবী নারী ছাড়াও গৃহিণীদের ছবি রয়েছে এজেন্সির কাছে। অনেকের ছবি ওয়েব পেজে দেয়া হয় না। তাদের সরাসরি দেখানো হয় স্পা কারখানায়।
অভিজাত এলাকায় এমন বহুরূ‌পি বহুমু‌খি স্পা যৌনবাণিজ্য সম্পর্কে গুলশান জোনের পুলিশের সহকারি কমিশনার রফিকুল ইসলাম খান জানান, এ ধরনের খবর শুনেছি। আমরা খোঁজ খবর নেব। এর আগে কিছু আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ আমরা পেয়েছিলাম। তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK