মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Friday, 18 Oct, 2019 09:39:25 pm
No icon No icon No icon
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

ই-সিগারেট বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হোক নতুন প্রজন্মের মধ্যে নেশার প্রবণতা বাড়ছে

//

ই-সিগারেট বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হোক নতুন প্রজন্মের মধ্যে নেশার প্রবণতা বাড়ছে

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : তামাকজাত সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেটকে অনেকে নিরাপদ হিসেবেই ধরে নিয়েছেন। এর প্রবর্তক ও বাজারজাতকারীরা বলেছেন, প্রচলিত সিগারেটের মতোই এর বাষ্প ধূমপায়ীদের দেয় সিগারেটের তৃপ্তি, কিন্তু কোনো ক্ষতি করে না। ফলে ধূমপায়ীদের জন্য প্রচলিত সিগারেটের বিকল্প হয়ে উঠছিল, অনেকে ধূমপান ছাড়ার জন্য এটিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নতুন পণ্য হিসেবে আমাদের দেশের অনেক ধূমপায়ী ই-সিগারেটে ঝুঁকছিলেন। গতকাল ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। 
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ডা. হাসান মাহমুদ এমপি, বিভাগীয় প্রধান এপিদেমিওলজি এন্ড রিসার্চ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী, মহাসচিব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী, প্রোগ্রাম অফিসার এন্টি টোবাকো প্রোগ্রাম ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট আহমদ খাইরুল আবরার, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল মালিক প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, সহ-সভাপতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ মহাসচিব ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনস্ট টোবাকো ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের প্রধান অথিতি তথ্যমন্ত্রী ডা. হাসান মাহমুদ বলেন, তরুণ ও শিশুদের টার্গেট করে বিভিন্ন দেশে ই-সিগারেট জাতীয় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো। ধূমপানে ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকারিতা নেই। এটি আর দশটি মাদক বা নেশাজাতীয় পণ্যের সঙ্গে তুলনীয় নয়। মাদক যে গ্রহণ করে, তাতে সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ধূমপানে কেবল ব্যক্তি নিজেই ক্ষতির শিকার হন না, ধূমপানকালে তার পাশে উপস্থিত সবাই ক্ষতির শিকার হন। 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক আহমদ খাইরুল আবরার বলেন, ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের সব তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি যত দ্রæত সম্ভব। স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ভারত স¤প্রতি ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করে। এর আগে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ ৩০টির বেশি দেশের এসব তামাক নিষিদ্ধের কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৩৫ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের তামাক সেবন করে। তবে ই-সিগারেটের প্রভাব নিয়ে বলার মতো কোনো পরিসংখ্যান নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে, ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের স্কুলের শিশুদের মধ্যে ই-সিগারেট সেবনের হার ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮০৫ জনের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়া ও ১২ জনের মৃত্যুর পেছনে ই-সিগারেট ও ধূম্রউদ্গীরক তামাকের ভূমিকা আছে।
এর আগে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ ৩০টির বেশি দেশের এসব তামাক নিষিদ্ধের কথা তুলে ধরেন সচিব বলেন, “বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।”
দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৩৫ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের তামাক সেবন করে। তবে ই-সিগারেটের প্রভাব নিয়ে বলার মতো কোনো পরিসংখ্যান নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে, ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের স্কুলের শিশুদের মধ্যে ই-সিগারেট সেবনের হার ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮০৫ জনের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়া ও ১২ জনের মৃত্যুর পেছনে ই-সিগারেট ও ধূম্রউদ্গীরক তামাকের ভূমিকা আছে।
ধারণা করা হয়, ধূমপানকে নিরাপদ হিসেবে বৈধতা দিতে কিংবা এর পক্ষে যুক্তি দিতেই ব্যবসায়িক কৌশলে ই-সিগারেট বাজারে ছাড়া হয়। তবে প্রচলিত সিগারেটের সঙ্গে এর তেমন ফারাক নেই বলেই প্রতীয়মান। ই-সিগারেটে থাকা নিকোটিন দ্রবণ ব্যাটারির মাধ্যমে গরম হয়ে ধোঁয়া তৈরি হয়। এটি মস্তিষ্কে ধূমপানের মতো অনুভূতির সৃষ্টি করে। তাই ই-সিগারেটের নিকোটিন থেকেও হতে পারে ক্যান্সার। নেশা কমানোর কথা বলা হলেও গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এই তরলে আসক্তি আরও বেশি। এটি ভবিষ্যতে ফের ধূমপান বা অন্য কোনো নেশার দিকে ধূমপায়ীকে টেনে নিয়ে যেতে পারে।
বক্তারা বলেন, এমনিতেই বিশ্বে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমছে। এ অবস্থায় নতুন কোনো নেশাজাতীয় পণ্যের বাজারজাত বিপণন কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। জনবান্ধব আইন চালু করতে বাদ সাধেন কোনো মন্ত্রী বা প্রভাবশালী রাজনীতিক, মন দৃষ্টান্ত রয়েছে। ফলে এটি বিপণন ও বাজারজাত বন্ধ করা সম্ভব বলেই আমাদের বিশ্বাস।
বক্তারা আরো বলেন, এটি গন্ধহীন এবং বর্ণহীন। তরল গিøসারিন অনেকটা মিষ্টি স্বাদের হয়। এটি বিভিন্ন পণ্যে পাওয়া যায়। ই-সিগারেটে ধোয়া তৈরির জন্য এক ধরনের ই-লিকুইড বা তরল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ধোয়া শরীরের রক্ত সঞ্চালনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমন ক্ষতি সত্যিকারের সিগারেটেও হয় না।
ই-সিগারেটে যেসব ক্যামিক্যাল রয়েছে : ই-সিগারেটে রয়েছে ফরমালডিহাইড ও এসিটালডিহাইড নামের দুটি রাসায়নিক দ্রব্য। এই উপাদান ই-লিকুইডের তাপমাত্রা বাড়ায়। দুর্ভাগ্যবশত এর ফলে আরো নিকোটিন তৈরি হয়। এ মধ্যে থাকা একরোলিন উত্তপ্ত গিøসারিন থেকে গঠিত। এটি ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।ধূমপায়ীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বস্তুকণা এবং ধাতু ই-সিগারেটের এরোসোল রয়েছে যেটি ক্ষতিকারক। এটি শরীরে শিরাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ সৃষ্টি করে। এবং স্নায়ুর  ওপর চাপ ফেলে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত বা টক্সিক ধাতু ই-সিগারেটের এরোসোলের ভেতর পাওয়া গেছে। যেমন : টিন, নিকেল, ক্যাডিয়াম, লেড ও মারকারি।
 
 
 

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK