সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯
Thursday, 23 May, 2019 11:34:01 am
No icon No icon No icon

খাদ্যের ভেজালের আতংকে সারা দেশ

//

খাদ্যের ভেজালের আতংকে সারা দেশ


শামীম চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: একটি দেশ,জাতি টিকে থাকে শিক্ষার উপর ভিত্তি করে। আর একটা দেশকে ধবংশ করতে প্রয়োজন জাতিকে শিক্ষাবিমুখ করা। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমেই আঘাত করো শিক্ষায়। কেননা শিক্ষা হচ্ছে জাতির চালিকা শক্তি আর সেই চালিকা শক্তি যদি না থাকে তাহলে সেই জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে কিভাবে তারপরে মারো ভাতে কারন পেটে ক্ষুধা থাকলে সেই জাতির কথা বলার কোন ক্ষমতাই থাকবে না। তারপরে মারো শরীরে কারন একটা পঙ্গু জাতি (সড়ক দুর্ঘটনা) কখনওই দেশের কোন কাজেই আসেনা ! দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি আমরাই হলাম সেই জাতি,যারা প্রতিটি মুহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস, খাদ্যে ভেজাল আর সড়ক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হতে ধ্বংস প্রায় একটা জাতিতে পরিনত হচ্ছে !এইভাবেই আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে ! শুধু তাই নয় এমনকি একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে সেখানেও ভেজাল। সঠিকভাবে রোগিকে সু-চিকিৎসা দেয়ার ডাক্তার নেই,ঔষধের দোকানে গেলে মেয়াদ উত্তির্ণ ঔষধ তাও আবার চড়া দামে। কিন্তু কেন ? এইভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্যিই কি স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিরিশ লক্ষ শহীদ প্রাণ দিয়েছিল ? যেখানে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে এসে জাপানিরা আজকে নিজেদেরকে বিশ্বের একটি উন্নত দেশের উন্নত জাতি হিসেবে পরিনত করেছে  আর পক্ষান্তরে সেখানে আমরা প্রতিটি মুহুর্তে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি !কি খেয়ে বাঁচবো আমরা? কেউ কি বলতে পারবেন এমন একটা খাদ্যের নাম যাতে কোন ভেজাল নেই। পানি, যার অপর নাম জীবন সেই পানি থেকে শুরু করে, শিশুর খাদ্য দুধ, চাল, ডিম, মাছ, মাংস, তরকারি, ফল ঔষধ এমন কোন জিনিস নেই যে যাতে কোন ভেজাল নেই ! প্রতিদিন খবরে আসছে এই সব ভেজালের দৃশ্য নোংরা, পচাঁ খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তাতে ফ্লেবার ও কাপড়ে মিশানো রং দিয়ে তৈরি করা হয় মুখরোচক, সুস্বাদু ও দৃষ্টিনন্দন সব খাবার যা খুব সহজেই ভোক্তাকে আকৃষ্ট করতে পারে।শিশুর খাদ্য, জুস, চকলেট কি খাচ্ছি আমরা ? কি দিয়ে তৈরী হচ্ছে এইসব লোভনীয় খাবারগুলো ? কি খাচ্ছে আমাদের আগামী প্রজন্ম শিশুরা ? কিভাবে আমরা রেখে যাবো আমদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের ? কোথায় রেখে যাবো ? কার কাছে রেখে যাবো ? আমাদের খুব জানতে ইচ্ছে করে... আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি এইসব ভেজাল বিরোধী অভিযানগুলো সমন্দ্বে জ্ঞাত নন ? তিনি তো দূর্নীতিতে "জিরো" টলারেন্স ঘোষণা করেছেন.. তাহলে আজ কেন এদেশে দূর্নীতিতে ১০০% টলারেন্স আমাদের সহ্য করতে হচ্ছে? কেন প্রতিবছর রোজা আসলেই ভেজাল বিরোধী অভিযান শুরু হবে ? কেন এই অভিযান সারা বৎসর নয় ? কেন শুধু লক্ষ লক্ষ টাকার জরিমানা ধার্য করেই তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে ? তাহলে কি সরকারি তহবিল বৃদ্ধি করার জন্যেই এ অভিযান ? জনগনকে নিরাপদ খাদ্য দেবার জন্য যদি এই অভিযান হয় তাহলে আজ পর্যন্ত কতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে ? কতজনকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে ? কতজনকে যাবজ্জীবন কিংবা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে ? কতজনের প্রয়োজন নাই  মাত্র একজনকেই করে দেখান দেখবেন সবাই সোজা হয়ে যাচ্ছে ! আমরা বাচতে চাই নিরাপদে পঙ্গু হয়ে ধুকে ধুকে বেঁচে থাকতে চাইনা। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ একটি বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। খাদ্যে ভেজাল বিরোধী কোন মিটিং , সেমিনার চাইনা। চাই সরাসরি এ্যাকশন তাদের বিরুদ্ধে যারা এই জাতিকে তিলে তিলে ধ্বংস করার চক্রান্তে নেমেছে। কারা এই ভেজালের জন্য দায়ী ? সেইরকম প্রতিহিংসা পরায়ণ অভিযোগও শুনতে চায় না জনগণ। আমরা চাই আপনি কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন এইসব অপরাধীদের ধ্বংস করার জন্য যাষ্ট সেটাই দেখতে ! পরিশেষে কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের সেই কবিতার ভাষায়ই বলছি, " কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে"ব্যথিতের ব্যথা সেই বুঝতে পারে । যে এই ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করেছে, আজ পুরো জাতি কি ধরনের ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । সেটা উপলব্ধি করার সময় এসেছে আপনাদেরওযদি করেন তবেই একমাত্র এই অপরাধ রোধ করা সম্ভব। এবং সেই সাথে রুখে দাড়তে হবে এই ভেজালে বিরুদ্ধে সেই সাথে কার এই খাবারে ভেজাল দেয়ার মত সমাজে জঘন্যতম লিপ্ত আছে। এদের মুল শেকড় উপরে ফেলতে হবে।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK