বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯
Sunday, 14 Apr, 2019 12:04:01 am
No icon No icon No icon

রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি

//

রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি


খন্দকার হানিফ রাজা, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট: চাঞ্চল্যকর পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলার নিষ্পত্তি হয়নি দীর্ঘ ১৮ বছরেও। ওই ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় নিম্ন আদালত ঘোষণা করা হলেও বিস্ফোরক আইনে করা মামলার রায় ঘোষণা এখনও নিষ্পত্তি করা হয়নি। হত্যা মামলার রায় চার বছর পূর্বে ঘোষণা করা হলেও হাইকোর্টে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলাটির রায় নিম্ন আদালত থেকে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঘোষণা করা হয়। রায়ে নিম্ন আদালত ৮ জনের মৃত্যুদন্ড প্রদান ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। তার মধ্যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মুফতি হান্নান অন্য একটি মামলায় ঘোষিত মৃত্যুদন্ড কর্যকর করা হয়েছে। সে ছিলো সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) অন্যতম সদস্য। মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ৩ আসামী কারাগারে থাকলেও দন্ডপ্রাপ্ত চার আসামী এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, পহেলা বৈশাখে রাজধানীর রমনা বটমূলের বোমা হামলায় করা বিস্ফোরক আইনে করা অপর মামলাটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে। ১৮ বছর পার হলেও তা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানা যায়, এই মামলার সাক্ষীদের প্রতি জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরও স্বাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হচ্ছে না। তবে এই মামলাটির ৮৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন স্বাক্ষী দিয়েছেন।
বিস্ফোরক আইনে করা মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ জানান, ট্রাইব্যুনাল মামলার স্বাক্ষীদের প্রতি জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করতে পারছে না। তাছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে স্বাক্ষী উপস্থিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জানান, মামলার আসামিরা দীর্ঘ দিনযাবত বিনাবিচারে কারাগারে আটক আছেন। এটা তো কারোই কাম্য ছিলো না। মামলাটি স্বাক্ষী গ্রহণের পর্যায়ে থাকলেও স্বাক্ষী তো আদালতে হাজির হচ্ছেন না। আর স্বাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় মামলাটিরও নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
২০১৪ সালের ২৩ জুন নিম্ব আদালত থেকে হত্যা মামলাটির রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন। মামলার রায়ে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ৮ জনের মৃত্যুদন্ড এবং ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অপর আসামীরা হলো, মাওলানা আকবর হোসেন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা আরিফ হাসান সুমন ও মওলানা মো. তাজউদ্দিন। অপরদিকে, যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল। তবে এ মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিনসহ চার আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। পুলিশ এখনও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত বোমা বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। পরে ওই ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুইটি মামলা দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিআইডির ইন্সপেক্টর আবু হেনা মো. ইউসুফ দুইটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ২৬ স্বাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। সর্বশেষ গত ২০১৮ সালের ১৭ মে একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর থেকে আর কোরো সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। আগামী ২৫ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK