শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯
Friday, 29 Mar, 2019 12:26:38 am
No icon No icon No icon

বনানীতে আগুনে ১৯ জন নিহত, তদন্ত কমিটি গঠন (ভিডিও সহ)

//

বনানীতে আগুনে ১৯ জন নিহত, তদন্ত কমিটি গঠন (ভিডিও সহ)

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শ্রীলঙ্কান নাগরিকসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে এতে ৭০ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিহতরা হলেন, শ্রীলঙ্কান নাগরিক নিরস (কুর্মিটোলা হাসপাতাল), গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বালুগ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭) বনানী ক্লিনিক, দিনাজপুর জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আবুল কাশেমের ছেলে মামুন (ইউনাইটেড হাসপাতাল, আমিনা ইয়াসমিন (৪০) (এ্যাপোলো হাসপাতাল), আবদুল্লাহ ফারুক (ঢাকা মেডিকেল), মাকসুদুর (৬৬) ও মনির (৫০)। পরবর্তীতে ওই ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া বাকিদের নাম জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে বনানীর ১৭ নম্বর রোডের ওই ভবনটির ৯ তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। এছাড়াও ল্যাডার ইউনিট (বহুতল ভবন থেকে উদ্ধারকারী সিঁড়ি) ও মোটরসাইকেল ইউনিটও উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী কর্মীরা ভেতরে অবস্থান করছেন।
ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন এখনও পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান।

বনানীতে আগুনে নিহতদের তালিকা
আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয় এমপি আকবর হোসেন পাঠান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করেছেন। জানা গেছে, ভবনটিতে দ্যা ওয়েভ গ্রুপ, হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড ছাড়াও অর্ধশতাধিক অফিস রয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ইউনাইটেড হাসপাতালে ৩ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ জন এবং ঘটনাস্থলে ১৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ জন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দিলীপ কুমার ঘোষ। প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।


দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। ভবনে কেউ জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় আটকা পড়ে আছে কি না-তা অনুসন্ধানে উদ্ধার টিম কাজ করছে। 
তবে বনানীতে এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৭ জনের মরদেহ শনাক্ত করেছে পুলিশ ও আত্মীয় স্বজনরা। আগুনে নিহতরা হলেন, পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), মামুন (৩৬), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মনির (৫০), মাকসুদুর (৩৬) ও নিরস ভিগ্নে রাজা (৪০)। 
পারভেজ সাজ্জাদ গোপালগঞ্জের কাশয়ানির বালুগ্রামের নজরুল ইসলাম মৃধার ছেলে। মামুনের মৃত্যু হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে। তিনি এফ আর টাওয়ারে অবস্থিত রিজেন্ট এয়ারের কর্মকর্তা ছিলেন। দিনাজপুর সদরের বালিয়াকান্দির আবুল কাশেমের ছেলে তিনি। মনির ও মাকসুদুরেরও মৃত্যু হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে। পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার আলভগঞ্জ রোডের মিজানুর রহমানের ছেলে মাকসুদুর। মনিরের পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান নিরস ভিগ্নে রাজা (৪০)। কুর্মিটোলায় নিহত রাজা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং স্কেন ওয়েল লজিস্টিকসের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা গেছেন আমিনা ইয়াসমিন।


বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৩৯ জনকে। এছাড়া ইউনাইটেড হাসপাতালে ২০ জন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ জন এবং অ্যাপালো হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি রয়েছেন। 
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল ফারুককে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। রেজাউল আহমেদের (৩৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক। অপর আহত ব্যক্তি হলেন আবু হোসেন (৩৫)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেকজ) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ সংকর পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বনানীর ১৭ নম্বর রোডে এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাশের ভবনে থাকা দুরন্ত টিভির সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, একজন দঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঠিকমতো ধরতে না পারায় অনেক ওপর থেকেই সরাসরি মাটিতে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া ভবনের ভেতর এখনও আটকা আছেন অনেকে। তারা ভেতর থেকে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। ভবনটির ভেতর থেকে এক নারী বলছিলেন, সিঁড়ি না পাঠালে মারা যাবো, দ্রুত সিঁড়ি পাঠান। আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। 
এফ আর টাওয়ারের ১৪-তলার একটি প্রপার্টিজ অফিসের কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন  বলেন, আগুনের খবর পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করি। কিন্তু ততক্ষণে সিঁড়িতেও দেখি ধোঁয়া। পরে ১৪-তলা থেকে ছাদে গিয়ে পাশের আওয়াল সেন্টারে চলে যাই। সেখান থেকে নেমে আসি। আমি এয়ারফোর্সের কমান্ডার অফিসার বলে আমার পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছে। তবে আমার সঙ্গে ছাদে থাকা আরও তিনজনকে দেখেছি, তারা পাশের ভবন পার হতে পারেননি।
উদ্ধারকর্মী আকরাম হোসেন বলেন, ভবনের ৮-তলা থেকে একটি মেয়ে তাকে ধরে ধরে নামার চেষ্টা করছিলেন। তখন হাত ফসকে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর আরও দুইজন পুরুষ পড়ে যান। আমি নিজে এই তিনজনকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছি। মেয়েটার পুরো শরীরে কাচ লেগেছিল। তিনি পাশের ডেল্টা ঢালাই টাওয়ারে নগর নামে একটি অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।  
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং) সিদ্দিক মো. জুলফিকার আহমেদ জানান, এফ আর টাওয়ারে লাগা আগুন ৯৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন। ভেতরে টেম্পারেচার হাই হওয়ার কারণে কিছু জায়গায় আগুন জ্বলছে। ২২-তলা এই বিল্ডিংয়ে ফায়ার ফাইটিংয়ের নিজস্ব কোনও ক্যাপাসিটি নেই। বিল্ডিংগুলোতে যতদিন পর্যন্ত আগুন নির্বাপণের নিজস্ব সক্ষমতা না থাকবে, ততদিন এধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আর এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও বাড়তেই থাকবে।
ফায়ার সার্ভিস পরিচালক বলেন, ৫-৭টি ফ্লোর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯-১০তলা থেকে শুরু করে উপরে দিকের ফ্লোরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তিনি বলেন, কী কারণে আগুন লেগেছে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে একটুকু বলতে পারি, এ ধরনের বিল্ডিংয়ে সাধারণত ইলেক্ট্রিসিটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবন তৈরির সময় ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা হয়। যে কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।


সিদ্দিক মো. জুলফিকার আহমেদ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আগুন লাগার কারণ এবং করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করবো। এ ধরনের অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। আর ছাড় দেওয়া যাবে না।
বনানী থানার ডিউটি অফিসার রকিবুল জানান, আগুনের কারণে নতুন বাজার থেকে গুলশান-২ হয়ে বনানী এবং কাকলি থেকে বানানী পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব, বিমান ও নৌ বাহিনী এবং সেনা বাহিনীর সদস্যরা ভবনে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ জানান, বনানীর আগুন নেভাতে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার কাজ করছে। পাশাপাশি সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করেছেন।
অপরদিকে, রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK