মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯
Monday, 11 Mar, 2019 07:51:03 pm
No icon No icon No icon

ছাত্রলীগ ছাড়া সকল দলের ডাকসুর নির্বাচন বর্জন


ছাত্রলীগ ছাড়া সকল দলের ডাকসুর নির্বাচন বর্জন

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : অনিয়ম, কারচুপি, ভোটকেন্দ্রে বাধা, হামলার অভিযোগ তুলে হল থেকে ভোটকেন্দ্র সরিয়ে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ ছাড়া প্রায় সব সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর মধ্যে কয়েকটি সংগঠন মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সোমবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ফেডারেশন একসাথে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তারা একই সাথে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য থেকে সহসভাপতি প্রার্থী লিটন নন্দী এ ঘোষণা দেন। তবে ছাত্রলীগ দাবি করেছে, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হল থেকে ভোটকেন্দ্র সরানো, নিরপেক্ষ শিক্ষকদের দিয়ে পুনারায় ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দাবিতে ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন বর্জন করেছে ছাত্রদল। ঐদিন দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় জিএস-এজিএসসহ সব প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রলীগ ছাড়া সবক’টি প্যানেলের প্রার্থীদের ভোট বর্জন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু’র নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ, এরপর দুপুরে ভোট বর্জন করেন ছাত্রলীগ ছাড়া সবক’টি প্যানেলের প্রার্থীরা। একইসাথে  তারা ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এসময় তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তারা বলেন, প্রহসনের নির্বাচন ছাত্রসমাজ মানে না। এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন, যে ভিসি ছাত্রলীগের সেই ভিসি চাই না। ডাকসু নির্বাচনে প্রগতিশীল জোট ও স্বতন্ত্র জোটের নেতাকর্মীরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করে। এর আগে বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী, কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও ভিপি প্রার্থী নূরুল হক নূর ও স্বতন্ত্র জোটের ভিপি পার্থী অরণি সেমন্তি খান তাদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া, রোকেয়া হল ও মুহসিন হলেও হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে কুয়েক মৈত্রী হল, সূর্যসেন হল ও রোকেয়া হলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।
অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের: ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত আতায়ে রাব্বী-মাহমুদ-শরীয়ত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এস এম আতায়ে রাব্বী ও জিএস প্রার্থী মাহমুদুল হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে ডাকসু নির্বাচনের ভোট বর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ছাত্রলীগ ছাড়া প্রায় সব ছাত্র সংগঠনের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার পর দুপুর আড়াইটা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তার তাদের সমর্থকরা। ভিসির পদত্যাগ ও ফের ডাকসু নির্বাচন চেয়ে তারা সেখানে অবস্থান নেন। অবস্থান নেয়া ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে-জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, কোটা আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট।  পরে তাদের সাথে যোগ দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করেছে ছাত্রলীগ। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের আনীত অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার মধুর  ক্যান্টিনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তিনি বলেন, অনেকে নতুন করে ভোটের কথা বলছেন। এটা হাস্যকর। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিবেচনা করতে চাইলে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে, তাই আমরা নিয়ম মেনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিলে মেনে নেবো। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে নির্বাচন পরবর্তী জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ছাত্রলীগ প্যানেলের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী সাদ্দাম হোসেনসহ সব প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় কুয়েত মৈত্রী হল থেকে উদ্ধার করা সিলমারা ব্যালট আসল নয় দাবি করে ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, কুয়েত মৈত্রী হলে যে ব্যালট পাওয়া গেছে, তার সাথে আসল ব্যালটের মিল নেই। ২৮ বছর পর যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একটি মহল কাজ করছে। শোভন বলেন, যারা নতুন করে ভোটের কথা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি দাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮টি হল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুইটি হলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রোকেয়া হলে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ভর্তি বাক্স পাওয়া যায়নি। কিন্তু নুরু, স্বতন্ত্র প্রার্থী জোট, লিটন নন্দীরা এবং ছাত্রদল এরা সবাই একজোট হয়েছে। তারা সবাই একত্রিত হয়েছে। তারই ফল আজকের এই ঘটনা। আর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে ভালোবাসে। তাই ছাত্রলীগকে ঠেকানোর জন্য তারা সবাই একজোট হবে, সেটা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সকাল থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়েছে ভোট দেওয়ার জন্য। সবাই ছাত্রলীগকে ভালোবেসে গ্রহণ করেছে। তাই ছাত্রলীগকে ঠেকানোর জন্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবিব শামীম বলেন, ২৮ বছর পর হওয়া এ ভোট নিয়ে মানুষের অনেক আশা ছিল। তবে সেই আশা পূরণ করতে পারেনি প্রশাসন। ভোট সুষ্ঠু হয়নি। এই ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট আয়োজন করতে হবে। অপরদিকে ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল বলেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা পুনরায় ভোটের দাবি জানাচ্ছি।
নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি উপাচার্যের: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি করেছেন তিনি। এছাড়া কুয়েত-মৈত্রী হলের ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছে। সকাল থেকেই এ ভোটগ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভোট দিয়েছেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দৃষ্টান্ত বলেও উলে­খ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা: নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান। পরে তিনজন শিক্ষার্থী তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রোকেয়া হল থেকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বের হওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। সোমবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে স্বতন্ত্র ও বামজোটের বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল থেকে এক বস্তা সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়। শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এরপর পুনরায় বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ভোট শুরু হয়। এছাড়াও রোকেয়া হল, সূর্য সেন হলসহ আরও কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ আনে সাধারণ শিক্ষার্থী, বামজোট প্যানেল ও কোটা আন্দোলন প্যানেল। অনিয়ম এনে দুপুরে তারা ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় রোকেয়া হল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যালট নিয়ে প্রতিবাদ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে ওই হলেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান আসেন। তিনি কেন্দ্রের অন্যান্য শিক্ষকের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি তোপের মুখে পড়েন। ভিপি প্রার্থী নূরের ওপর হামলা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কোটা আন্দোলন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নূরুল হক নুরের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরের দিকে রোকেয়া হলে তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মুহসীন হলে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK