শনিবার, ১৮ মে ২০১৯
Monday, 25 Feb, 2019 08:55:47 pm
No icon No icon No icon

বিমান ছিনতাইকারী পলাশের স্ত্রী চিত্র নায়িকা সিমলা

//

বিমান ছিনতাইকারী পলাশের স্ত্রী চিত্র নায়িকা সিমলা

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই চেষ্টাকালে নিহত যুবকের আসল নাম পলাশ মাহমুদ (২৪)। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে। পলাশ চিত্রনায়িকা সিমলার স্বামী বলে জানিয়েছে তার পরিবার। বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী নিহত মাহমুদ পলাশের মরদেহ গ্রহণ ও দাফন করতে আপত্তি জানিয়েছেন তার বাবা পিয়ার জাহান। সোমবার সকালে পলাশের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পলাশের নিহতের ঘটনার সংবাদে শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছে। পলাশের ছবি নিয়ে তার বাবা পিয়ার জাহান ও মা রীনা বেগম শোকে কাতর। পলাশের বাড়িতে ১১টি ঘর। তারই একটিতে বসে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় বাবা পিয়ার জাহানের। এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পলাশ তার একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে জান্নাত নামে চার বছরের আরেকটি মেয়ে আছে।
পিয়ার জাহান বলেন, ১৯৯০ সালে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি ইরাক চলে যান। সেখানে চার বছর থাকার পর দেশে ফিরে আসেন। পরে তিনি আবার সৌদি আরব চলে যান। ২০১২ সালে তিনি দেশে ফেরেন।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ছেলে পলাশ মাহমুদ তাহেরপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে ২০১২ সালে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে পাস করে। দাখিল পাস করে সে সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে পড়া অবস্থায় সে ঢাকায় চলে যায়। তারপর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। শুনেছি পলাশ নাকি ঢাকায় চলচ্চিত্রে কাজ করার চেষ্টা করছিল। তখন বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। মাঝে মাঝে বাড়িতে এলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশত না, কথা বলত না।
পিয়ার জাহান বলেন, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে চিত্রনায়িকা সিমলাকে নিয়ে রাতের বেলা বাড়িতে আসে পলাশ। মেয়েটিকে চিত্রনায়িকা ও তার প্রেমিকা বলে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। দুই মাস পর আবার সিমলাকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। বিয়ের কথা সিমলাও আমাদের কাছে স্বীকার করে। ওই রাতেই তারা আবার ঢাকায় চলে যায়।
তিনি বলেন, আমরা সিমলাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তাকে বলেছি আমার ছেলেকে যেন ভালো পথে ফিরিয়ে আনে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেটি অবাধ্য ছিল।
সর্বশেষ ২০-২৫ দিন আগে পলাশ বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর তার আচরণে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করে, মসজিদে গিয়ে আজানও দিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে বলেছে সে কাজের সন্ধানে দুবাই যাবে।
সোনারগাঁ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহতের ছবি রোববার রাত ১টার দিকে দুধঘাটা গ্রামের পিয়ার জাহানের বাড়িতে নিয়ে দেখালে তারা ছবিটি পলাশের বলে নিশ্চিত করে। তবে যতটুকু খবর নিয়েছি পলাশ নেশাগ্রস্ত ছিল। আর নেশার কারণেই বিমান ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য অপরাধ করেছে সে।
সিভিল এভিয়েশন সচিব মহিবুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, নায়িকা শিমলার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ওই যুবক এ বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। এ বিষয়ে চিত্রনায়িকা শিমলার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 
এদিকে, পুলিশের ক্রিমিনাল ডাটাবেজে এই পলাশ আহমেদের নাম থাকলেও, জানা যায় সে ঢাকায় বিভিন্ন নাটক, মিউজিক ভিডিও তৈরী করতো। এমন একজন অপরাধীর সাথে নায়িকা শিমলার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মিডিয়াতে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও অনেক দিন ধরেই চলচ্চিত্র জগত থেকে লাপাত্তা শিমলা। সর্বশেষ থেকে দুই বছর আগে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে এফডিসি পাড়ায় দেখা গিয়েছিলো। এরপর আর তাকে ক্যামেরার সামনে দেখেনি কেউ।
অপরদিকে, বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ মাহমুদ ওরফে মাহাদীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সুমন মুৎসুদ্দী। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, আমাদের এখানে দুপুর ১২টায় শুরু করে আমরা তার (পলাশ মাহমুদ) ময়নাতদন্ত শেষ করেছি। ময়নাতদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সুমন মুৎসুদ্দী বলেন, এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা ছাড়া আমরা কিছু বলি না। এ বিষয়ে বাইন্ডিংস আমাদের আছে, আমরা বলতে পারি না।
তবে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী নিহত পলাশ মাহমুদের মরদেহ গ্রহণ ও দাফন করতে আপত্তি জানিয়েছেন তার বাবা পিয়ার জাহান। তিনি বলেন, পলাশ দেশ ও জাতির কলঙ্ক, সে আমার সন্তান হতে পারে না। এমন সন্তানের বাবা হিসেবে পরিচয় দিতে আমার লজ্জা হচ্ছে। যে সন্তান অনেক আগেই বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়েছে সেই সন্তানের বাবা হিসেবে আমার বলার কিছুই নেই। কলঙ্কিত ছেলের লাশ আমি গ্রহণ করতে চাই না, আমার হাত দিয়ে কলঙ্কিত সন্তানের লাশ দাফন করতেও চাই না।
অপর একটি সূত্র জানায়, পলাশ মাহমুদ ওরফে মাহাদী সাত বছর আগে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের মামলায় ২০ দিন কারাগারে ছিল। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাবের সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২২ ফেব্রæয়ারি দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে পলাশ মাহমুদ ওরফে মাহাদীর নামে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৪। ওই বছরের ২৮ মার্চ র‌্যাব তাকে গ্রেফতারের পর অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় নেমরা মারমা নামে পলাশের এক  সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাবের পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া ) মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আমরা তার প্রিভিয়াস ক্রিমিনাল রেকর্ড খতিয়ে দেখছি। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, অপহরণের ওই ঘটনায় পলাশ আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে ভিকটিমের পরিবার তখন অভিযোগ করে। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার এবং এক সহযোগীসহ পলাশকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুবাইগামী বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি এক ‘অস্ত্রধারী’ যুবক ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পরে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী ওই অস্ত্রধারীকে ধরতে কমান্ডো অভিযান পরিচালিত হয়। এরপর ছিনতাইকারীর নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে রুদ্ধশ্বাস এই অভিযান শেষ হয়। ফ্লাইটটিতে ১৩৪ জন যাত্রী ও ১৪ জন ক্রু ছিল। কাল পর্যন্ত জানা যাচ্ছিল ওই যুবকের নাম মাহাদী। তবে র‌্যাব আজ জানাল তার নাম পলাশ আহমেদ ওরফে পলাশ মাহমুদ।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK