শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮
Wednesday, 10 Oct, 2018 12:51:39 am
No icon No icon No icon

সাইবার অপরাধ রোধে হচ্ছে ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’


সাইবার অপরাধ রোধে হচ্ছে ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: সাইবার অপরাধ বাড়ছে, কিন্তু সে হারে এই অপরাধ দমনে নেই জনবল। নেই আলাদা ইউনিট। দেশে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে গুজব। আর সেই গুজবে কখনো কখনো সহিংসতার মতো ঘটনাও ঘটছে। অবশ্য এই গুজব প্রতিরোধে মনোযোগী হয়েছে সরকার।তাইতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে করতে ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ নামে একটি আলাদা ইউনিট হচ্ছে। এই ইউনিটের ফাইল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করলেই সেটি চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।পুলিশে এখন প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অপরাধের মামলার পাশাপাশি সাইবার মামলার সংখ্যা বাড়ছে। আর এসব মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। তারা অন্যান্য মামলার জন্য এসব মামলার তদন্তে তেমন গতি আনতে পারছেন না। এতে বছরের পর বছর এসব সাইবার অপারাধ মামলার তদন্ত ঝুলে আছে। এবার সেই মামলার তদন্তে গতি আনবে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো। এমনটাই মনে করছেন আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে খুব সহজেই সাইবার অপরাধীকে খুঁজে বের করাসহ তদন্তের কাজ করা যাবে। চার্জশিট খুব অল্প সময়ে দেওয়া যাবে। আলাদা এ ইউনিটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোসহ যেকোনো ধরনের সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। দেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বাস্তবায়ন হলে সাইবার অপরাধ কিছু হলেও হ্রাস পাবে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সরকার সাইবার ক্রাইমকে অন্যতম হুমকি বিবেচনা করে পুলিশে ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ গঠন করা করছে। এ সংক্রান্ত আলোচনাও হয়েছে জাতীয় সংসদে। এবার সেই ইউনিটের জন্য জনবল চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রথম দিকে এই ইউনিট গঠনের জন্য ৫৮৫টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে, পরে তা কমিয়ে করা হয় ৩৬৯টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব। সর্বশেষ এটি করা হয়েছে ৩৪২ জন। এর মধ্যে রয়েছে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ১টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২টি, পুলিশ সুপার (এসপি) ৩টি, অতিরিক্ত এসপি ৬টি, সহকারী এসপি ১৯টি, পরিদর্শক ৬৫টি, উপপরিদর্শক (এসআই) (নিরস্ত্র) ১৩০টি, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ৩৯টি ও কনস্টেবলের ৭০টিসহ বিভিন্ন পদ।
এই ৩৪২টি পদ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় অনু শাখায় রয়েছে। সেই প্রস্তাবটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রধানমন্ত্রী সেই ফাইলে সই করলেই তা চূড়ান্ত হবে এবং এর কার্যক্রম শুরু হবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সূত্র জানায়, এই ইউনিটের অফিস হবে বর্তমানে রাজধানীর মালিবাগস্থ সিআইডির কার্যালয়ের ভেতরে। সেখান থেকেই এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সিআইডি কার্যালয়ে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেটিভের অর্থায়নে এটি নির্মাণ করতে ২৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেন্টার হবে এটি। সিআইডির ভেতরে যে অফিস হবে, সেটিই মূলত সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করবে। এ বছরের মধ্যেই সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে।
পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, পৃথিবীর যেসব শহরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি, তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ব্যাংকক। এরপরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে পৌনে ৭ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াই কোটি। দেশে সাইবার অপরাধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই ধরনের অপরাধের শিকার মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ মামলার আশ্রয় নেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, এই ইউনিটে ৩৪২ জন থাকবে। বিষয়টির অনুমোদন চূড়ান্ত করার জন্য ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি সই করলেই সব চূড়ান্ত হবে এবং কার্যক্রম শুরু করা যাবে। বর্তমানের সিআইডিতে প্রায় শতাধিক আইসিটি মামলা রয়েছে। সেসব মামলার তদন্ত করছে সিআইডির বিভিন্ন কর্মকর্তারা। তারা নতুন এই বিশেষ ইউনিটে যুক্ত হবেন এবং নতুন করে আরও কিছু জনবল নিযুক্ত করা হবে।তিনি জানান, ইউনিটটি আলাদাভাবে তাদের তদন্ত কার্যক্রম চালাবেন। দেশজুড়ে গুজব প্রতিরোধে বিভিন্ন মামলার জট খুলে অল্প সময়ে তদন্তের জন্যই এই আদালা ইউনিট।  অবশ্য শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, পর্যায়ক্রমে এর কার্যক্রম বা সাব অফিস জেলা পর্যায়েও করার প্রস্তাব করা হবে বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।
সিআইডির মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র এএসপি শারমিন জাহান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি ফাইল এসেছে। সেটি কোনো ল্যাব নয়, পুরোপুরি একটি সাইবার ইউনিট হচ্ছে। যেখানে জনবল থাকবে।অবশ্য এর কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি বলে জানান তিনি।
পুলিশের সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, প্রস্তাবটি সচিব কমিটিতে আছে। সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারা অনুমোদন দিলেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ ধরনের অপরাধ সংগঠিত হলে প্রচলিত আইসিটি অ্যাক্ট ও সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আলোকে সাইবার ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করবে।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইবার ক্রাইমকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো চালু হলে আমাদের ওইসব অপরাধ তদন্তের কাজে গতিশীলতা বাড়বে।’

সূত্র: প্রিয় ডটকম।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK