সোমবার, ২১ মে ২০১৮
Sunday, 13 May, 2018 08:52:15 pm
No icon No icon No icon

সিটি নির্বাচন ইসি’র ‘অগ্নি পরীক্ষা’


সিটি নির্বাচন ইসি’র ‘অগ্নি পরীক্ষা’


টাইমস ২৪ ডটনেট, খুলনা থেকে : নির্বাচনের ভোট যুদ্ধ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা না থাকলেও পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এখন শুধু রাত পোহানোর অপেক্ষা। এ উপলক্ষে সেখানে সাধারণ ছুটি থাকছে মঙ্গলবার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। পর্যাপ্ত পরিমাণ র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যও নামানো হয়েছে। রোববার মধ্যরাতেই শেষ হয়েছে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। একই সঙ্গে বন্ধ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচল। সূত্র জানায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোতায়েন করা হবে পুলিশ ও এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের ৩১টি মোবাইল ও ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৩২টি টিম ও ১৬ প্লাটুন বিজিবি
সূত্র জানায়, রাজনীতির মনোযোগ এখন দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী খুলনা সিটির নির্বাচনের দিকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রতীকের বড় নির্বাচন এটি। এই নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হবে না বটে, গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে আগামীর রাজনীতিতে। ভোটে কারচুপি হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠবে! তাই উভয় দলর জন্যই নিজেদের মর্যাদা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ করার চাপ আছে।
দুই রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ দেখা যায়, ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনে এক লাখ ৫৮ হাজার ভোট পেয়ে প্রায় ২৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তালুকদার আবদুল খালেক। তবে, ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে মনির কাছেই পরাজিত হন খালেক। অবশ্য পরের বছর বাগেরহাটের রামপাল থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। আর ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির সময়ও বর্তমান সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানকে পরাজিত করেছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বর্তমানে তিনি খুলনা মহানগর কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে এই খুলনার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত নেতা অ্যাডভোকেট শেখ তৈয়েবুর রহমান। বিভক্তি আছে দুই দলেরই। খুলনায় এক সময় বিএনপিতে আলী আসগর লবী এবং নজরুল ইসলাম মঞ্জু গ্রুপ সক্রিয় ছিল। পরবর্তী সময়ে জেলার সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় মহানগর নেতাদের। বিএনপির রাজনীতিতে মঞ্জু এবং মনা দুই গ্রুপে বিভক্ত। অন্যদিকে, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এবং সাধারণ সম্পাদক বর্তমান সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানও দুই গ্রুপে বিভক্ত। অবশ্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবাই ঐক্যবদ্ধ এমন দাবি দুই দলেরই নেতাদের। জলাবদ্ধতা এবং যানজটমুক্ত, গ্রিন-ক্লিন নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি থাকে নির্বাচন এলে। কিন্তু এর কোনো বাস্তবায়ন হয় না। এবারেও ব্যতিক্রম নয়। আছে শহরের অটোরিকশার দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করে যানজট নিরসন করার প্রতিশ্রুতিও। খুলনা সিটিতে এবার ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন।  প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন প্রায় ৫২ হাজার ভোটার। এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ভাবা হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই অনিয়মিত বেতন-ভাতার কারণে খালিশপুর এবং দৌলতুপুরের পাটকল শ্রমিক বিক্ষুব্ধ। প্রায় ৪০ হাজার পাটকল শ্রমিকের ভোট আছে সেখানে। ফলে এবার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিক ইস্যুটি। এ ছাড়া সুংখ্যালঘু ভোট, আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ভোটও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনে মাঠে নানা হিসাব-নিকাশ থাকবেই। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কতটা প্রস্তুত? আগামীতে সব দলের অংশ গ্রহণের নির্বাচন করতে চায় সরকার এ কথা শুধু মুখে নয়, কাজে দেখতে চায় দেশের মানুষ। এ ক্ষেত্রে খুলনার নির্বাচন একটি ছোট উদাহরণ হতে পারে সবার সামনে।
ইসি সূত্র জানায়, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুইটি ওয়ার্ডের দুইটি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রগুলো হল- খুলনার সোনা পোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০৬ নম্বর কেন্দ্র) এবং পিটিআই এর জসিমউদ্দীন হোস্টেল (২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে)।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ৩১টি সাধারণ এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশন। ৩১টি ওয়ার্ডে ২৮৯টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৫৬১টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও অস্থায়ী বুথ থাকবে ৫৫টি। এ সিটিতে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন পুরুষ ও ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন মহিলা ভোট রয়েছে।
জানা গেছে, ১/১১ এর এটিএম শামসুল হুদা কমিশন স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএমের প্রচলন ঘটান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহায়তায় প্রথমে ২০১০ সালে ৫৩০ ইভিএম মেশিন কেনা হয়। নির্বাচনে ব্যবহার করতে গিয়ে দেশের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুত করা ইভিএমে নানা যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে ২০১১ সালে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) প্রস্তুত করা ৭০০ ইভিএম কেনা হয়। সেগুলোও পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিলনা।
সূত্র জানায়, খানজাহান আলী থানাধীন ২নং ওয়ার্ডের ১১ ও ১৩ নম্বর কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৯ ও ১২ নম্বর কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ নয়। খালিশপুর থানাধীন ৭ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
সোনাডাঙ্গা থানাধীন ১৬ থেকে ২০ নম্বর ও ২৫-২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২০টি কেন্দ্র সাধারণ ও ৬০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। খুলনা সদর থানাধীন ২১-২৪ ও ২৭-৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৯টি সাধারণ। লবণচরা থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও চারটি সাধারণ ভোট কেন্দ্র।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK