সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Saturday, 17 Mar, 2018 07:57:02 pm
No icon No icon No icon
নেপালের ত্রিভুনে ইউএস-বাংলা বিমান বিধস্ত

শনাক্ত ২৫ জনের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি


শনাক্ত ২৫ জনের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধস্তের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি, ১০ জন নেপালি ও ১ জন চীনা। তাদের তালিকা শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দেয়া হয়েছে। দেশে লাশ আসার খবর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও একজনকে গতকাল শনিবার দেশে আনা হয়েছে। তার নাম শেখ রাশেদ রুবায়েত। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে আহত পাঁচজনকে দেশে আনা হলো। দেশে ফেরা আহতদের চিকিৎসায় ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে ১৪ বাংলাদেশির মরদেহ শনাক্তের কথা জানিয়েছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের পাঁচ দিন পর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে এসব মরদেহ তাদের উপস্থিত নিকট স্বজনদের দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের পক্ষ থেকে মরদেহগুলোর নাম প্রকাশ করেন নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভারসিটি টিচার্স হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান প্রমোদ শ্রেষ্ঠা। এসময় বাংলাদেশি মেডিকেল টিম এর সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, মোট ২৫টি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি, ১০ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক। নেপালি ও চীনা নাগরিকের মরদেহ স্বজনদের দেখানোর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও জানানো হয়। পরে বাংলাদেশিদের মরদেহের তালিকা পরে শুনান ডা. সোহেল মাহমুদ।
শনাক্ত হওয়া নিহত বাংলাদেশিরা হচ্ছেন, অনিরুদ্ধ জামান, তাহিরা তানভীন শশী, মিনহাজ বিন নাসির, রাকিবুল হাসান, মতিউর রহমান, রফিক উজ জামান, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, আকতার বেগম, হাসান ইমাম, এসএম মাহমুদুর রহমান, বিলকিস আরা, বিমানটির পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ ও কেবিন ক্রু খাজা সাইফুল্লাহ। 
ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, নেপালি ও চীনা নাগরিকের মরদেহ স্বজনরা গ্রহণ করার পর বাংলাদেশিরা মরদেহ দেখার সুযোগ পাবেন। হতাহত ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ শনাক্ত সম্ভব হয়েছে। নিহত অপর ১২ বাংলাদেশির লাশ শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট লাগবে। আর আহত ১০ জন নেপাল, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনাক্ত হওয়া তালিকায় রফিকুজ্জামান ও তার ছেলে অনিরুদ্ধের নাম থাকলেও তার স্ত্রী সানজিদা হকের নাম নেই। একইভাবে বৈশাখী টেলিভিশনের রিপোর্টার আহমেদ ফয়সালের নামও পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল শনিবার মরদেহের তালিকা দেওয়া হবে শুনে সারাদিন হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন অপেক্ষমাণ স্বজনরা। সাংবাদিক সম্মেলনের সময় তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও একজনকে গতকাল দেশে আনা হয়েছে। তার নাম শেখ রাশেদ রুবায়েত। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে আহত পাঁচজনকে দেশে আনা হলো।
অপরদিকে, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার জন্য ১৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনকে। গতকাল শনিবার হাসপাতালটির প্রশাসনিক বøকের সভাকক্ষে মেডিকেল বোর্ডটি গঠন করা হয়। এরপর সাংবাদিকদের বোর্ড গঠনের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আহতরা শারীরিকভাবে আশঙ্কামুক্ত হলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই মেডিকেল বোর্ডে মানসিক চিকিৎসক রাখা হয়েছে। ডা. আজাদ বলেন, এখন থেকে যত দিন পর্যন্ত আমরা রোগীদের চিকিৎসা দেব, তত দিন পর্যন্ত তারা (বোর্ডের চিকিৎসকরা) একসাথে পরামর্শ করে সবকিছু ঠিকঠাক করবেন। ত্রিভুবনে দুর্ঘটনায় আহত ১০ যাত্রীর মধ্যে ৫ জন এখন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন-শাহরিন আহমেদ, মেহেদী হাসান, সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা, আলমুন নাহার অ্যানি ও শেখ রাশেদ রুবায়েত। আজ রোববার কবির হোসেন ও মো. শাহীন বেপারি নামের দুজনকে ঢাকায় আনা হবে বলে জানান ডা. আজাদ।
মেডিকেল বোর্ড গঠনের কারণ সম্পর্কে ডা. আজাদ বলেন, রোগীদের এখন যে অবস্থা তাতে মেডিকেল বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনোযোগ দেওয়ার জন্য তা গঠন করা হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনকে তার পরিবার দিল্লিতে নিয়ে চিকিৎসা করাবেন বলে জানান ডা. আজাদ। তাই তাকে তারা দিল্লি নিয়ে যাচ্ছে। আহত আরেকজনকে নেপালেই চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। সেখানে বাংলাদেশের চিকিৎসকও থাকবেন। ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য ওই রাতে বাংলাদেশ থেকে সাতজন চিকিৎসকের একটি দল যায় নেপাল। তারা এখন সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানান ডা. আজাদ।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম দৈনিক জনতাকে বলেন, আগামী ১৯ মার্চ সোমবারের পর বলা যাবে-মরদেহগুলো কবে আসবে। তিনি বলেন, নেপালের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলোর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। পরে পুলিশ নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দিলে দূতাবাস বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। পরে বাংলাদেশের পুলিশের কাছ থেকে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যা সম্পন্ন করতে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।

ইউএস -বাংলা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শনিবার ২৩ জনের মরদেহ শনাক্তের তালিকা দেওয়া হয়
এছাড়াও নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যা প্রিয়ংময়ীর পরিবারের প্রতি গতকাল শনিবার ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের সমবেদনা জানিয়েছেন। শনিবার দুপুর দেড়টায় ফারুক হোসেন প্রিয়কের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার স্বজনদের কাছে সমবেদনা জানান কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক এয়ার কমান্ডার (অব.) মো. গোলাম তাওহীদ।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্ধার সরঞ্জাম প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল। বিমান দুর্ঘটনা পরবর্তী উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, যথাযথ সরঞ্জাম পাওয়া গেলে অনেক যাত্রীরই জীবন বাঁচানো যেত।
বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে জড়িত এক দমকল কর্মী বলেন, দুর্ঘটনার পর ২২ জনকে বিমানের এমন জায়গা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, বিমানের যেদিকটাই তখনো আগুন ধরেনি। যেদিকটাই আগুন লাগে সেদিকে যাওয়ার মতো উপযুক্ত সরঞ্জাম তাদের ছিলই না। এমনকি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি আগুন নির্বাপনের পোশাক না থাকায় আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করে থাকতে হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিয়মনুযায়ী যে কোনো বিমান দুর্ঘটনার তিন মিনিটের মধ্যে যথাযথ সরঞ্জাম সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। ত্রিভুবনে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার পর যেটা পরিলক্ষিত হয়নি বলে জানা গেছে।

নিহত ১৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত
এদিকে উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত কাজে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলেছে, এ দুর্ঘটনায় নিহত ৫১ জনের মধ্যে বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে। অন্যদিকে এক উদ্ধারকারী বলেন, তাদেরকেই বাঁচানো সম্ভব হয়েছে, যারা ভাগ্যক্রমে আগুন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
নেপালের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএএন) কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, উদ্ধারকারীদের জন্য শুধু অগ্নিনির্বাপক পোশাক (স্যুট) ইস্যু করা হয়েছে, যা ওইদিনের দুর্ঘটনার জন্য যথেষ্ট ছিল না। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানের যেখানে আগুন ছিল, সেখানে যাওয়ার মতো পোশাক ও সরঞ্জাম ছিল না। থাকলে উদ্ধারকারীরা আরো মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পারতো।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ঢাকার হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাওয়া ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ ৭১ জন আরোহী ছিলেন ওই ফ্লাইটে। 

 

    

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK