শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Tuesday, 13 Mar, 2018 12:45:16 am
No icon No icon No icon

কাঠমাণ্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় দায় কার? (ভিডিও সহ)


কাঠমাণ্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় দায় কার? (ভিডিও সহ)


টাইমস ২৪ ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (টিআইএ) এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের ভুল নির্দেশনার কারণেই বিএস-২২১ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়েছে সন্দেহ করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার বারিধারায় নিজস্ব কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানান, ‘আমাদের কাছে যে ইনফরমেশন এসেছে, এটা আপনারা ইউটিউবে গেলেই পাবেন। ইউটিউবে একটা এটিসি কনভার্সেশনের ক্লিপ এসেছে। আমাদের পাইলটদের সঙ্গে নেপালের কাঠমাণ্ডুর এটিসি টাওয়ারের সঙ্গে ল্যান্ডিংয়ের আগের একটি কনভার্সেশন। আপনারা শুনলে বুঝবেন, এখানে টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কমিউনিকেশনে এটিসির পক্ষ থেকে একটা ভুল বার্তা দেয়ার, গাফেলতি হওয়ার টেন্ডেন্সি দেখা যাচ্ছে। আমরা এটাকে ইনভেস্টিগেট করছি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি যে কাঠমাণ্ডু এটিসি টাওয়ারের পক্ষ থেকে গাফিলতি ছিল। তারা আমাদের পাইলটদেরকে ভুল বার্তা দেয়। সেকারণেই এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।’


ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স-এর সিইও বলেন,  ‘তাদের কথা হচ্ছিল পাইলট রানওয়ের কোন দিক দিয়ে ল্যান্ড করবেন। ৩ মিনিটের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে আমাদের পাইলটকে বিভিন্ন বার্তা দেয়া হয়েছে। এই বার্তার কনফিউশনের জন্য এই ‍দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছি আমরা।’ বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা- এই প্রশ্নের উত্তরে ইউএস বাংলার মুখপাত্র জানান, ‘অবশ্যই না। এই বিমানটির বয়স ১৬ বছর। এই মডেলের চারটি বিমান আছে আমাদের। ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান কিন্তু জীবিত আছেন। তিনি এক্স-এয়ারফোর্সের একজন পাইলট। তার ফ্লাইং আওয়ার পাঁচ হাজারের বেশি। এই এয়ারক্র্যাফ্টে উনি ১৭০০ ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করেছেন। উনি এই এয়ারক্র্যাফ্টের একজন ইন্সট্রাক্টর। এটিসি কনভার্সেশন শোনার পর আমাদের মনে হচ্ছে না, যে আমাদের বৈমানিকদের দিক থেকে কোনো গাফিলতি ছিলে।’

বিমান বিধ্বস্তে এ পর্যন্ত পাওয়া হতাহতের তালিকা
২০১৫ সালে এই একই বিমানের আরও একবার দুর্ঘটনার মুখে পড়ার পরও এটিকে নিয়মিতভাবে আকাশে ওড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ইউএস বাংলার বিরুদ্ধে। এ সম্পর্কে ইউএস বাংলার মুখপাত্র জানান, এটি সেই বিমানটি নয়। এটি একই মডেলের হলেও ভিন্ন একটি উড়োজাহাজ। এর আগে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (টিআইএ) জেনারেল ম্যানেজার রাজকুমার ছেট্রি গণমাধ্যমকে বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে ভুল পথে অবতরণের জন্য। যখন কন্ট্রোলরুম থেকে পাইলটের কাছে অবতরণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি বলেন যে সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু উত্তর দিকের পরিবর্তে উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে অবতরণের চেষ্টা করা হয়।

নেপালে বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্ত: দায় কার?
রাজকুমার ছেট্রি আর বলেন, ‘কন্ট্রোলরুমের পক্ষ থেকে পাইলটের কাছে আবারও জানতে চাওয়া হয় যে সবকিছু ঠিক থাকলে বিমানটিকে অবতরণ করাচ্ছেন না কেন? উত্তরে তিনি বলেন যে, সবকিছু ঠিক আছে এবং তিনি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।কিন্তু অবতরণের জন্য কন্ট্রোলরুমের নির্দেশিত পথে ছিল না বিমানটি। যখন এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়, তখন কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।’সোমবার দুপুরে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলার বিমানটি কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এতে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী।

 

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK