রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭
Tuesday, 05 Dec, 2017 07:04:37 pm
No icon No icon No icon
পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০, আটক ১৫

রাজধানীতে রণক্ষেত্র


রাজধানীতে রণক্ষেত্র


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : রাজধানীর হাইকোর্ট ক্রসিংয়ের সামনে, বঙ্গবাজার ও আবদুল গণি রোডে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকায় রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এসময় শতাধিক যানবাহন ভাংচুর ও মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বিএনপি সমর্থকরা। পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটে বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা শেষে গতকাল বেলা পৌনে ৩টার দিকে সচিবালয়ের সামনে আবদুল গণি রোডে, হাইকোর্ট ক্রসিংয়ের সামনে ও বঙ্গবাজার এলাকায় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা ধাওয়া দেয় এবং রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পুলিশের সাথে ছাত্রদল ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া পুরো এলাকায় রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সচিবালয়ের সামন দিয়ে বিএনপি কর্মীরা শিক্ষা ভবনের দিকের রাস্তায় আসার পথে হঠাৎ করে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে একদল বঙ্গবাজারের দিকে ও অপরদল উল্টো ঘুরে জিরো পয়েন্টের দিকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার পথে তারা ‘ভাঙ গাড়ি’ বলে চিৎকার করতে করতে পথ চলতি ও রাস্তার পাশে পার্ক করিয়ে রাখা সরকারি বেসরকারি শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। এসব গাড়ির সামনের অথবা পেছনের কাচগুলো ভাঙচুর করেছে তারা। এছাড়াও বঙ্গবাজার এলাকায় একটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় তারা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ লোকজন আরো জানান, খালেদা জিয়ার গাড়ি যাওয়ার পর ছাত্রদল কর্মীরা মিছিল করে আসছিল। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর ছাত্রদল কর্মীরা আবদুল গণি রোডে, হাইকোর্ট ক্রসিংয়ের সামনে ও বঙ্গবাজার এলাকার সড়কে চলে যায়। এসময় তারা শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যানবাহন ভাংচুর করে জিরো পয়েন্ট এলাকা পর্যন্ত। পরে পুলিশের ধাওয়ার মুখে ভাঙচুরকারী ছাত্রদল কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
গাড়ি ভাংচুরের প্রত্যক্ষদর্শী সিলেটের মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমানের গাড়িচালক আব্দুস সালাম বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে স্যার গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টায় সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। আমি গাড়ি নিয়ে নিচে অপেক্ষা করছিলাম। বেলা ৩টার দিকে এখানে ৫ শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে যায় এবং বৃষ্টির মতো ইট নিক্ষেপ করতে থাকে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপসচিব মো. রোকন উদ্দিনের গাড়িচালক মো. শাহজালাল বলেন, শিক্ষা ভবনের ওইদিক থেকে ৫০০ এর বেশি ছেলেপেলে এসে হট্টগোল-গাড়ি ভাংচুর শুরু করে। আমি গাড়ির ভেতরে ছিলাম। পরিস্থিতি দেখে দ্রæত ওই এলাকা ছেড়ে যাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) হাজিরা শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে বেলা তিনটার সময়ে আমরা ¯েøাগান দিয়ে আসছিলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে পুলিশ আমাদের উপরে হামলা চালায়। রয়েলের দাবি, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটে তাদের সংগঠনের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার এহসানুল ফেরদৌস বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু ছাত্রদলের ছেলেরা গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় আমরা কয়েকজনকে আটকও করেছি। তবে তাদের সংখ্যা এই মুহূর্তে আপনাদের বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, খালেদা জিয়ার আদালত থেকে ফেরার সময় সচল রাস্তা অচল করে অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাস্তা থেকে অবস্থান সরিয়ে নেয়ার কথা বললে তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল মারতে শুরু করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছোড়া হয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা বঙ্গবাজারের দিকে চলে যায়।
শাগবাগ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস জানান, পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর ও রাস্তা অবরোধ করে যানচলাচলে বিঘœ সৃষ্টির অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন আদালত থেকে ফেরার সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে অতির্কিতে তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে, লাঠিচার্জ করে এবং ধরপাকড়-গ্রেফতার করে। এর মধ্যে দিয়ে সরকারের ‘স্বৈরাচারী মনোভাব’ আবারও প্রকাশ পেল মন্তব্য করেন রিজভী। এছাড়াও খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে সরকার ফাঁদ পাতবে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তাতে পা না দিতে দলের নেতা-কর্মীদের স¤প্রতি নির্দেশনা দিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। 

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK