বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
Thursday, 30 Nov, 2017 10:25:53 am
No icon No icon No icon

পোপের বাংলাদেশে সফর


 পোপের বাংলাদেশে সফর


জিয়াউদ্দীন চৌধুরী (জেড সেলিম), বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশে আসছেন। তিনি ভ্যাটিকান বা হলি সিটির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতেও অংশ নেবেন।  ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোপকে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেখান থেকে বিকাল ৪টায় পোপ সাভারে গিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাবেন। সেখান থেকে বঙ্গভবনে গিয়ে পোপ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় পোপ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ভবনে সাক্ষাৎ করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে পোপ শুক্রবার সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খিস্ট্র ধর্মীয় উপাসনা ও যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি প্রায় ৮০ হাজার খ্রিস্টভক্তসহ লাখো মানুষের সমাবেশে বক্তৃতা করবেন। বেলা ৩টা ২০ মিনিটে পোপ ফ্রান্সিস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বিকাল ৪টায় তিনি কাকরাইলে চার্চে যাবেন।এছাড়া সফরের শেষদিন শনিবার সকাল ১০টায় পোপ তেজগাঁও মাদার তেরেসা হাউজে যাবেন। সেখানে খ্রিস্ট ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুর পৌনে ১২টায় হলি রোজারি চার্চে যাবেন। এরপর বেলা ৩টা ২০ মিনিটে মতিঝিলে নটর ডেম কলেজে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ওইদিন বিকাল ৫টায় পোপের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।এর আগে পোপ ফ্রান্সিসের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার ও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।  
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার ও স্থানীয় ক্যাথলিকমণ্ডলীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সফর করার কর্মসূচি গ্রহণ করায় আমি মহামান্য পোপের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার ও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
এদিকে পোপের আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা। সরকারের পাশাপাশি খ্রিস্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও পোপের সফরকে মসৃণ করতে চলছে নানা রকম প্রস্তুতি।
অপর একটি সূত্রে জানা যায়, পোপ ইতোমধ্যে মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ওই দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন।বাংলাদেশে তার আগমন রোহিঙ্গা ইস্যু কেন্দ্র করে নয়।তবে বিষয়টি অবশ্যই উত্থাপিত হবে। অনেক আগে সফরসূচী তৈরি হওয়ায় পোপের পক্ষে কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাত দেয়া সম্ভব না হলেও কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা ঢাকায় এনে পোপের সঙ্গে সাক্ষাত করিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তাছাড়া তিনি ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে কথা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য হৃদয় দুয়ার খুলে দিয়েছেন।তার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরও যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে সেই বিষয়টি আমরাও অবশ্যই প্রত্যাশা করব।কেননা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পোপের সঙ্গেই ৭০ জন সাংবাদিক আসছেন।আর বিভিন্ন দেশের ২০০ সাংবাদিক এর পাশাপাশি আসার জন্য আবেদন করেছেন। জানান কার্ডিনাল।

বাংলাদেশে সফরকালে পোপের তিনদিনের কর্মসূচী সম্পর্কে জানা যায়,৩০ নবেম্বর ঢাকায় পৌঁছার পর বিকেল চারটায় পোপ ফ্রান্সিস সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনে যাবেন। বিকেল পৌনে পাঁচটায় তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মৃতিগ্রন্থে স্বাক্ষর করবেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত এবং বিকেল ছয়টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজ ও কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে বৈঠক করবেন পোপ।এভাবে তিনি ১ ডিসেম্বর সকাল দশটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টধর্মীয় উপাসনা এবং যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশেষ প্রার্থনা সভায় অন্তত ৮০ হাজার মানুষ অংশ নেবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা। সেখানে এবং আরও কয়েকটি জায়গায় চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিল্পীরা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ভ্যাটিকান দূতাবাসে সোয়া দু’টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। আর বিকেল চারটার দিকে রমনার প্রবীণ যাজক ভবনে বাংলাদেশের বিশপদের সঙ্গে বিশেষ সভায় বক্তব্য রাখবেন পোপ।বিকেল পাঁচটায় আর্চবিশপ হাউসের মাঠে শান্তির জন্য আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃমা-লিক সমাবেশ তিনি বক্তব্য রাখবেন।২ ডিসেম্বর তেজগাঁও মাদার তেরেসা ভবন, তেজগাঁও কবরস্থান ও পুরাতন গির্জা পরিদর্শন এবং নটরডেম কলেজে যুব সমাবেশে বক্তব্যসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন পোপ ফ্রান্সিস।

এসব অনুষ্ঠান ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানা প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো করে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি শাখা এ জন্য সজাগ। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ চলছে।’

জানা যায়,পোপের এবারের এই সফরে দেড় লাখ বিশেষ ধরনের নিরাপত্তা কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। মোট নয় রঙের কার্ড তৈরি করা হয়েছে। পোপের যেকোনো অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার হবে।অনুষ্ঠানের জায়গায় ঢোকার সময় এটি নিতেই হবে। এই কার্ড এর বিশেষত্ব হলো এই কার্ড যিনি বহন করবেন, তাঁর গতিবিধি বোঝা যাবে। একবার এ কার্ড নিয়ে ঢুকে বের হয়ে গেলে এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।এ কার্ড তৈরি করছে টাইগার আইটি।
পোপের আগমন নিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে। যে কেউ এ সফর নিয়ে হালনাগাদ তথ্যের জন্য ভিজিট করতে পারেন: popebd.info-তে।এ ছাড়া ইতিমধ্যেই একাধিক প্রকাশনা বের হয়েছে।‘শান্তির দূত পোপ ফ্রান্সিস’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে।বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে আরও একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হচ্ছে। গানের একটি সিডিও বের করা হয়েছে এ উপলক্ষে।উল্লেখ্য বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো কোনো পোপ আসছেন।এ তথ্য জানালেন পবিত্র জপমালা রানির গির্জার ফাদার কমল কোরাইয়া। তিনি জানান, ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে বিপুল প্রাণহানি ঘটে। সেই সময় পোপ ষষ্ঠ পল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশে আসেন।তিনি তখন ফিলিপাইনে যাচ্ছিলেন। ঘূর্ণিঝড়ের কথা জানতে পেরে তাঁর ফিলিপাইন সফরের মাঝেই স্বল্প সময়ে এসে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল বাংলাদেশে আসেন।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK