রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭
Saturday, 18 Nov, 2017 07:47:49 pm
No icon No icon No icon
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে


 বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এতক্ষণ মেঘে ছেয়েছিল, আজকে আমাদের সূর্য নতুনভাবে দেখা দিয়েছে। এই সূর্যই আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আবারও আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মুছে দিতে চেয়েছিল।শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে’র স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এ সময় শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতাও জানান তিনি।মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হওয়ার পরেও বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সময় স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সে কারণে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যেন আর কখনো ক্ষমতায় এসে ইতিহাস বিকৃতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য আমরা গর্বিত জাতি। আমাদের উন্নত শির যেন আর কোনোদিন পরাভূত না হয় সেজন্য সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত থাকবে, এর মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতি এগিয়ে যাবে, এটাই হোক আজকের প্রতিজ্ঞা।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই অনুরোধ থাকবে আর যেন কখনো ঐ পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, ঐ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদলেহনকারী, তোষামোদি চাটুকারের দল যেন এই বাংলার মাটিতে আর কখনো ইতিহাস বিকৃতি করবার সুযোগ না যায়। তার জন্য সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে জাগ্রত হতে হবে। তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। এই স্বাধীনতা ২৩ বছরের সংগ্রাম এবং নয় মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছে। বাঙালি জাতি হিসেবে পাওয়া গেছে বিশ্বদরবারে মর্যাদা। আর এই মর্যাদা এনে দিয়েছেন মহান নেতা বঙ্গবন্ধু। এ সময় ইউনেসকোর মহাসচিব এবং যেসব দেশ ৭ মার্চের ভাষণের পক্ষে ভোট দিয়েছে তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের কথা উলে­খ করে সেদিনের কিছু স্মৃতিচারণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভাষণের আগে তার মা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেছিলেন, তিনি যেন তার মনের মতো ভাষণ দেন। কোনো লিখিত বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করেন। ফজিলাতুন্নেসা বলেছিলেন, তোমার মনে যেই কথা আসে শুধু সেই কথাই বলবে। মায়ের এই পরামর্শকে শ্রেষ্ঠ পরামর্শ বলে উলে­খ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রনায়ক ভাষণ দিয়েছেন, তা অনেক স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সেগুলো ছিল লিখিত। কিন্তু ৭ মার্চের ভাষণের কোনো লিখিত বক্তব্য ছিল না, ছিল না কোনো নোট। ওই এক ভাষণেই তিনি সব দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। কারণ বঙ্গবন্ধু জানতেন কী ঘটতে পারে। এই ভাষণে তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের ২৩ বছরের নিপীড়ন, অত্যাচার, শোষণের কথা বলেছিলেন। কী কী করণীয় তার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর পর যারা ক্ষমতা দখল শুরু করেছিল, যারা এই মাটিতে জন্ম নেয়নি। তাই তারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। যারা একদিন এই ভাষণ বাজাতে বাধা দিয়েছে, নাম মুছতে বাধা দিয়েছে আজকে যখন ইউনেস্কো স্বীকৃতির কথা জেনেছে তখন তারা লজ্জা পেয়েছে কি না সেই প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ ২১ বছর স্বাধীনতার আসল ইতিহাস জানতে পারেনি, কী দুর্ভাগ্য। বিজয়ী জাতি তাদের বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারে না, এর থেকে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ইতিহাস এক সময় সত্যকে অবশ্যই তুলে ধরে।
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ বলে এই নাগরিক সমাবেশ থেকে প্রতিজ্ঞা করেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে সূর্য আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। এই সূর্যই এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সারা পৃথিবীর সম্পদ। বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ মানবজাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ১০০ ভাষণের মধ্যে স্থান পেয়েছে। এটা দেশের মানুষের জন্য এ অর্জন অসাধারণ সম্মানের। তিনি বলেন, জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু তা প্রতিটি মানুষকে জাগ্রত করেছিল ১৯৭১ সালে। অনানুষ্ঠানিক সেই স্বাধীনতার ঘোষণায় আমরা বুঝে নিয়েছিলাম ‘কি করতে হবে আমাদের’ যোগ করেন তিনি। বর্তমানে সবাইকে ৭ মার্চের ভাষণ থেকে অনুপ্রেরণা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন এই শিক্ষাবিদ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ যুগে যুগে সারাবিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সুবৃহৎ নাগরিক সমাবেশ এটি। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে ৭ মার্চে সাত  কোটি মানুষ বঙ্গবন্ধুর একটি আঙুলের নির্দেশে স্থির হয়েছিলেন। তার ভাষণে অন্ধকার খুঁড়ে জেগে উঠেছিল আলোর ফুয়ারা। ইউনেস্কো ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ায় সংস্থাটির মহাপরিচালের প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাব পড়ে  শোনান ওবায়দুল কাদের। এতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইতিহাসের এক অনন্য মুক্তির বাণী। এর মধ্য দিয়ে একটি জাতি, একটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, বলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো জাতির জনকে সন্মানিত করেছে। আমি বলবো ঐতিহাসিক এ ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করে বরং ইউনেস্কো সন্মানিত হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ এখান থেকেই দিয়েছিলেন  যেখানে দাঁড়িয়ে আমি বক্তব্য দিচ্ছি। এজন্য শিহরণ অনুভব করছি। 
জাফর ইকবাল বলেন, দেশকে ভালোবাসার সহজ উপায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। নতুন প্রজন্মকে কেবল তথ্য জানলেই হবে না বুকের মধ্যে ঐতিহাসিক এ ভাষণ অনুভব করতে হবে। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ শুনেনি, অনুভব করেনি। সে বাংলাদেশের প্রকৃত নাগরিক হতে পারবে না। পাঠ্যপুস্তকে জাতির জনকের ভাষণ পড়লেই হবে না তা শুনারও আহবান জানান তিনি।
নাগরিক সমাবেশে অংশ নিয়ে ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিচ কালদুল বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। এ জন্যে ইউনেস্কোও গর্বিত। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি ভাষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে একত্রিত করার ইতিহাসের দলিল এটি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক  প্রেক্ষাপট। ভাষণটির ওপর অনেক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বক্তব্য দেন সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) বিট্রিস কালদুল। আলোচনা ছাড়াও সমাবেশে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখানে আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও কবি নির্মলেন্দু গুণ। শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের কণ্ঠে সমবেত গানের পর লোকগান পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী। সমাবেশের কার্যক্রম সমন্বয় করেন পাঁচ সদস্যের নাগরিক কমিটি। তারা হলেন-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, ডা. সারওয়ার আলী, হারুন-অর-রশিদ ও অসীম কুমার উকিল। #

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK