রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭
Monday, 23 Jan, 2017 12:09:12 pm
No icon No icon No icon

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোর তাগিদ দেবে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোর তাগিদ দেবে বাংলাদেশ


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার সে দেশের সরকারকে জোর তাগিদ দিবে বাংলাদেশ। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে-রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে যা যা করা প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে সবই করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া গত মঙ্গলবার অং সান সু চির বিশেষ দূত হিসেবে ঢাকায় আসেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উ চ থিনসহ মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল। মিয়ানমারের এই প্রতিনিধি দল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সফরের ফলাফল বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের ওপর চেপে বসা এই শরণার্থী সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির ‘কথাবার্তায় আশাব্যঞ্জক উপাদান’ দেখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী। তিনি বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ বিষয়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি যেটা বলতে পারি, আপনারা দেখেছেন পৃথিবীর প্রায় সব দেশে আন্তর্জাতিক সংস্থা, জাতিসংঘ, অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে। এছাড়াও সু চি যেসব কথাবার্তা বলছেন সেটাও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’ এরইমধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। গত বছর ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মায়ো মিন্ট থানকে মন্ত্রণালয়ে তলব করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগী হওয়ার জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় শাহরিয়ার আলম রাখাইন মুসলমানদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে অবিলম্বে তাদের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নিতে এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি জোর দাবিও জানিয়েছেন। এছাড়াও গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দফতরে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত ‘লিডারশিপ সামিট অন রিফিউজস’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটের মূল কারণ উদঘাটন করে শরণার্থীদের মানবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অং সান সু চির বিশেষ দূতের ঢাকা সফর রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে কতটুকু ভূমিকা রাখবে বা আদৌও কোনো ভূমিকা রাখবে কি না জানতে চাওয়া হয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, 'বর্হিবিশ্বের কোনো সমস্যা সমাধানের আশা ছেড়ে দিলে তো হবে না। তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেই কাজগুলো করতে হবে এবং আমাদেরকে আশাবাদী হতেই হবে। অতীতে না হোক পৃথিবীতে অনেক উদাহরণ আছে বিশ্বনেতারা এক হয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্য দিয়ে কোনো না কোনোভাবে সকল সমস্যার সমাধান এক সময় হয়েছে। এটাও আশা করি সমাধান হবে।’ শাহরিয়ার আলম আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের দূত এই সময় এসেছেন মানে হলো তারা যোগাযোগ রক্ষা করতে চান। এটা একটা ভালো লক্ষণ। সূচির দূত পাঠানোর বিষয়টি কেউ যদি সমালোচনা করতে চাইলে সমালোচনা করতে পারে। তবে আমি বিষয়টি পজেটিভভাবেই দেখবো। আমাদের সাথে যে কথা গুলি হয়েছে যতটুকুই হয়েছে সেগুলি সামনের দিকে অগ্রগতি হয় সেই লক্ষেই আমরা কাজ করব।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোর তাগিদ দেবে বাংলাদেশ

 

এদিকে, রোহিঙ্গা সমস্য সমাধানে খুব তাড়াতাড়ি একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স হওয়া দরকার বলে মনে করছেন কূটনৈতিকরা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমি তো মনে করি রোহিঙ্গা সমস্য সমাধানে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স খুব তাড়াতাড়ি হওয়া দরকার। সেটা জেনেভাতে হতে পারে এমনকি ব্যাংকক বা মিলেশিয়ায় হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বিশেষ করে যে সব দেশে রোহিঙ্গা আছে সেই সব দেশ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি করা যায় সেটা একটা বাড়তি সুবিধা।

'

তিনি আরো বলেন, 'সু চির দূতের আগমনে একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে শুরু করে অনেক দেশই রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিয়ে মিয়ানমারকে চাপ দিয়েছে। আমেরিকা তো অনেক আগে আগে থেকেই চাপ দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার চাপটা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এই সমস্যর সমাধান না হলে আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যায় পড়বে মিয়ানমার। এই দাবির মুখে মিয়ানমার স্বাভাবিক বুঝতে পেরেছে তাড়াতাড়ি বাংলাদেশের সাথে তাদের বসা উচিৎ।’

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুফলটা তো খুব তাড়াতাড়ি আসবে না। তবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটাকে বেগবান করা দরকার ছিল সেটার একটা সূত্রপাত হয়েছে। আমি বলব এটা একটা ইতিবাচক দিক। এই সমস্যার সমাধানটা আসলে জটিল। আসলে এই সমস্য সমাধানে মিয়ানমারকেই তাদের নাগরিকত্ব আইনসহ অনেক কিছু পরিবর্তন করে এটার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে তাদের যে প্রর্তাবর্তন করার যে প্রক্রিয়া যারা আসছে বা অতিতে যারা ছিলো সবাইকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেওয়ার যে বিষয়টা এটা খুব জরুরি। সেটা করতে হলে তো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দরকার। সেই আলোচনার একটা দরজা খুলে গেছে।'
সূত্র: পরিবর্তন ডটকম।


টাইমস ২৪ ডটনেট/দুনিয়া/২৯৩১/১৭

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 11 Banga Bandhu Avenue (2nd Floor), Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK