বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Monday, 18 May, 2015 09:45:35 pm
No icon No icon No icon

বাংলাদেশের যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি মানবপাচারের স্বর্গ

//

বাংলাদেশের যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি মানবপাচারের স্বর্গ


টাইমস ২৪ ডটনেট, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজারের অদূরে শাহ পরীর দ্বীপ। একসময় শুধু নারকেল গাছ আর বালুর পাড়, আর জেলেদের মাছ ধরার জন্যই পরিচিত ছিলো দ্বীপটি। এখন আর সেই বাস্তবতা নেই। বরং সেসব ছপিয়ে এখন সামনে আসছে এ দ্বীপকে কেন্দ্র করে মাল্টি মিলিয়ন ডলারের মানব পাচার ব্যবসা।

এ দ্বীপের চারপাশে বেশ কিছু কাঠের নৌকা দেখা যায় কিন্তু জেলেদের আপনি কোথাও দেখতে পাবেন না। এবং তাদের নৌকায় যে মাছ ধরার জাল দেখতে পাবেন, তার কাজও কিন্তু সামান্যই।

স্থানীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এদের সবাই একসময় নৌকার মাঝি বা জেলে ছিলো। কিন্তু যখন তারা মানবপাচারের এ রমরমা বাণিজ্য টের পলো তখন নিজেরাই মানব পাচার করতে লাগলো বা মানব পাচারের মাধ্যম হতে শুরু করলো। এ পুলিশ কর্মকর্তা বলছিলেন, শাহ পরী দ্বীপের অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানবপাচারের সাথে জড়িত।

এ দ্বীপ থেকে মানবপাচার অনেকটা সহজ। কারণ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে এখানে নির্বিঘ্নে মানবপাচারের কাজটি করা যায়। এখান থেকে যারা মারয়েশিযা থাইল্যান্ড বা ইন্দোনেশিয়ায় পাচার হয়, তাদের অধিকাংশই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে বাধা পেয়ে ফেরত আসা রোহিঙ্গা মুসলমান।

এসব জরাজীর্ণ নৌকায় করে মাত্র তিন হাজার ডলারের বিনিময়ে (২ লাখ ৩২ হাজার টাকা) অভিবাসী হবার সুযোগ মেলে। সম্প্রতি এই পথে অভিবাসী হতে চাওয়া বাংলাদেশির সংখা বেড়েছে। এসব নৌকার অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন র‌্যাব মানব পাচারকারীদের ধরতে এ দ্বীপে ব্যাপক অভিযান চালায়। পাচারকারীদের ধরতে ব্যাপক অভিযানের সময় বারো হাজার মানুষের এ দ্বীপের চেহারা হয়েছিলো ভূতুড়ে। র‌্যাব প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিযান চালায়। অভিযানে ৯০ জনকে আটক করা হয় যাদেরকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হবে আর ৩জন অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

পুলিশ কক্সবাজরের বিভিন্ন সাথনে এমন অনেকগুলো জায়ংগা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে থেকে পাচারকরী নৌকাগুলো অভিবাসীবোঝাই হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

কক্সবাজারে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০০১ সালে রোহিঙ্গারা প্রথম মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তারও পাঁচ বছর পরে একটু উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশীরাও একই ধরনের যাত্রা শুরু করে। জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা বলেন, মানবপাচারের এ বাণিজ্য এখানে অন্যতম লাভজনক সংঘবদ্ধ অপরাধে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে কত সংখ্যক মানুষ অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিতে চায়, তার সঠিক কোন হিসেব বাংলাদেশ পুলিশের কাছে নেই। তবে পুলিশ ২০১২ সালে ১৩২ জনকে অবৈধ পথে সাগর পাড়ি দেয়ার সময় আটক করে। কিন্তু একবছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালেই এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৫০ তে।

পাচারের ঘটনায় ধলু হোসেন নামের একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, পুলিশের ভাষ্যমতে যে একাই এক হাজার শরণার্থীকে পাচার করেছে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK