সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯
Friday, 22 Mar, 2019 12:32:30 pm
No icon No icon No icon

রাজধানীতে নকল সাংবাদিকের ছড়াছড়ি

//

রাজধানীতে নকল সাংবাদিকের ছড়াছড়ি


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ক্যামেরা হাতে রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগের একটি বাসায় প্রবেশ করেন মাহমুদা নামে এক তরুণী। তার সঙ্গে আরও একজন তরুণ। নিজেদের পরিচয় দেন 'আইন-আদালত' নামের একটি পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে। এর পরই তারা ওই বাসায় থাকা গৃহকর্ত্রী ও তার ভাতিজির ছবি তুলতে থাকেন। বাধা দিলে তারা বলতে থাকেন_ 'এখানে অবৈধ কাজ হয়। ছবি তুলে পত্রিকায় ছাপাতে হবে।' এর পর আরও কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয়ে বাসায় ঢোকেন। নিউজ ছাপানো বন্ধ করতে তারা চাঁদা দাবি করেন এক লাখ টাকা। এর পর সাংবাদিক পরিচয়ে ওই প্রতারক চক্রের সদস্যরা ওই তরুণীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। আশপাশের লোকজন টের পেয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। পুলিশ মাহমুদাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। শুধু মিরপুরে নয়, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণমাধ্যমের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভয়াবহ প্রতারণা চলছে। তারা পত্রিকায় খবর ছাপানোর ভয় দেখিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা-পয়সা। অনেকে থানায় দালাল হিসেবে আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে মধ্যস্থতা করে থাকে। 
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনসের ডিসি মাসুদুর রহমান জানান, অনেকে সাংবাদিক না হয়েও যানবাহনে প্রেস স্টিকার ব্যবহার করছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধে জড়াচ্ছেন। রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত চাঁদাবাজি করছে সাংবাদিক নামধারী এই চক্র। নানা অপকর্ম করতে এসব ভুয়া সাংবাদিক নানা নামে সংগঠনও গড়ে তুলেছে। এমনই একটি সংগঠন 'যাত্রাবাড়ী-কদমতলী-ডেমরা অ্যান্ড শ্যামপুর প্রেস ক্লাব ফাউন্ডেশন'। মিরপুর, উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় রয়েছে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ও ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটির মতো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া রাজনীতে শত শত ভূইফোঁড় অনলাইন গণমাধ্যমের নামেও গড়ে উঠেছে সাইনবোর্ডসর্বস্ব সাংবাদিকদের নানা সংগঠন।
সূত্র জানায়, সাংবাদিক পরিচয়ধারী এসব প্রতারক চক্র শুধু নামসর্বস্ব পত্রিকার আইডি কার্ড বহনই নয়, বিভিন্ন ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মূল ধারার বড় পত্রিকার সাংবাদিকও পরিচয় দেয়। তা ছাড়া ভূইফোঁড় পত্রিকা অফিসগুলো 'সাংবাদিক পরিচয়পত্র'ও বিক্রি করে থাকে। এসব পরিচয়পত্র পকেটে রেখে বিভিন্ন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইলের সামনে 'সাংবাদিক' বা 'প্রেস' লেখা স্টিকার লাগিয়ে ঘোরে একশ্রেণীর লোকজন।
একদিন কথা হয় যাত্রাবাড়ী-কদমতলী-ডেমরা অ্যান্ড শ্যামপুর প্রেস ক্লাব ফাউন্ডেশনের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আকাশের সঙ্গে। সমস্যার কথা বলে নিউজ করতে হবে জানিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি ঢাকার বাইরে রয়েছেন জানিয়ে দু'দিন পর দেখা করতে বলেন। কয়টি পত্রিকায় খবর প্রকাশ করতে চান জিজ্ঞেস করে দু'দিন পর দেখা করতে বলেন 'সাংবাদিক' পরিচয় দেওয়া আকাশ। তবে এর পরক্ষণেই সমকালের পরিচয় দিয়ে তার প্রতারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে আকাশ বলেন, 'আপনি ভুল নম্বরে ফোন করেছেন। আমি সাংবাদিক নই। পুলিশ অফিসার।' তার মোবাইল নম্বরে একটু আগে কথা হলো জানালে তিনি ফোনটি কেটে দেন। 
জানা যায়, আকাশ নিজেকে 'স্বাধীন সংবাদ' নামে একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেন। বছরখানেক আগে প্রতারণার দায়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। ওই সময় তার কাছে 'স্বাধীন সংবাদ' ছাড়াও একাধিক সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। স্থানীয় থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, ডেমরা ও শ্যামপুর এলাকায় অন্তত দেড়শ' ভুয়া সাংবাদিক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে সেলিম, জাহাঙ্গীর, কচি, মন্জু, মিলন, মেহেদী হাসান, লিটন, আকাশ, আলম, মীর সেলিম, আফজাল, আজাদ, তাপস, তৌহিদ, জামাল, জীবন, বাবুল, রবিউল, সিরাজ অন্যতম। এরা ওই এলাকার বিভিন্ন থানা, পাইকারি কাঁচা বাজার , মৎস্য বাজার, হোটেল, ফুটপাত, বাস কাউন্টার থেকে নানা কায়দায় সাংবাদিক পরিচয়ে টাকা তোলে। স্থানীয় থানা পুলিশের একশ্রেণীর কর্মকর্তার সঙ্গেও তাদের বেশ সখ্য রয়েছে। অনেকে পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করে। তাদের অনেকে এমপি, মন্ত্রী এবং পুলিশের আইজির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। 
ঢাকা বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় এক ডজনের বেশি একটি চক্র সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকা চসে বেড়াচ্ছে। তারা কখনও গোয়েন্দা সদস্য ও থানা পুলিশের সোর্স হয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট বাড়ি, বেকারি, কারখানা, ইজিবাইক পরিবহন, কমার্শিয়াল ব্যবসায়ী, আদম পাচারকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নিচ্ছে চক্রটি। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে চক্রটির সখ্যতা রয়েছে। 
স্থানীয় থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় 'সমাজ চিন্তা' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সুজন নামের এক ব্যক্তি। অন্যদিকে সম্প্রতি উত্তরায় চাঁদাবাজির ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভুয়া সাংবাদিককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী। উত্তরা পশ্চিম থানা ১৩ নম্বর সেক্টরে একটি বাড়িতে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় হাতেনাতে আটক করা হয় ১১ ভুয়া সাংবাদিককে। পশ্চিম থানা পুলিশ জানায়, সাপ্তাহিক 'এশিয়া বার্তা' পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ওই বাড়িতে চাঁদাবাজি করছিল তারা। এর আগে মুজিব নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। চাঁদাবাজির মামলায় জেল খেটে সম্প্রতি সে ছাড়া পেয়েছে।
সূত্র: দৈনিক সমকাল।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK