বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯
Saturday, 14 Sep, 2019 04:35:36 pm
No icon No icon No icon

নায়ক সালমান শাহ্ হত্যাকান্ড: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার ভক্তরা

//

নায়ক সালমান শাহ্ হত্যাকান্ড: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার ভক্তরা

খন্দকার হানিফ রাজা, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট: চলচ্চিত্র নায়ক সালমান শাহ্ মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল রয়েই গেছে। সে কি আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে লাখ লাখ ভক্তদের রয়েছে আশঙ্কা তাইতো সালমান শাহর পিতা-মাতার মত ভক্তরা বিশ্বাসই করেন না যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার মৃত্যুশোকে অনেক তরুণী আত্মহত্যা করেছে। আবার অনেক ভক্ত গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলেন। তারা তাদের স্বপ্নের নায়কের হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে দুই যুগ ধরে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকীও পালনের সময়ও তাদের দাবি থাকে একটা জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা। সালমানের পরিবারের মত ভক্তদেরও আপসোষ সালমান শাহ্’র মৃত্যুর দুই যুগ হতে চললেও রহস্যজনক এই মৃত্যুর সঠিক তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।
ভক্তদের দাবি সালমানের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক এই ধুম্রজাল এখনও কাটেনি। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চাই। মৃত্যুর আগে সালমান চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নানারকম বø্যাক পলিটিক্সের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তার আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তাই এর মূল কারণ। সালমানের মৃত্যুর পূর্বে কয়েকবার তাকে হত্যান চেষ্টা করা হয়েছিলো। সব মিলিয়ে তারা মনে করেন সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এর সুষ্ঠ বিচার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেন।
জানা যায়, ১৯৯২ সালের দিকে তৎকালীন খ্যাতনামা এক প্রযোজনা সংস্থা ভারত থেকে বলিউডের তিনটি সিনেমার প্যাটেন্ট কিনে আনে বাংলাদেশে রিমেক করার জন্য। সেখান থেকে একটি সিনেমা বানানোর দায়িত্ব পড়ে গুণী পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাতে। তিনি নতুন মুখের সন্ধান করতে থাকেন। এর মধ্যে নায়িকা হিসেবে নবাগত মৌসুমীকে পেয়েও নায়ক নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। একদিন তিনি ইমন নামের একটি ছেলেকে দেখেই পছন্দ করেন, যার পুরো নাম চৌধুরী মোহাম্মদ সালমান শাহরিয়ার। তাকে প্রথমে 'সনম বেওয়াফা'র রিমেক করার প্রস্তাব দিলেও তিনি 'কেয়ামত সে কেয়ামত তক' সিনেমাটি পছন্দ করেন। ইমন জানান, এই সিনেমাটি ২৬বার দেখেছেন। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান তার সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমাটি তৈরি করবেন। শূটিং শেষে ১৯৯৩ সালের ২৫ শে মার্চ ছবিটি মুক্তি পায়। তারপর ওই চলচ্চিত্রটির নায়ক সালমান শাহ্্কে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর একের পর এক সুস্থ্যধারার চলচ্চিত্র উপহার দিতে থাকেন তিনি। তার মোট ২৭টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিলো। দু একটি বাদে সবগুলোই ছিলো সুপার হিট। অভিনয় দক্ষতা, সংলাপে সাবলীলতা, সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া স্টাইল, ফ্যাশন দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে যিনি আসন গেড়ে বসেছিলেন, ক্রমেই বাংলা সিনেমাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন নতুন উচ্চতায়। একঘেয়ে অভিনয় আর স্টাইল দেখতে দেখতে ক্লান্ত দর্শকদের সামনে তিনি হয়ে আসেন নতুন প্রত্যাশার বাতিঘর হিসেবে। তার রোমান্টিক, মেলোড্রামা, ফ্যামিলি ড্রামা, অ্যাকশন, প্রতিবাদ সব চরিত্রেই ছিলো নতুনত্বের স্বাদ। তার কাউবয় হ্যাট, গগলস, লং কোটে ডিটেকটিভ লুক, হুডি শার্ট, ব্যাক ব্রাশ করা চুল, কানে দুল, ফেড জিন্স, মাথার স্কার্ফ, ফ্যাশন সেন্স- সবকিছু মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেছিলেন তারুণ্যের স্টাইল আইকন।
তার করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টি ছবির জুটি ছিলেন নায়িকা শাবনুর। কবরী-রাজ্জাক জুটির পর সালমান-শাবনুর জুটিই এদেশের দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে রয়ে গেছে। শাবনুর ছাড়াও মৌসুমী, শাহনাজ, লিমা, কাঞ্চি, শাবনাজ, বৃষ্টিসহ কয়েকজন নায়িকার সাথেও জুটি বেঁধেছিলেন তিনি। রোমান্টিক ও মেলোড্রামায় বেশি কাজ কারলেও তার চরিত্রগুলোতে বৈচিত্র ছিলো লক্ষণীয়। কখনও ছাত্রনেতা, কখনও প্রতিবাদী যুবক, কখনও গ্রামের ছেলে, কখনও প্রেমের জন্য ঘরছাড়া তরুণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমায় শুধু অভিনয় আর ফ্যাশনই নয়, গানও ছিলো আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। তার প্রতিটি সিনেমাই ছিলো চমকপ্রদ গানে ভরপুর। ইতিমধ্যে অনেক গানই কালজয়ী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তরুণ শিল্পীরা এখন চলচ্চিত্রের গান গাইতে গেলেই সালমান অভিনীত সিনেমার গানগুলোই বেশি গেয়ে থাকেন। বাংলা চলচ্চিত্রে এখন যারা কাজ করছেন তারা সবাই সালমানকে অনুসরণ করেন। সালমানের সহজাত অভিনয় দক্ষতা ও চরিত্রের সাথে মিশে যাওয়ার গুণটা ছিলো প্রবল। তার প্রথম ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত যারা দেখেছেন, তারা সালমানের সপ্রতিভ ও সহজাত অভিনয় দেখে যে কারও মনে হওয়ার উপায় ছিলো না ওটাই ছিলো তার প্রথম চলচ্চিত্র। অভিনয়ে সালমান শাহ্্’র কোনো জড়তা ছিলো না ওই সিনেমাতে। বিক্ষোভ সিনেমায় তাকে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে দেখা যায়। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যিনি দেশপ্রেমের চেতনায় বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। পুরো ছবিতেই তার উপস্থিতি ও অভিনয় দক্ষতা ছিলো প্রশংসিত। ওদিকে সত্যের মৃত্যু নেই সিনেমায় তিনি সমাজের একজন প্রতিবাদী যুবকের চরিত্রে দারুণ নান্দনিক অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। মায়ের চিঠি হাতে জেলখানায় আব্দুল মান্নান রানার গাওয়া তার ঠোঁটে 'চিঠি এলো জেলখানাতে' গানটি দেখে সে সময় কাঁদেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিচার হবে, সুজন-সখী সিনেমায় গ্রামের ছেলে হিসেবেও ছিলেন বেশ সাবলীল। অসাধারণভাবে গ্রামীণ ভাষায় সংলাপ বলার ধরন দেখে কেউ বুঝতে পারবে না শহরের একজন স্মার্ট ও সুদর্শন মানুষ ছিলেন তিনি। সালমান-শাবনুর কিংবা সালমান-মৌসুমীর রোমান্স দেখে হৃদয়ে প্রেম জাগেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। মোটকথা, একজন ভার্সেটাইল অভিনেতা বলতে যা বোঝায় সালমান শাহ ছিলেন তেমনই একজন। হয়তো অফ ট্র্যাকের সিনেমা করেননি, হয়তো একসময় করতেন। কিন্তু চার বছরের ছোট্ট ফিল্ম ক্যারিয়ারে যা করে গেছেন, যেসব নাটকে অভিনয় করে গেছেন সেগুলোই তাকে অমর অভিনেতার সম্মান দিয়েছে। 
১৯৮৫ সালে সালমান শাহর অভিনয় জীবন শুরু হয় বিটিভিতে, হানিফ সংকেতের গ্রন্থনায় 'কথার কথা' নামক একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান হতো তখন। সে অনুষ্ঠানের একটি গানে মাদকাসক্ত এক তরুণের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। যে গানটি গেয়েছিলেন স্বয়ং হানিফ সংকেত। ১৯৮৫ সালে বিটিভির আকাশ ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে তার অভিষেক হয় টিভি নাটকে। এরপর পরে দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফিরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকেও অভিনয় করেন তিনি। 'নয়ন' নাটকটি সে বছর শ্রেষ্ঠ একক নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করে। এছাড়াও তিনি ১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত 'পাথর সময়' ও ১৯৯৪ সালে 'ইতিকথা' ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। প্রেমযুদ্ধ ও ঋণশোধ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকও করেন তিনি। মিল্ক ভিটা, জাগুয়ার কেডস, ইস্পাহানি গোল্ড, স্টার টি, কোকাকোলা, ফান্টাসহ কয়েকটি পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রেও অভিনয় করেন।
সালমানের মৃত্যুর পর অভাবনীয় কিছু বিষয় ঘটতে থাকে বাংলা চলচ্চিত্রে। তার শেষ করে যাওয়া সিনেমাগুলো ও অসমাপ্ত বেশিরভাগ সিনেমা জোড়াতালি দিয়ে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু সবগুলোই ব্যাপক আকারে ব্যবসা করে। তার সিনেমার সাফল্যের তোড়ে অনেক বড় বাজেটের সিনেমাগুলোও তখন বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। সালমানের সিনেমাই একটানা চলতে থাকে সকল হলে। প্রযোজক, পরিচালক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাই বুঝতে পারেন কী মূল্যবান সম্পদ হারালেন তারা। তার অভাবে সেই যে বাংলা চলচ্চিত্রে নামতে শুরু করল, আজ সেখানে একেবারে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। শত শত হল বন্ধ হয়ে গেছে, যেগুলো টিকে আছে সেগুলোও জরাজীর্ণ, নড়বড়ে। অথচ সালমান বেঁচে থাকলে হয়তো আজ বলিউডের সাথেও টক্কর দিতে পারতো বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রিয় নায়ক সালমান শাহ্্র মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এটা কীভাবে সম্ভব? সালমান কীভাবে এভাবে চলে যেতে পারেন! অনেকেই বিশ্বাস করছিলো না, অনেকে আবার তা গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু যা ঘটে গেছে সেটা কোনো গুজব ছিলো না, ছিলো নিষ্ঠুর সত্য। ওইদিন সকাল ১১টায়ই প্রিয় নায়ক সালমান চলে যান না ফেরার দেশে।
জানা যায়, মৃত্যুর পর সালমানের বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী রাজধানীর রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে রিপোর্ট আসে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু হয়েছে সালমানের। কিন্তু সালমানের মা-বাবা দু’জনেই ওই রিপোর্টে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে নারাজি দেন। ফলে বিচারক তার লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। সিলেটের ওসমানি মেডিকেল কলেজের ময়না তদন্তের চিকিৎসক 'কৌশলগত কারণে' তখন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার ফলে সন্দেহটা গাঢ় হয়ে দেখা দেয় তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের হাত থেকে সিআইডিতে যায়। সিআইডি তদন্ত করাকালীন হঠাৎ করেই আবার মামলাটি সিআইডি থেকে গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তরিত হয়। গোয়েন্দা পুলিশ এটাকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে চার্জশিট দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেন সালমানের বাবা-মা। মামলার বাদী সালমানের বাবা ২০০২ সালে মৃত্যুবরণ করলে সালমানের মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যাচ্ছেন।
অবশেষে ২০১৭ সালে মামলাটি পুলিশের নতুন গোয়েন্দা সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরমধ্যেই ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট একসময়ের সালমান শাহর প্রতিবেশী ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবি এক ফেসবুক লাইভে দাবি করেন সালমান শাহ্্কে খুন করা হয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করেননি। তার স্বামী টাকার বিনিময়ে কাজটা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এতে সালমান মৃত্যু রহস্যে যোগ হয় নতুন মাত্রা। কিন্তু দুদিন পরই তিনি আবার লাইভে গিয়ে অনেক অসংলগ্ন কথা বলে দায় এড়ান। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে যাচ্ছে এখনও। তাদের পক্ষ থেকে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার তারিখ ঘোষণা করেও তা আবার পেছানো হচ্ছে। সালমানকে সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার প্রাঙ্গনে কবর দেয়া হয়। যেখানে নিয়মিত ভক্তবৃন্দ গিয়ে জিয়ারত করে থাকেন। 
গত ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের মা নিলুফা চৌধুরি ওরফে নীলা চৌধুরিকে ঘটনার সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করি। ঘটনার সাথে সংশিষ্ট অতিরিক্ত সাক্ষী হুমায়ুন কবির, আ. সালাম, দেলোয়ার হোসেন শিকদার, আ. খালেক হাওলাদার, বাদল খন্দকার (চলচিত্র পরিচালক), শাহ আলম কিরণ (চলচিত্র পরিচালক), মুশফিকুর রহমান গোলজার, এস এম আলোক সিকদার ও হারুন আর রশিদের ঘটনা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করি। সাক্ষীদের ঠিকানা নির্ণয়ের জন্য কতিপয় সাক্ষীর স্থায়ী ঠিকানায় অনুসন্ধান ইস্যু করি। রুবির ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করি। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ মামলায় সালমান শাহ্ মামা আলমগীর কুমকুম আদালতে সাক্ষী হিসেবে এ বিষয়ে জবানবন্দি প্রদান করেছে। তিনি তার জবানবন্দিতে বলেন, মৃত্যুর আগের দিন সালমান শাহ আমাকে ফোনে জানায় মামা আমি সামিরাকে ডিভোর্স দিবো আপনি বাসায় আসেন। আমি বলি মামা মাথা গরম করো না, কি হয়েছে? সালমান শাহ বলে ওর সাথে আর সংসার করা সম্ভব না। আমার কাছে সামিরার বিষয়ে আপত্তিকর প্রমাণ ও ডকুমেন্ট আছে। আপনি আসেন দেখাবো। এর পরের দিনই সংবাদ পাই শালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো জানান, এটি পরিকল্পত হত্যাকান্ড ছিলো।
সালমান শাহর জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়ায়। বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, মা নীলা চৌধুরী করতেন রাজনীতি, একাধিকবার সংসদ নির্বাচনও করেছেন। সালমানের একমাত্র ছোট ভাইয়ের নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরান (ইভান)।
সালমান ভক্তরা আক্ষেপ করে বলেন, যে বয়সে মানুষের কর্মজীবনের চাকা সচল হয়, হামাগুড়ি দিতে শুরু করে ঠিক সেই বয়সে সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন সালমান শাহ্। গত ১৯৯৬ সালের তার ২৫তম জন্মবার্ষিকীর মাত্র ১৩ দিন আগেই তিনি একা চলে গেলেন নীরবে। 
উলেখ্য, বিগত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১১/বি নিউইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসার নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে সালমান শাহ্’র ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামেলি হাসপাতাল পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ নিয়ে সালমান শাহ’র বাবা একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা প্রথমে রমনা থানা পুলিশ পরে ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির তদন্ত করেন। তদন্তকালে সালমান শাহ্্’র লাশ প্রথম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে, সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে সালমান শাহ্্’র পরিবার ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি দিলে সালমানের লাশ পুনরায় কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রতিবেদনে, লাশ অত্যাধিক পঁচে যাওয়ার কারণে মৃত্যুর কারণ নির্নয় করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK