সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯
Thursday, 01 Aug, 2019 05:30:28 pm
No icon No icon No icon

ডেঙ্গু আতঙ্কে কাঁপছে দেশ

//

ডেঙ্গু আতঙ্কে কাঁপছে দেশ


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : সারা দেশে প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রাজধানী ঢাকার পরে দেশের আরো ৬২ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ নিয়ে মোট ৬৩ জেলায় ডেঙ্গুরোগী পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৬ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে আতঙ্কও। সাধারণ জ্বর নিয়েও হাসপাতালে ছুটছেন আতঙ্কিতরা। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগের সবারই ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ ডেঙ্গু ও এডিস মশা ঠেকাতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। এদিকে সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর পরিসংখ্যান নিয়ে সরকার গোঁজামিল শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ‘ব্যর্থ’ অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তারা পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ‘সরকারি হাসপাতালের বাইরে ঢাকা শহরের শুধু ৩৫টি বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ১৭টির তথ্য যুক্তই করা হয়নি। ঢাকায় বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৩৫০টির কাছাকাছি। তাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি বলে আমরা আশঙ্কা করছি। কিন্তু আক্রান্তের পরিসংখ্যান নিয়ে এর মধ্যেই সরকার গোঁজামিল শুরু করে দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঢাকা সিটির দুই মেয়রের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।

বুধবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৭ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৬ জন। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে বেসরকারি হিসাবে অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার একজনসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজেই মারা গেছেন ১১ জন।

এ ছাড়া মঙ্গলবার ঢাকার বাইরে বরিশালে ২ জন ও গাজীপুরে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে বলা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের প্রায় সব হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকার বাইরের চিকিৎসকরা বলছেন, বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তদের অনেকে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে গেছেন। যদিও ঢাকার বাইরেও এডিস মশার বিচরণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আক্রান্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা থেকে এই রোগ নিয়ে যাওয়ায় সারা দেশেই তা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করছিলেন তারা।

এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের লক্ষণ ও উপসর্গ পাল্টে মারাত্মক হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কারো জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ডেঙ্গু ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং এমনকি রোগ সারার পরেও সজাগ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

দুই সপ্তাহেও সুস্থ হচ্ছেন না ডেঙ্গু রোগী : সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার খোকশাবাড়ির বাসিন্দা সুজন (৩০) ও রিপন (২৫)। তারা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুতে ভুগছেন।

রাজধানীর মিরপুরের একটি সোয়েটার কারখানার কর্মচারী দুই ভাই একসঙ্গে জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর বেশি হওয়ায় কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

স্থানীয় চিকিৎসকের অধীনে চারদিন চিকিৎসা নিয়েও জ্বর না কমায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার করেন।

গত রোববার (২৮ জুলাই) থেকে ঢামেক হাসপাতাল-২ এর পঞ্চম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে লিফটের পাশে করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আগের চেয়ে একটু সুস্থ হলেও দুই সপ্তাহের চিকিৎসায়ও সুস্থ না হওয়ায় চিন্তার ছাপ তাদের মামা মহর আলীর চোখে-মুখে।

বুধবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই সপ্তাহের চিকিৎসায়ও সুস্থ না হওয়ায় তারা ভীষণ চিন্তিত। সুজন ও রিপন একা নন, তাদের মতো আরো অনেক রোগী দেড় থেকে দুই সপ্তাহেও সুস্থ হচ্ছেন না।’

দুপুরে সরেজমিন ঢামেক হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালজুড়ে জ্বরের রোগী। তারা লম্বা লাইন ধরে রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন। ডেঙ্গু ধরা পড়ার পরে ভর্তি হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। জায়গা না পেয়ে মেডিসিনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভেতরে-বাইরে, ফ্লোরে, বারান্দা এমনি লিফটের সামনে রোগীরা অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঢামেক-২ হাসপাতালের পঞ্চম তলায় লিফটের সামনে মাটিতে তিনদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা কাঁচামাল বিক্রেতা আকতার হোসেন ও রোজিনা বেগম দম্পতির ছেলে অনিক।

আকতার হোসেন জানান, সপ্তাহখানেক ধরে অনিক জ্বরে আক্রান্ত। সোনারগাঁয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার সময় ডেঙ্গু ধরা পড়লে চিকিৎসকরা ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। সে পরামর্শ শুনে ঢামেকে ভর্তি করান অনিককে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে অনিককে আইভি ফ্লুইড স্যালাইন ও তরল শরবতজাতীয় খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তারপরও জ্বর ভালো হচ্ছে না। একদিন ভালো তো আরেক দিন খারাপ।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে দেখা যায়, অতিরিক্ত চাপের কারণে বারান্দা ও করিডোরে ভর্তি রোগীরা গরমে দরদর করে ঘামছেন। অধিকাংশ রোগীর হাতে দেওয়া হচ্ছে আইভি ফ্লুইড স্যালাইন।

দুপুর ১টার দিকে নিচতলায় ব্লাড স্যাম্পল সংগ্রহ ও বিতরণ কক্ষের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য জ্বরের রোগীদের কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য রক্ত দিচ্ছেন, আবার কেউ রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য হাসপাতালের কর্মচারীরা মাইক ব্যবহার করে নাম ডেকে রিপোর্ট দিচ্ছেন।

ডেঙ্গু রোগী বাড়লে ঢামেকে আলাদা ইউনিট : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে, প্রয়োজনে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে একটি আলাদা ইউনিট খোলা হবে। সেখানে রেখে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এখানে যারা ভর্তির যোগ্য তাদের ভর্তি রেখে বিনা পয়সায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। যারা ভর্তির যোগ্য নয়, তাদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। ডেঙ্গু মোকাবেলায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত মেডিসিন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খুলনা ব্যুরো জানায়, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম এমন স্বস্তির জায়গা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। দিন দিন খুলনা অঞ্চলে বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা। এ পর্যন্ত খুলনায় ১০৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এখনো বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৩ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪৫ জন।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, এতদিন ঢাকায় অবস্থান করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন বগুড়ার হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি হলেও খোদ বগুড়ায় বসবাসকারী রোগীদের রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। চলতি মাসে বগুড়ায় ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ওসমানীতে এসেছেন ৫৯ জন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, গত এক সপ্তাহে শরীয়তপুর জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ জন, জাজিরা উপজেলায় ৩ জন, নড়িয়া উপজেলায় ১ জন, ডামুড্যা উপজেলায় ১ জন ও গোসাইরহাট উপজেলায় ৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর আধুনিক হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীসহ ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে চিকিৎসা নিয়ে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ৩ জন হাসপাতালে রয়েছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিবলী সাদিক (২২) নামের এক যুবক আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি  কালাইকুড়ি গ্রামের এনামুল হকের ছেলে শিবলী সাদিক (২২) ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে ৮ জনের শরীরে ডেঙ্গু রোগের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ৮ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকি ৭ জনের মধ্যে ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয় এবং অন্য ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গৌরনদী প্রতিনিধি জানান, বরিশালের গৌরনদীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আলেয়া বেগম (৫৫) নামের এক গৃহিণীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠি এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, প্রতিদিনই জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী। জামালপুরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ জন। এখন হাসপাতালে অবস্থান করছেন ১৮ জন।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪২ জন হয়েছে। এদের মধ্যে মঙ্গলবার ছয়জনকে এবং বুধবার নতুন করে আরো ৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

নড়াইল প্রতিনিধি জানায়, নড়াইলে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুই শিশুর অবস্থার অবনতি দেখা দেওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ সদর হাসপাতালে গতকাল বুধবার একজনসহ গত ৫ দিনে মোট ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর ৩ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া পৌর এলাকার গৌরীপুরের সাদিয়া (১১) নামের এক শিশু ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ নিয়ে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এই পর্যন্ত ১৯ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়া ৪ জন আন্তঃবিভাগে এবং অন্যরা বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সফলতা না এলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে : দেশের ৬৩ জেলায় যখন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়ালো, তখনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এডিস মশার প্রজননস্থানগুলো ধ্বংসে সফলতা না এলে প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক সেব্রিনা ফ্লোরা।

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমরা সবাই মিলেই জোরেশোরে অ্যাট সোর্স মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদি সোর্স রিডাকশনে সফল হই তাহলে এটাকে থামাতে পারব। যদি কোনো কারণে কার্যকরভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে প্রতিবছর এটা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যায়। পিক টাইম সেপ্টেম্বরে।

সুতরাং এখানে একটাই পদ্ধতি সেটা হচ্ছে সোর্স রিডাকশন। যত রকম ওষুধই ব্যবহার করি না কেন যদি সোর্স রিডাকশন না হয় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। যদি সোর্স রিডাকশনে আমরা সবাই মিলে কাজ না করি তাহলে ট্রেন্ড থামানো যাবে না। সেদিক থেকে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদের সবার। সেটা না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়বে। পরে আস্তে আস্তে কমে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, বুধবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত ১৭ হাজার ১৮৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১৪ জনের মৃত্যুর হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী- মৃতের সংখ্যা ৩০ এরও বেশি।

একটি প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক সানিয়া তহমিনা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার এনএসওয়ান কিট আমদানি করা হচ্ছে। এগুলো যেহেতু দেশে তৈরি হয় না এজন্য এগুলো আনতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও এক লাখ কিট দেবে যেগুলো আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেব। এগুলো বিনা পয়সায় দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম এম আক্তারুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK