সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯
Sunday, 19 May, 2019 12:51:44 am
No icon No icon No icon

নতুন আইনে সম্পদ বাজেয়াপ্তের ভয়ে বিক্রি ও হস্তান্তর করছেন যুদ্ধাপরাধীরা

//

নতুন আইনে সম্পদ বাজেয়াপ্তের ভয়ে বিক্রি ও হস্তান্তর করছেন যুদ্ধাপরাধীরা


এস.এম.নাহিদ, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : মানবতাবিরোধী অপরাধী বা যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে নতুন আইন করছে সরকার। আইনটির খসড়া ইতোমধ্যেই তৈরি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর যাচাই-বাছাই শেষে আইনটি পাসে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। তবে সাড়ে তিন বছর আগে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইন পাসের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে বহু দন্ডিত ও অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী তাদের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনে দন্ডিত বা অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্তের বিধান নেই। তবে কারান্তরীণ বা পলাতক যুদ্ধাপরাধীরা যেন সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তাস্তর করতে না পারেন সে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিটির তদন্ত সংস্থা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের দিন মানবতাবিরোধী অপরাধী বা যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং র‌্যাব-পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশনা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে সারা দেশে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক, বিমা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মাল্টি পারপাস সমিতিসহ এ ধরনের ৫৬১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলে।
এর পরই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশে এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, দফতরসহ দেশের চারটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার ছয় সদস্যের টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। ২০১৬ সালে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছিলেন, ‘আইন করে মানবতাবিরোধী অপরাধী বা যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ওই অর্থ দেশের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।’
মানবতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি জাতীয় সংসদে প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী। সর্বসম্মতভাবে ওই প্রস্তাব গৃহীতও হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার যখন যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা বাস্তবায়ন করে। এ উদ্যোগও বাস্তবায়িত হবে। কাজ চলছে। এর বেশি কিছু বলা যাবে না। আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK