শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
Thursday, 10 Jan, 2019 11:51:37 pm
No icon No icon No icon

তিতাস এক‌টি নদীর নাম এবঙ বাকী ইতিহাস

//

তিতাস এক‌টি নদীর নাম এবঙ বাকী ইতিহাস


এমএবি সুজন ও শেখ মোহাম্মদ র‌নি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: দৃশ্যত নদীমাতৃক বাংলা‌দেশের নদনদীগু‌লো আজকাল চরম নাব্যতা সংক‌টে চলমান সাতস‌তে‌রো শংকা ও‌‌ প্রাকৃ‌তিক বিচা‌রের সম্মু‌খিন হ‌চ্ছে বলা যায়। একদিকে উজানে সীমান্তের ওপারে নি‌র্বিচার বাঁধ নির্মাণ ও এক তরফা পানি সরিয়ে নেয়ার ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে দেখা দিয়েছে জল সঙ্কট। অন্যদিকে, দেশের মধ্যেই অতিরিক্ত পলি জমে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের শিল্প বর্জ্যের দূষণে নদীর প্রাণ বৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। পাশাপাশি নদীর পাড় দখল করে, কিংবা নদীর বুকের ওপর চলছে অবৈধ নির্মাণ। ফলে বহু নদী বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হয়তো ইতোমধ্যেই হারিয়ে গিয়েছে, নয়তো কোন রকম অচলে ধুঁকছে, মৃত্যুপ‌থে বিলীন হ‌য়ে যা‌চ্ছে। তেম‌নি এক‌টি নদী বহু ইতিহাস ও ঐতি‌হ্যের ধারকবাহক তিতাস দখল-দূষণে এখন এক‌টি মরা গা‌ঙে পরিণত হয়েছে। অথচ "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাসে অদ্বৈত মল্ল বর্মণ লিখেছিলেন, তিতাসে কত জল, কত স্রোত, কত নৌকা। সব দিক দিয়াই সে অকৃপণ।... তার কূলজোড়া জল, বুকভরা ঢেউ, প্রাণভরা উচ্ছ্বাস। স্বপ্নের ছন্দে সে বহিয়া যায়। ত‌বে অদ্বৈত মল্ল বর্মণের কালজয়ী সেই উপন্যাসের এই বর্ণনার তিতাস এখন শুধুই ইতিহাস, শুধুই স্মৃতি। সেই তিতাস এখন আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তিতাস নদীর ‌বি‌ভিন্ন প‌য়ে‌ন্টে গ‌ড়ে ৫ একরের মত স্থানের চারিধারে বাঁশ পুতে তৈরি করা হয়েছে শতশত মা‌ছের ঘের। ভেতরে পানির নিচে গাছের ডালপালা ফেলা হয়েছে আর উপরে আটকে দেয়া হয়েছে কচুরিপানা। নদীর মাছ জায়গাটিকে অভয়ারণ্য মনে করে এসে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু জাল দিয়ে ঘিরে ফেলায় তাদের আর বেরিয়ে যাবার উপায় নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতটি উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত তিতাস নদীতে এখন চোখে পড়বে হাজার হাজার মৎস ঘের। অবৈধ দখলদারেরা বাঁশ পুঁতে আর জাল দিয়ে ঘিরে আটকে ফেলেছে নদীর জল। আর তার মধ্যে নদীর মাছ আটকে সেগুলো শিকার করছে তারা। এসব ঘেরে সাধারণ জেলেদের মাছ ধরার কোন অধিকার নেই। হাজার হাজার ঘেরের ফলে নদীর মাছের চলাচল বিঘ্নিত হয়ে যেমন হুমকির মুখে পড়েছে প্রাণীবৈচিত্র্য, তেমনি পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নদীতে পলি জমে দিনকে দিন কমছে নাব্যতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ ঘাট থেকে নবীনগর পর্যন্ত প্রায় কুড়ি কিলোমিটার নদীপথ ভ্রমণ করে এ ধরনের চার শতাধিক ঘেরের অস্তিত্বের কথা জানা যাচ্ছে। গোকর্ণ ঘাটের মালোপাড়ায় অদ্বৈত মল্লবর্মণের বসতভিটা ছিল এখানে। দুই তিন হাত ঘুরে সেই ভিটায় নীলরঙা এই ঘরটি তুলে এখন থাকছে আরেক মল্লবর্মণ পরিবার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে একটু দূরে গোকর্ণ ঘাট একটা নৌ বন্দর। তিতাস নদীর এই ঘাটটি থেকে প্রতিদিন অসংখ্য লঞ্চ, ট্রলার, ইঞ্জিন নৌকা ও স্পিডবোট ছেড়ে যায় দূরবর্তী নবীনগরসহ অন্যান্য গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। এই গোকর্ণ ঘাটের লাগোয়া বসতিটি স্থানীয় মালোপাড়া বা জেলেপল্লী। এই পল্লীর বাসিন্দাদের জীবনযুদ্ধের চিত্র নিয়ে অদ্বৈত মল্লবর্মণ লিখেছিলেন তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। মালোপাড়ায় ঢুকতে গিয়েই চোখে পড়ল অদ্বৈত মল্লবর্মণের একটি আবক্ষ মূর্তি। ভেতরে তাদের পৈত্রিক বসতভিটাটি এখনো আছে। যদিও দুই তিন হাত ঘুরে সেই ভিটেতে নতুন টিনের ঘর তুলেছেন আরেকটি মল্লবর্মণ পরিবার। পাড়ার সমর্থ পুরুষদের অলস দুপুর কাটছে আড্ডা মেরে। এখন শুষ্ক মৌসুমে তিতাসে মাছ কম। যা-ও পাওয়া যায় তাতে মালোপাড়ার জেলেদের অধিকার নেই, জানা গেল দুলাল বর্মণের কথায়। “মাছ মারতে গেলে খেউ-অলারা বাধা দেয়”, বলছিলেন দুলাল। খেউ হলো স্থানীয়ভাবে তৈরি একধরনের মাছের ঘের। ঠিক প্রচলিত ঘের না, নদীর জল আটকে মাছ আহরণের এক ধরনের পদ্ধতি এটা। একটি ল‌ঞ্চে চড়ে তিতাসের জল কেটে এগোতে চোখে পড়ে দু’পাশে গ্রামবাংলার অতি পরিচিত দৃশ্য। অসংখ্য জেলে-নৌকো নদীর পাশে উল্টো করে রাখা। মাছ ধরার জালের পরিচর্যা করছে কেউ কেউ। জেলে-বউরা দল বেঁধে নাইতে নেমেছে নদীতে। তিতাসের বুকে ঘেরগুলো যেন এক একটি সবুজ রঙা দ্বীপ।
মিনিট দশেক চলার পর এই দৃশ্য হারিয়ে যায়। এবার নদীর দু’ধারে বড় বড় এলাকা বাঁশ পুঁতে চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা, মাঝখানে কচুরীপানা। দূর থেকে দেখে মনে হয় এক একটি সবুজ দ্বীপ। এগুলোই ঘের। একটা ঘেরের কাছে গিয়ে দেখা গেল কয়েকজন কর্মী নিয়ে পরিচর্যা করছেন সিসু মিয়া। তিনিই এই ঘেরটির কথিত মালিক। ঘেরটির আকার ৭ একরের মতো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ভেতরে অনেক মাছ। ভেতর থেকে মাঝারি আকারের একটি বোয়াল মাছ লাফিয়ে উঠে আটকে পড়লো জালে। সিসু মিয়া বলছিলেন, গত বছর তিনি এই একটা ঘের থেকে পাঁচ লাখ টাকার উপ‌রে মাছ বিক্রি করেছেন। এই ঘেরে সিসু মিয়া ছাড়া আর কারো মাছ ধরবার অধিকার নেই। কেন? “এইডা তো মনে করেন নিজে দখল কইরা, ডাল-ডোল বাঁশ-মাশ দিয়া ঘিরছি। আমার পরায় দেড়দুইলাখ টাকার মতো খরচ হইছে। এখানে অন্য কেউ করতে পারেনা”। বলছিলেন সিসু মিয়া। কিভাবে উন্মুক্ত এই জলাশয়ের মালিক হলেন তিনি? জানতে চাইলে সরল স্বীকারোক্তি দিলেন, “দখল করছি, বাংলা কথা”। “এম‌নে‌তো নেওন যায় না। কিন্তু দশে যহন নেয়, তহন আমগোও নিতে অইবো। বাচ্চা-কাচ্চা আছে, প্যাট আছে, নেওন লাগবো না? সরকারী নদী মা‌লিক আমরা” তার একজন সহকারী পাশ থেকে বলছিলেন, আশপাশে দুই কুড়ির মতো ঘেরে তারা মাছ ধরার কাজ করেন এবং এসব ঘের থেকে গত বছর আড়াই কোটিরও বেশি টাকার মাছ পাওয়া গেছে। দেখা যায়, পুরো নদী জুড়েই দূষণ, দখল ও বা‌ণিজ্য উৎসব। এক স্থানীয় হিসেব বলছে, গোকর্ণ ঘাট থেকে নবীনগর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীপথে এমন প্রায় ৪০০ ঘের আছে, যেখানে সাধারণ জেলেদের মাছ ধরার কোনও অধিকার নেই। প্র‌বেশও নি‌ষেধ। এদি‌কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বলছেন, এ ধরনের ঘের সম্পূর্ণ অবৈধ ও নদীদখল। নদীর বুকে এমনভাবে ঘেরগুলো গড়ে উঠেছে যে মাঝখানে নদীর প্রবাহ অত্যন্ত সরু হয়ে গেছে, যেখানে কোনমতে চলছে নৌযানগুলো। এখা‌নে যেমন মা‌ছের ঘের বাঁ‌চি‌য়ে নদী ও নৌযানগু‌লো‌কে‌ কোনরকম পথচলা। নদীতে দখলের এই উৎসব নিয়ে আমরা ইতিপূ‌র্বে কথা বলছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, তারা বারবার এগুলো উচ্ছেদ করেছেন, কিন্তু এত বিশাল এলাকাজুড়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখা যায়না বলে বারবার এসে দখল করছে প্রভাবশালীরা। আর এভাবে নদীকে আটকে মাছ আহরণের ফলে মাছের চলাচলের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে যাচ্ছে, অবাধ গতিবিধি নষ্ট হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে নদীর নাব্যতা ও জলজীববৈচিত্র্য। অন্যদিকে বাঁশ পুঁতে, ডালপালা ফেলে, কচুরীপানা আটকে ঘের তৈরির ফলে নদীপ্রবাহে যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে,তাতে পলি জমে প্রতিনিয়তই নাব্যতা হারাচ্ছে নদীটি, যেটা এমনকি এই ঘেরের সাথে সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করে নিচ্ছেন। শুষ্ক মৌসুমে শেখর মল্লবর্মণের খণ্ডকালীন পেশা কাঠমিস্ত্রির কাজ। বর্ষায় নদীতে পানি বাড়লে আবার মাছ ধরা পেশায় ফিরে যেতে পারবেন বলে তার আশা। মালোপাড়ায় পেশা বদলের হিড়িক। একদিকে সিসু ও সিরাজ মিয়ারা নদী দখল করে এই শুকনো মৌসুমেও লাখ লাখ টাকা রোজগার করছে। অন্যদিকে, নদীর যেটুকু উন্মুক্ত রয়েছে সাধারণের জন্য সেখানে মাছ না মেলায় মালোপাড়ার বেশীরভাগ জেলেরাই এখন নৌকা তুলে উল্টো করে রেখেছেন নদীর পাড়ে। কেউ কেউ বদলে ফেলছেন বাপদাদার পুরনো পেশাটিও। রবীন্দ্র মল্লবর্মণ এখন দর্জির কাজ করছেন। তার ছেলেরাও এই পেশায় নেই। তারা চলে গেছেন নাপিতের পেশায়। অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মভূমি গোকর্ণ ঘাটের মালোপাড়া এখন ক্ষয়িষ্ণু প্রায়। মেরে-কেটে শ’খানেক পরিবার এখন এখানে আছে। তারা মাছ ধ‌রে, মাছ বেঁ‌চে মাছ দি‌য়ে ভাত খায়। আর তাদের অর্ধেকই এখন আর মাছ ধরার পেশায় নেই, চলে গেছেন অন্য পেশায়। বাকিরাও মাছ ধরার পেশা ছেড়ে দেব দেব করছেন। বি‌শেষক‌রে নবীনগর উপজেলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে যেতে উপযুক্ত সড়ক কিংবা রেলপথ নেই। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। লঞ্চ, স্পিডবোট, নৌকায় তিতাস নদ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নবীনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া পথে যাতায়াত করে। তবে এই নৌপথে ঝক্কির অন্ত নেই। নদীতে অসংখ্য মাছের ঘের, কচুরিপানার স্তূপ চলাচলে সীমাহীন বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এ কারণে ঘটছে দুর্ঘটনাও। তিতাস নদ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়া পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া করা হয়। তবে বর্তমানে বর্ষা মৌসুম ছাড়া এসব পণ্য পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্য সময় তিতাসে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল করতে পারে না। একই অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের উজানিসার থেকে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিতাস নদ দিয়ে চলাচলের অবস্থাও। এসব এলাকার কোথাও কোথাও রীতিমতো তিতাসকে খুঁজে পাওয়াই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য এসব এলাকায় উপরিভাগের মাটি খনন করে নদীর গতিপথ বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ তো গেল তিতাসের পানিপ্রবাহের কথা। তিতাসের ডাঙায়ও রয়েছে নানা বিপত্তি। তিতাসের পার ঘেঁষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়ে উঠেছে অনেক অবৈধ স্থাপনা। আর ময়লা-আবর্জনা ফেলে তিতাসপারের পরিবেশ বিষিয়ে তোলা হয়েছে। এসব দখল-দূষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে সংকীর্ণ হয়ে এসেছে তিতাসের গতিপথ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা থেকে কাউতলী পর্যন্ত তিতাসের পার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। অবৈধ দখলদাররা প্রতিনিয়ত নদীর তীর দখল করতে কৌশল হিসেবে এসব স্থানের তিতাসের পার ঘেঁষে তৈরি করছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অবশ্য আশার কথাও আছে। তিতাসকে বাঁচাতে নদীখনন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাস পর্যন্ত নদের প্রায় ৩০ কিলোমিটারের খননকাজ শেষ হয়েছে। ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তিতাস নদের ৯০ কিলোমিটার অংশ খননের টার্গেট নিয়ে এগিয়ে চলেছে কাজ। এ ছাড়া তিতাসের শাখা নদী পাগলা ও এন্ডারসন খালের মোট ১৩ কিলোমিটার অংশও একই সঙ্গে খনন করা হবে। এর জন্য প্রকল্পব্যয় ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, তিতাস একসময় কালীদাহ সায়র (সাগর) নামে পরিচিত ছিল। পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বেষ্টিত এই তিতাস। জেলা সদর, নবীনগর, আশুগঞ্জ, সরাইল, নাসিরনগর, আখাউড়া, বিজয়নগর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিতাস নদ। সরাইলের বোমালিয়া খাল দিয়ে এসে নবীনগরের চিত্রি গ্রাম দিয়ে মেঘনায় মিলেছে তিতাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাস নদে সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মেড্ডা থেকে কাউতলী এলাকা পর্যন্ত কঢ়ুরিপানার স্তূপ। এ কারণে নৌকা চলাচল করতে পারছে না। তিতাসপারের পূর্ব পাশের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা। পার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একের পর এক বৈধ কি অ‌বৈধ স্থাপনা। এপারের মেড্ডা থেকে ওপারের কাশিনগর, এপারের কারখানাঘাট থেকে ওপারের সীতানগরের দূরত্ব ২০০ থেকে ৩০০ গজ। কচুরিপানার কারণে নৌকায় করে এই অংশটুকু পার হতে সময় লেগে যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। তিন থেকে চারজন মিলে এপার থেকে ওপারে টেনে নিয়ে যাচ্ছে নৌকা। কারখানাঘাট-সীতানগর পারাপারের নৌকার মাঝি অসীত ঋষি বলেন, খুব কষ্ট অয় নৌকা চালাইতে। ফেনা (কচুরিপানা) তো আছেই, অই লগে আছে মাছের দল (ঘের)। লেহাপড়ার পুলাপান স্কুলে যাইতে-আইতে বেশি কষ্ট করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে আখাউড়ার ধরখার অংশ দিয়ে শুরু হয় তিতাসের উপরিভাগ খননের কাজ। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি এ খননকাজের উদ্বোধন করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি বিভাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, তিতাসের যেসব অংশে খনন করা হয়েছিল সেসব অংশই মরে গিয়েছিল। বর্তমানে খুব দ্রুত খননকাজ এগিয়ে চলছে। তবে পানি না থাকায় ড্রেজার নেওয়া যাচ্ছে না কিছু জায়গায়। ফলে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। নতুন সরকা‌রের কা‌ছে তিতাস নদী কাঁ‌দে, কাঁ‌দে তিতাস কে‌ন্দ্রিক তিতাস নির্ভর তিতাস নদী‌বি‌ধৌত জনপদ।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK