সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Tuesday, 09 Oct, 2018 06:56:07 pm
No icon No icon No icon

রাজধানীর মাদ্রাসায় ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ


রাজধানীর মাদ্রাসায় ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : রাজধানীর রামপুরার জাতীয় মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। মাদ্রাসার কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক এ ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে। ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ দেখতে গেলে হাতিরঝিল থানা পুলিশ তাদের ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছে এবং মনগড়া মামলায় যে বিবরণ দেয়া হয়েছে তা তাদের নয়। শুধু বাদী হিসেবে নিহতের পিতার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তদন্তপূর্বক মাদ্রাসার পরিচালকসহ জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, র‌্যাব ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

৯ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান নিহত মাদ্রাসা ছাত্রী সানজিদা রশিদ মিমের পরিবার। এতে উপস্থিত ছিলেন, সানজিদার পিতা হারুন মোল্লা, চাচা হালিম মোল্লা, জুয়েল আকন, ভাই হোমায়েত হোসেন, কিবরিয়া আহমেদ নাইমসহ অন্যান্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত ছাত্রীর মা সীমা আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সানজিদা রশিদ মিম (১৪) পশ্চিম রামপুরার জাতীয় মহিলা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী হিসেবে হোস্টেলে থেকে নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। ঘটনার দিন গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে সানজিদার জন্য খাবার নিয়ে গেলে তার পিতাকে দ্রুত মাদ্রাসায় যেতে বলে। ওই সময় মাদ্রাসার লোকজন মিমের মা সীমার মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে মাদ্রাসায় একটি রুমে ৫ ঘন্টা আটকে রাখে। পরে তারা জানায় সানজিদা গলায় ফাঁস দিয়ে অত্মহত্যা করেছে। এই এই ফাঁকে মাদ্রাসার পরিচালক মোস্তাক আহমেদ পুলিশকে ম্যানেজ করে পোস্টমোর্টেম করে পরিবারের কাউকে দেখতে না দিয়ে একটি এ্যাম্বুলেন্সে সানজিদার মৃতদেহ দেশের বাড়ী মাদারীপুরে পাঠিয়ে দাফন করতে বলে। সানজিদা কেন আত্মহত্যা করেছে জানতে চাইলে পরিচালক মোস্তাক আহমেদ এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করারা জন্য তার মাকে হুমকি দেয়। 
সীমা আক্তার আরো জানান, সানজিদা প্রায়ই তাকে বলতো মাদ্রাসার হুজুর মাওলানা হোসেন, মাওলানা কাওছার ও খতিব মানিক মোস্তাফিজুর রহমান তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। ঘটনার পর সানজিদার ছোট বোন সিমিকে দিয়ে সানজিদার খাতা আনতে বাধ্য করে মাদ্রাসা পরিচালক। ওই খাতার সাদা কাগজে ও তাদের ইচ্ছেমত লেখা মামলায়  জোরপূর্বক নিহতের পিতার স্বাক্ষর নিয়ে তাদের চলে যেতে বলে। ওই সময় মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রীদের রুমের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো। আত্মহত্যার ঘটনাস্থল ও ধরণ তদন্ত করলে সব জানা যাবে। তাছাড়াও ওই মাদ্রাসার পরিচারিকা রওশন আরাসহ অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তাদের সন্দেহ মাদ্রাসা পরিচালক মিমকে যৌন নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে। এখনও তারা এ বিষয়ে মামলা না করার জন্য সানজিদার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ অবন্থায় সানজিদার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও র‌্যাব ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানান নিহতের পরিবার।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK