বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
Wednesday, 08 Aug, 2018 10:14:13 am
No icon No icon No icon

শাহজালালে রাডার প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে


শাহজালালে রাডার প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে


কাউসার আকন্দ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাল্টি-মোড সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (রাডার) প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। প্রকল্পটির বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ২০০৫ সালে উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় তখন সেটি আর এগোতে পারেনি। প্রস্তাবটি এখন যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে এটি যাবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের নতুন নামকরণ করা হয় সিএনএস-এটিএন (অ্যারোনটিক্যাল টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক) সিস্টেম আধুনিকায়ন। এটির পুরো ব্যয় হবে সরকারি অর্থ থেকে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫১ কোটি টাকা। 
বেবিচক সূত্র জানায়,  শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবহৃত রাডার বেশ পুরনো। আধুনিক ও শক্তিশালী রাডার না থাকায় বিমানের অবতরণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে রয়েছে নেভিগেশনাল নানা সুবিধা। কিন্তু রাডারটি অনেক পুরনো হওয়ায় বিরূপ আবহাওয়ায় ব্যাহত হয় বিমান চলাচল।
রাডারসহ এয়ার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পটি দ্রুত সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিএনএস-এটিএন সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য যাবতীয় উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ে সেটি বেবিচকের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। 
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাডারের দৃষ্টির বাইরে থেকে যাচ্ছে অনেক বিমান। ফলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শাহজালালে বিমান অবতরণ আরও সহজ করতে রানওয়ের লাইটিং ও যান্ত্রিক অবতরণ পদ্ধতি বা আইএলএস ক্যাটাগরি ২-এ উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। এতে পাইলট আরও দক্ষতার সঙ্গে উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিভিল এভিয়েশনের সাবেক এক কর্মকর্তার অভিমত, শাহজালালে বর্তমানে যে রাডারটি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি বেশ পুরনো। কয়েকবার রিফার্নিশ করা হলেও বর্তমান সময়ের জন্য এটি উপযোগী নয়। অনেক সময় দক্ষিণ দিক দিয়ে সবার অজান্তে অনেক এয়ারক্রাফট বেশ নিচ দিয়ে চলে গেলেও সেগুলো দেখা যায় না। রানওয়ে দেখতে না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট দেরি হচ্ছে। লাইটিং সিস্টেমও সেভাবে উন্নত নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন রাডার ক্রয় ও আইএলএস ক্যাটাগরি টুতে উন্নীত করা অত্যাবশ্যক।
রাডার বসানো ও এয়ার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির। তিনি জানান, প্রকল্পের প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। সেখানে যাচাই হবে। তারপর তা যাবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেক বৈঠকে তুলবেন সংশ্লিষ্টরা। 
বেবিচক সূত্র আরও জানায়, সিএনএস-এটিএন সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্পটির বিষয়ে ২০১৩ সালে আবারও সিদ্ধান্ত হয়। গত ১ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি বেবিচকের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়। সেই উপস্থাপনায় রাডারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। 
ওই সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, সচিব মো. মহিবুল হক, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মিজানুর রহমান, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান, সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর এ মোস্তাফিজুর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
বেবিচক সূত্র জানায়, প্রকল্পটি দ্রুত সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আইএমইডি (ইমপ্লিমেন্টেশন, মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন ডিভিশন), বুয়েট, পরিকল্পনা কমিশন, বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে। তার আগে সিএনএস-এটিএন সিস্টেম আধুনিকায়ন প্রকল্পের ডিপিপিতে কারিগরি স্পেসিফিকেশনগুলো আইকাওয়ের (আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন) টেকনিক্যাল কো-অপারেশন ব্যুরোর বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তৈরি করা হয়। 
সূত্র আরও জানায়, গত বছরের মার্চের শুরুর দিকে সাপ্লাই, ইনস্টলেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন অব মাল্টি-মোড সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (রাডার, এডিএস-বি) এটিএস অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিস্টেম’ শীর্ষক প্রকল্পটি মন্ত্রিসভায় তোলা হয়েছিল এবং সেটি সেখানে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদনও হয়। এরপর থেকে সেটিকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করছিল বেবিচক। 
গত বছরের ১৫ মার্চ সরকারি অর্থায়নে সমন্বিত প্যাকেজ আকারে প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সময় প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৭০০ কোটি টাকা। কিন্তু সেই প্রস্তাবিত ব্যয়কে কিছুতেই আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা এর চেয়েও আরও কম দরে রাডার কেনার পক্ষে ছিলেন। এ কারণেই মাঝে চলে যায় আরও একটি বছর।  
বেবিচকের সদস্য (অপারেশন ও প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য বেবিচকের পক্ষ থেকে বিশদ প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। সেখানে যাচাইয়ের পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে ডিপিপি। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি একনেক বৈঠকে উঠবে। রাডারসহ এয়ার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আরও কয়েকটি বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।
রাডার প্রতিস্থাপনে বেবিচক ২০০৫ সালে উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সেটি গত সাত বছর পর ২০১২ সালে আলোচনায় আসে। সে বছর একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু তারা যে ব্যয়ের দর দিয়েছিল, তা ৩৩০ কোটি টাকা ছিল। যদিও সেটি ছিল প্রাথমিক প্রস্তাব। পরে আবারও ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পিপিপিতে (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। 
এর দুই বছর পর ২০১৫ সালে দরপত্র ডাকা হয়। সেই দরপত্রের আহ্বানে চারটি প্রতিষ্ঠান সাড়া দেয় এবং অংশ নেয়। পরে তাদের দরের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই চলে। শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম অ্যাসোসিয়েটসকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয় বেবিচকের নির্বাচনে । তারা যে দর দিয়েছিল, সেটি মূল্যায়নের জন্য তার প্রতিবেদন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু করিম অ্যাসোসিয়েটসের সেই ব্যয় ছিল অস্বাভাবিক। এ কারণে মন্ত্রণালয় ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি। ওই সময় বেবিচকের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তথ্য পাওয়ার পর মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়।

সূত্র: প্রিয় ডটকম।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK