বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Sunday, 10 Jun, 2018 01:55:35 pm
No icon No icon No icon

দাদা সজল গ্রেফতার: মূলহোতা মনিরাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা


দাদা সজল গ্রেফতার: মূলহোতা মনিরাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা


খন্দকার হানিফ রাজা, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাব-পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে একযোগ মাদকবিরোধি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এরই প্রেক্ষিতে রাজধানীতেও চলছে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামপুরার কুখ্যত মাদক ব্যবসায়ী দাদা সজলসহ ২০জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ৫’পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও এখন পর্যন্ত ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে মাদক ব্যবসার মূলহোতা আয়শা আক্তার মনিরা ওরফে মনি। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই রামপুরা মাদক মুক্ত হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিরার খোঁজে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাদা সজলসহ ন্যূনতম ৬ জন মনিরার সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এই মনিরাকে ইতোপূর্বে একাধিকবার র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে। আদালত থেকে জামিনে বের হয়েই পুনরায় সে মাদক ব্যবসা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, সে তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পশ্চিম রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী ও খিলগাঁওসহ অন্যান্য এলাকায় ইয়াবা সাপ্লাই দিয়ে থাকে। তার স্বামী মারুফও এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে যারাই রুখে দাঁড়াবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অভিযোগে রামপুরা থানায় মনিরা ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে রয়েছে এক শতাধিক জিডি। 
এছাড়াও গত ৫ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর মাদক প্রতিরোধে সহযোগিতা প্রসঙ্গে একটি অভিযোগ করা হয়েছে আয়েশা আক্তার মনিরার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মনিরার ভয়ে এলাকাবাসী তটস্থ থাকে। তার নেতৃত্বেই রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, খিলগাঁওসহ বিভিন্নস্থানে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। 
অপরদিকে, গত ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শাম্মী আক্তার সীমা নামের এক ভুক্তভোগী মনিরা, দাদা সজল, মনিরার বিয়াইসহ আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নং-১৭৫. তাং-০৫/০৯/২০১৭ইং)। জিডিতে উিল্লেখ করে বলা হয়, তিনি রামপুরা থানার ২২ নং ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (মহিলা কাউন্সিলর পদে) হিসেবে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে অভিযুক্তরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অপবাদ, কুৎসা রটনা ও মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করছে যাতে করে তার রাজনৈতিক ক্যরিয়ার নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে অশ্লীল কল্পকাহিনী বানিয়ে বিভিন্ন অনলাইনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাপিয়ে মান-মর্যাদা ক্ষুন্নের ষড়যন্ত্র করছে। গত ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর ৫ হাজার কপি পোস্টারসহ র‌্যাব-৩ এর হাতে আটক হয় মনিরা। ২০০২ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওই মনিরা তার বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করতো। পরে তার ভাই চোরা সুমন ও সে বাসা থেকে ৩১ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে। এর প্রেক্ষিতে তৎকালীন সময়ে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে শত্রæতা সৃষ্টি হয়। গত ২০১৭ সালের ২১ জুলাই মনিরা ও তার সহযোগিরা সীমার ছেলে রিফাতকে আটক করে মাদক দিয়ে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এছাড়াও তারা রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য ঘোষণার জন্য মনিরাসহ তার সহযোগিরা ষড়যন্ত্র করছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানান তিনি।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আ. রউফ তদন্ত শেষে সত্যতা পেয়ে গত ২১ এপ্রিল (নন এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৮৫, তা-১৫/০৫/২০১৮ ইং) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর জন্য আদালতে আবেদন করেন।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK