শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Friday, 08 Jun, 2018 09:04:12 pm
No icon No icon No icon

দুই পুলিশ কর্তার অপকর্ম: মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি গঠন


দুই পুলিশ কর্তার অপকর্ম: মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি গঠন


খন্দকার হানিফ রাজা, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস ২৪ ডটনেট: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত। কিন্তু ব্যক্তি স্বার্থে ওই বাহিনীর অসাধু সদস্যরা নিরাপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও নানা রকম হুমকি দিয়ে হয়রানি করবে তা কোনোক্রমেই কাম্য নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে কামাল উদ্দিন স্বরণ ওরফে জিয়া নামের এক যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভাষানটেক থানার ওসি ও পরিদর্শকের (তদন্ত) বিরুদ্ধে। এছাড়াও পূর্বে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় হেলেনা নামের এক নারী মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করেছিলেন আইজিপি কমপ্লেইন সেলে। ভুক্তভোগী কামালের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্যদের।
গত ২৪ মে কামাল উদ্দিন স্বরাণ ওরফে জিয়া পুলিশ হেডকোয়ার্টারে এবটি লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়াও তিনি পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরও অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ মে রিকশায় করে ভাষানটেক এলাকায় মুসলিম মডার্ন স্কুল সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে তিনি সাগরিকার দিকে যাচ্ছিলেন কামাল। পথে জটলা দেখে, কী হয়েছে জানতে গেলে এক নারী তার দিকে তেড়ে আসেন এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই কে? তুই কি সাংবাদিক?’ নিজেকে সাধারণ মানুষ পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করে স্থানীয় রাঞ্জু বেগম, তার ছেলে ইমু, তাদের সহযোগী সুজন, ইমরানসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। এক পর্যায়ে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে ভাষানটেক থানায় নিয়ে যায়।
ভাষানটেক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরুল ইসলাম তাকে বলে, ওরা এই এলাকার স্থানীয় মাদক ডিলার ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী। তোকে মাথায় লম্বা চুলওয়ালা যে ছেলেটা নিয়ে আসলো, তার নাম হলো ইমু। কচুক্ষেত পুরনো বাজারের মাদক ব্যবসায়ী। ইমুর মা রাঞ্জুকে তুই চিনিস? সে কচুক্ষেত এলাকার নূরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি। তারা প্রতিমাসে থানায় ৩/৪ লাখ টাকা দেয়। এখন ভেবে দেখ, তাদের কী ক্ষমতা।’
‘তোকে যদি ছেড়ে দিই, অথবা ইমু গংদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই, তাহলে আমার ও ওসি স্যারের খবর আছে। তার চেয়ে ভালো তুই আমাকে ও ওসি স্যারকে একলাখ টাকা দে। তোকে সাধারণ মামলা দিয়ে দেবো। ১০-১২ দিন জেল খেটে বের হয়ে আসবি। আর  যদি টাকা না দিস, তবে তোকে হেরোইন দিয়ে মামলা দেবো। কমপক্ষে ছয় মাসের আগে বের হতে পারবি না।’
এক লাখ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকার কথা জানানোর পর তাকে ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। টাকা দিতে না পারার বিষয়টি শোনার পর ওসি তাকে পিটিয়ে সাইজ করার নির্দেশ দিয়ে বলে, ‘ওরে পিটাইয়া সাইজ কইরা ফালাইলে ও টাকা দিতে রাজি হবে, ওর বাবাও রাজি হবে।’
পরে ওসির নির্দেশে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে সেখানে রশি দিয়ে বেঁধে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। জ্ঞান ফেরার পর একটি মামলায় আসামি করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ওই মামলায় ১২ মে জামিনে তিনি বের আসেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। 
এ ঘটনাটি ‘মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে নির্দোষ ব্যক্তিকে ফাঁসালেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা’, ‘ঘুষ না দেয়ায় থানায় আটকে রেখে নির্যাতন’, ‘মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ টাকা দাবি ওসির’, ‘ঘুষ না দেয়ায় হেরোইন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি’সহ বিভিন্ন শিরোনামে বিষয়টি অনলাইন ও পত্রিকায় ব্যাপক প্রচার পেলে মানবাধিকার কমিশনের গোচরিভুত হয়।  
একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধান প্রয়োজন। এ পরিপেক্ষিতে ২৫ মে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমাকে আহবায়ক এবং উপ-পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মোহাম্মদ গাজী সালাউদ্দিনকে (চলতি দায়িত্ব) সদস্য সচিব করে দুই সদস্য বিশিষ্ট অথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। এই তথ্যানুসন্ধান কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
অপরদিকে, ভাষানটেক থানা এলাকার পুরাতন কচুক্ষেতের বাসিন্দা হেলেনা নামের নারী ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর ভাষানটেক থানার ওসি, ইন্সপেক্টরসহ (তদন্ত) আরো কয়েকজন এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইজিপি কমপ্লেইন সেলে অভিযোগ করেছিলেন (এস-১০২৩)। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেছিলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের নির্যাতনে শিকারে পরিণত হন। ব্যবসায়ীরা ভাষানটেক থানার ওসিকে মোটা অংকের মাসোহারা দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ওসি উল্টো তাকেই মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করে। তাকে ধরে এনে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলও খাটানো হয়। একে একে তার বিরুদ্ধে দেয়া ৫/৬টি মিথ্যা মাদক মামলা। পরবর্তীতে গত ১৬ মে দ্বিতীয়বারের মতো হেলেনা আইজিপি কমপ্লেইন সেলে পুনরায় ওসি ও ইন্সপেক্টরসহ (তদন্ত) মাদক ব্যবসায়ীদের নামে অভিযোগ করেন।
তিনি অভিযোগে বলেন, গত ৮ মে দুপুর দেড়টার দিকে কচুক্ষেতের বাসায় যাওয়ার সময় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইমু, তার স্ত্রী মাহমুদা, সুজন, ইমুর শাশুড়ি হালিমা, শাহিদা, মাদক ব্যবসায়ী কালা বাবুলের স্ত্রী রাঞ্জু, আফরোজা, আঁখি, আরাফাতসহ আরো ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। এতে তার ডান চোখ ও সারা শরীরে গুরুতর জখম হয়। এসময় তারা হেলেনার শিশুপুত্র শ্রাবণকেও ব্যাপক মারধর করে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা বলে, ওসি এবং ইন্সপেক্টর (তদন্ত) স্যার তোকে মেরে লাশ নিয়ে থানায় যেতে বলেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত ডান চোখের উপরে জখম হওয়ায় ৪টি সেলাই করা হয়। হাত-পাসহ সারা শরীরের লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় রাতে তিনি জানতে পারেন, তাকে ১ নম্বর আসামি বানিয়ে যারা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিল তাদের আসামি বানিয়ে ভাষানটেক থানায় একটি মামলা করা হয়েছে (মামলা নম্বর-১১, তারিখ : ০৮/০৫/২০১৮ইং)। যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। যারা হামলার সাথে জড়িত ছিল, তারা সবাই এলাকার চিহ্নিত ও পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়াও গত ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে  প্রচার হয়। যার কারণে ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ, ইন্সপেক্টরসহ (তদন্ত) মাদক ব্যবসায়ীরা পূর্ব থেকেই ক্ষিপ্ত ছিল। তারা সবাই মিলে তিনি যাতে এলাকায় না থাকতে পারেন তার জন্য তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করার পাঁয়তারা করে আসছিলো। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সদয় জরুরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK