রবিবার, ২৭ মে ২০১৮
Friday, 11 May, 2018 07:19:53 pm
No icon No icon No icon
সাবধান বাংলাদেশ

তাসপিয়া ও রওনক হত্যার নেপথ্যে


তাসপিয়া ও রওনক হত্যার নেপথ্যে


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: ২০১৮ সালের মে মাসের প্রথমদিকে চিটাগাংয়ের এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নাইনের ছাত্রী তাসপিয়ার নির্মম হত্যাকান্ডের জন্য অনেক মেয়ে তাদের ব্যক্তিগত এফবিতে এস্টাটাস দিয়ে এবং তাদের এস্টাটাসে আবার অসংখ্য মেয়ে তাদের কমেন্টসে অপরাধীদের দ্রুত খুজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি/ফাসি দেবার দাবি করেছে। ঠিক আছে। ব্যাপারটা খুব দুঃখজনক। কিন্তু আশ্চর্য হলাম কোন একজন মেয়েও তাদের স্টাটাস/কমেন্টসে একথা বলল না/বলেনি যে, ছোট্ট একটা স্কুল পড়ুয়া মেয়ের এভাবে মা/বাবাকে না জানিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে বাইরে বেড়িয়ে যাওয়া এবং গোপনে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ডেটে যাওয়া ঠিক হয়নি। অন্যায়কে অন্যায় বলা যাবে না এ কেমন কথা? মেয়ে বলে কি সাত খুন মাফ? একজন মেয়ে কি অন্য কোন মেয়ের কোন অন্যায় কাজকে হাত দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারবে না? আর সাধারণ নারীরা, নারীবাদীরা তো সারাক্ষণ ধর্ষক/হত্যাকারীদের চৌদ্দগুষ্টি উদ্দার করছেন এবং পুরুষদের মানুষ হবার পরামর্শ খয়রাত করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তারা কি বখে যাওয়া বিপদগামী/অতিরিক্ত স্মার্টনেস/ডেমকেয়ার ভাবধারী মেয়েদের প্রতি ভাল হয়ে চলার/সাবধান থাকার কোন পরামর্শ/উপদেশ দিয়েছেন? তাহলে তারা কিভাবে নারীদের ভালর জন্য/ক্ষমতায়ণের জন্য কাজ করছেন? ছেলেরাও তো মেয়েদের বিশ্বাস করে, স্বপ্ন দেখে, প্রেম, বিয়ে করে প্রতারণা, ব্লাক মেইলিং, পরকীয়া, হত্যার নির্মম শিকার হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও বিত্তশালী ঢনাঢ্য শেণির ছেলেদের সাথে মেয়েদের একাংশও সমভাবে মদ/মাদক সেবন ও ব্যবসায় জড়িত, পরকীয়া/দেহ ব্যবসা/সন্ত্রাসী কাজ/হত্যাকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। গত বছর ২০১৭-তে মাদক 


সেবী তিশা টাকার জন্য ও তাকে বকাঝকার কারণে বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে নিজের মা-বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই বছর কয়েকজন নারী তাদের পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলায় নিজের স্বামী, ছেলে/মেয়েকে হত্যা পর্যন্ত করেছে পরিকল্পনা করে। প্রেম ঘটিত ব্যাপারকে কেন্দ্র করে হলি উৎসবের দিন ঢাকার শাখারীবাজারে কলেজ ছাত্র রওনককে পরিকল্পিত ও সংবদ্ধভাবে হত্যা করা হয় তার সাবেক প্রেমিকার মদদে। মোবাইল, ফেসবুক, নেটের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা কোন পরিচয়ের সূত্র ধরে মেয়েরা ছেলেদের সাথে প্রেম/পরকীয়া/সেক্স/দেহ ব্যবসা করছে। ঘরের টাকা-গহনা নিয়ে পরপুরুষের হাত ধরে পালিয়ে যাচ্ছে। এতে এরা একদিকে নিজেরাও প্রতারণা, ধর্ষন, হত্যার শিকার হচ্ছে, পতিতালয়ে বিক্রি হচ্ছে/পাচার/পেগনেন্ট হচ্ছে, পেটের অবৈধ বাচ্চা/সন্তানকে এবোশান করাচ্ছে/জন্ম দিচ্ছে। অন্যদিকে নিজের ও পরিবারের সম্মান-মর্যাদাকেও ভূলুন্ঠিত করছে। তাই ছেলেরাই কেবল অপরাধ করছে না মেয়েরাও অপরাধ করছে/করতে ইন্দন যোগাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের যেমন কোন জাত/ধর্ম নেই তেমনি অপরাধীদেরও কোন লিঙ্গ পরিচয় নেই/করা উচিত না। অথচ এগুলো সাধারণ নারী এবং নারীবাদীদের চোখে পড়ছে না। কিছু পুরুষের অপকর্মের কারণে একশ্রেণির বিবেকহীন নারীবাদী নারী ঢালাওভাবে পুরুষ জাতিকে দুষছে/পুরুষ জাতিকে গালাগাল করে ঝাল মিটাচ্ছে। এগুলো চরম অন্যায়, মানবতা বিরোধী এবং বিকৃত কুৎসিত লিঙ্গবিদ্বেষী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। নারীর স্বাধীনতা, প্রগতিশীলতা, ক্ষমতায়ণের মানে তো শুধু পুরুষদের দোষ/অপরাধ খুজে বেড়ানো না। তাদের সাথে শত্রু/প্রতিদ্বন্দ্বীর মত পাল্লা দিয়ে/বিবাদ করে চলা না। তাই অন্যকে গালি/উপদেশ দেবার পূর্বে নিজের মুখকে একবার ভালভাবে আয়নাতে দেখে নেয়া উচিত এবং নিজের মনকেও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন করা উচিত আমি নিজে কি ভালো? আমার যা করছি/করতে যাচ্ছি তা কি ভাল/ঠিক হচ্ছে? এর পরিণাম ভাল/মন্দ/বিপদজন কি হবে/হতে পারে? আমার কোন ভুল/খারাপ কাজের জন্য আমি/আমার পরিবার কোন বিপদে পড়ব/পড়বে না তো? সম্মানহানি হবে না তো? তাহলেই অনেকে অনেক বিপদ থেকে নিজেকে/নিজের সন্তানকে/পরিবারকে সাবধান করতে/নিরাপদ রাখতে পারবেন। তাই বলছি আগে নিজেকে জানুন/জানার চেষ্টা/সাধনা করুন। তাহলে যেকোন ব্যাপারে ধীরস্থিরভাবে ভাল, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আরো সহজ হবে। আর হ্যাঁ, অন্যের সাথে নিজেকে, নিজের স্বামী/স্ত্রী, সন্তানদের/পরিবারকে কখনো তুলনা করবেন না। নিজেদের মত করে, শখ-সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে করে ভাল, আধুনিক ও সামাজিকভাবে চলার চেষ্টা করুন। সন্তানদের শিক্ষিত অসামাজিক যন্ত্রমানব এবং আধুনিক বানাবার নোংরা প্রতিযোগীতা থেকে সরে আসুন। হাজারো ব্যস্ততার মাঝে স্বামী/স্ত্রী, সন্তানদের সময় দিন। একসাথে খান, টিভি দেখুন, বেড়াতে যান, খেলুন, আড্ডা মারুন। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের ভাল সহযোগী ও বন্ধু হন/হবার চেষ্টা করুন এবং একই সাথে নিজেরা সন্তানদের সাথেও ঘনিষ্ঠ বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন নিজেদের ও সন্তানদের মঙ্গলের জন্যই। আগে নিজেরা ছোটদের সাথে আদর-ভালবাসাপূর্ণ ব্যবহার করুন। বাসায়/বাইরে বড়/মুরুব্বিদের সাথে ভাল-সুন্দরভাবে, সম্মানের সাথে কথা বলুন/ব্যবহার করুন। আপনাদের দেখেই তো সন্তানরা বাস্তবে শিখবে। একইভাবে সন্তানদেরও তার চেয়ে ছোট/সমবয়সীদের সাথে আদর ও বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতে/মিশতে শেখান। বড়/মুরুব্বিদের সাথে ভাল-সুন্দরভাবে কথা বলতে, ব্যবহার করতে, সম্মান দিতে শেখান। পরিবার, পরিজন, আত্নীয়দের সাথে মিশতে শেখান। সন্তানকে কেবল সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত, আধুনিক ওভার স্মার্ট নয়, ভাল মানুষ এবং সুনাগরিক করে তোলার উপর সর্বাধিক মনোযোগ ও গুরুত্ব দিন। যার ভাল ফল ভবিষ্যতে বাবা-মাই পাবেন সুনিশ্চিতভাবে।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK