শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮
Tuesday, 24 Apr, 2018 11:17:18 am
No icon No icon No icon

ধানমন্ডির ম্যাফেলিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উৎযাপন


ধানমন্ডির ম্যাফেলিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উৎযাপন


আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথমদিকের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ধানমন্ডির ম্যাপেলিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর অনেক শাখা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই কিছুটা ব্যতিক্রম অন্য সব ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে। ম্যাপেলিফ স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী, দেশজ, লোকজ মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে সমন্বয় ও ধারন করেই তার অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছে। এই স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম রয়েছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারীতে ভাষা দিবস উৎযাপন এবং ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠান আয়োজন স্কুল কর্তৃপক্ষ করে থাকে। প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও ৯৬-নং হাউজ বিল্ডিংয়ের স্কুল অডিটোরিয়ামে ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠান নববর্ষ ১৪২৫ আয়োজন করা হয়। তবে আগে কেবল ছাত্রীদের/মেয়েদের জন্য ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হোত। পরে ছাত্রদের অভিভাবকদের আপত্তি, অনুরোধের প্রেক্ষাপটে বিগত কয়েক বছর ধরে ছাত্রদের/ছেলেদের জন্যও পৃথকভাগে নববর্ষের আয়োজন করছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথকভাবে দুইদিনে ভাগ করে অডিটোরিয়ামে আয়োজন করে থাকে। আর ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট দিনে ক্লাস সেকশান অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। প্রথম ভাগে ক্লাস ওয়ান থেকে থ্রি, দ্বিতীয় ভাগে ক্লাস ফোর থেকে সিক্স এবং তৃতীয়ভাগে ক্লাস সেভেন থেকে নাইন পর্যন্ত হয়ে থাকে। উপরের ক্লাস এ এবং ও লেবেলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সম্ভবত আরেকদিন আয়োজন করা হয়ে থাকে। আমি ক্লাস ফোর থেকে সিক্স এর ছাত্রদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। ক্লাস ওয়ান টু থ্রির ছাত্রদের অনুষ্ঠান শেষের পর তারা ক্লাস অনুসারে টিচারদের সাথে সাড়িবদ্ধভাবে নিচে নেমে যায় পেছনের সিড়ি দিয়ে এবং ফোর টু সিক্সের ছাত্ররা সামনের সিড়ি দিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে কার্পেটের উপর বসে পড়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য। ঢোলওয়ালার ঢাকের মনোরম ঢাকের বাদ্যের সাথে অনুষ্ঠান সঞ্চালণকারী ম্যাডাম তার উপস্থিত বুদ্ধিদীপ্ত উৎসাহ, উল্লাস ব্যঞ্জক বক্তব্য, কবিতার ছন্দে, গানের সুরে ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে বৈশাখী আনন্দ-উল্লাসের আবহ ও রেশ ছড়িয়ে দেয়।

ছাত্ররা প্রথমে সমবেতভাবে এসো হে বৈশাখ এসো এসো এসো বৈশাখী আগমণী গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর বাংলা সোনার বাংলাদেশ, 
হাসন রাজার লোকে বলে বলে রে ঘর বাড়ি ভালা না আমার, লালনের তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা, 
ক্লাস টিচাররা সমবেতভাবে গাড়ি গাড়ি চলে না চলে না রে গানের সাথে নাচও করে শিক্ষার্থীদের আনন্দ দেন।। একজন স্যার জাতীয় কবি নজরুলের নয়ন ভরা জল গো তোমার আচল ভরা ফুল গানকে তিনভাবে তিন ভিন্ন উচ্চারণে গেয়ে শোনান, এরপর ছাত্ররা সমবেতভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভূবন ভরা, মোরা ঝর্ণার মত উদ্দম মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল গান গায়। এরপর ক্লাস টিচাররা আরেকটি সমবেত গান গায়, নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন, নাইরে টেলিগ্রাম, বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌছাইতাম। তবে অনুষ্ঠানে পূর্বের ন্যায় একজন ম্যাজিশিয়ান ও একজন কমেডিয়ান এক্টর থাকলে এবং ছাত্ররা কৌতুক অভিনয় করলে মানে যাদু ও কৌতুকের ব্যবস্থা রাখা হলে আরো একটু ভাল হোত। ছাত্ররা গানের সাথে যাদু দেখে, কৌতুক শুনে আরো মজা, আনন্দ পেত। উল্লাস করতে পেত।

ম্যাপেলিফের মত সানিডেল স্কুলও প্রতি বছর বৈশাখী বর্ষবরণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে।
এইসব ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কর্তৃপক্ষের এরূপ বাঙালী সাংস্কৃতিক আয়োজনের উদ্যেগ নিঃসন্দেহে মহৎ, দৃষ্টান্তমূলক, প্রশংসার যোগ্য। এতে করে এইসব ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের, নিজ জাতির, নিজ ভাষার দেশজ ও লোকজ বাংলা সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হবার, একাত্ন হবার এবং ধারন করার সুযোগ পাচ্ছে। সেই সাথে স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল-বাসায় নিয়মিত পড়ালেখা, পরীক্ষার গন্ডি ও চাপের বাইরে এসে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটা দিন তাদের ব্যক্তিগত ও স্কুল জীবনকে কিছুটা হলেও ব্যতিক্রমভাবে, আনন্দ, উল্লাসের সাথে/মধ্য দিয়ে বন্ধু-মিস-স্যারদের সাথে মিলেমিশে উপভোগ, উপলব্দি করার সুযোগ পাচ্ছে। মিস-স্যাররাও তাদের প্রতিদিনের রুটিন মাফিক স্কুল ক্লাস ওয়ার্কের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে একটু হাসিঠাট্টা, আনন্দ-উল্লাস করে কলিগ ও স্টুডেন্টদের সাথে একটি দিন কাটাতে পারছে। এই যান্ত্রিক ব্যস্ত নগরজীবনে এটাও কিন্তু কম প্রাপ্তি নয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য। সন্তানদের চোখমুখে উৎসবের আনন্দ, উল্লাসের রেশ, পড়নে রংবেরংয়ের কাপড়ের সাজ অভিভাবকদের চোখমুখেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তারাও সেজেগুজে এসেছিল। উপরে অডিটোরিয়ামে ছাত্ররা বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতেছিল আর তাদের অভিভাবকরা নিচতলায় গল্পগুজব করে, ছবি/সেল্ফি তুলে, ক্যান্টিনে নাস্তা করে সময় কাটাচ্ছিল এবং সন্তানদের নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিল।

আমি এটুকু অন্তত বলব, আমাদের এই ব্যস্ত নগরজীবনে বাচ্চা/ছেলেমেয়েদের স্কুলে পড়াতে গিয়ে তাদের পেছনে অভিভাবকদের জীবন, যৌবন, অর্থ, শ্রম সব খরচ হচ্ছে। তারা যে যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের সন্তানদের ভাল, সুন্দর জীবন, আনন্দ-বিনোদনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সন্তানদের স্বপ্ন, আবদার, চাহিদাকে সময় ও সাধ্যের মধ্যে পূর্ণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এতে করে তারা তাদের নিজেদের জীবনকে একটু উপভোগ, আনন্দ করারও সময় পাচ্ছে না/করতেও অনেকে ভুলে গেছে। তাদের জীবনে হাসি, আনন্দ, উল্লাস করার সময় খুবই সীমীত হয়ে পড়েছে। তাদের সকল চিন্তা, পরিকল্পনা, শ্রম, ত্যাগ, আনন্দের মূলে কেবল নিজেদের সন্তানদের ভালভাবে পড়াবার, ভাল মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার, ক্যারিয়ার গড়ে দেবার, তাদের মুখে হাসি দেখার আকাঙ্ক্ষা। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকে একটু সদয় বিবেচনার সাথে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের প্রতিও সুদৃষ্টি দেয়া উচিত। তারা যদি স্কুল বিল্ডিংয়ের নিচতলায় শিক্ষার্থীদের জন্য অপেক্ষামান অবিভাবকদের বসার এবং প্রজেক্টরের মাধ্যমে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ছাত্রছাত্রীদের বর্ষবরণের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লাইভ দেখানোর সুব্যবস্থা করেন দেয় তাহলে তারাও স্কুলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি দেখতে পেত, উপভোগ ও আনন্দ করতে পারত।

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK