রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭
Monday, 04 Dec, 2017 04:21:46 pm
No icon No icon No icon

ভাষাণটেকে মাদক ব্যবসায় রাজী না হওয়ায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিলো পুলিশ


ভাষাণটেকে মাদক ব্যবসায় রাজী না হওয়ায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিলো পুলিশ


খন্দকার হানিফ রাজা, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটনেট : রাজধানীর ভাষাণটেক এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে থানা পুলিশের দহরম-মহরম চলছে। মোটা অংকের মাসোহারা পাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের কদর বাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান তাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলছে কতিপয় বেপথগামী পুলিশ অফিসার। এরই প্রেক্ষিতে মাদক বিরোধী র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করায় ও মাদক ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় এক পরিবারকে বইতে হচ্ছে একাধিক মিথ্যা মামলার বোঝা। এক ভুক্তভোগী নারী এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির জরুরী হস্তক্ষেপের দাবী জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী হেলেন তার পরিবারকে বাঁচাতে এই দাবী জানান। 
সংবাদ সম্মেলনে হেলেন জানান, ১৯৯৯ সালে হাবীবুর রহমান বাচ্চুর সাথে আমার বিবাহ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য ওই পরিবারটি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, যা বিয়ের পূর্বে জানতে পারিনি। ওই পরিবারের অপরাপর সদস্যদের মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানাই। এতে তারা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ইতোমধ্যে বড় ছেলে হামিদুর রহমান রাজুর জন্ম হয়। পরিবার ও সন্তানের কথা ভেবে বিচ্ছিন্ন হতে পারিনি। এক মাত্র আমার স্বামী বাচ্চু ছাড়া কেউ আমার কথা শুনেনি। এই মাদক ব্যবসার বিষয়টি ভাষাণটেক থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি সাব্বির আহমেদ মুন্সীকে অবগত করে তাকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করার কথা বলি। এরপর মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার উপর হামলা চালায় ও মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে আহত করে। মাদকের বিরুদ্ধে থাকার জের ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের প্ররোচণায় গত ১১/০৩/২০১৭ ইং তারিখে কয়েকজন পুলিশ সদস্য পাঠিয়ে আমার কিশোর ছেলেকে ধরিয়ে নিয়ে যায়, আমি পুলিশ সদস্যদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে ভাষাণটেক থানার এসআই আসিফ, এসআই মোখলেস, এসআই কামরুল, এসআই সোহেল ও এসআই ফারুক জোড়পূর্বক আমাকে ছেলেসহ গাড়ীতে তুলে নেয় ও গাড়ীর মধ্যে ছেলের সামনেই পুলিশ সদস্যরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে ও ব্যাপক মারধর করে। পর দিন ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে কোর্টে চালান করে। পরে জানা যায় পুলিশ ৩’শ ৭৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার দেখিয়ে চালান করেছে (ভাষাণটেক থানার মামলা নং-১০৩/০৩/২০১৭)। বিনা দোষে ৩ মাস কারাভোগ করে জামিনে বের হই।
তিনি আরো জানান, প্রায় ৩ মাস পর র‌্যাবের একটি টিম স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী কালা বাবুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা ধারণা করে আমি তাকে ধরিয়ে দিয়েছি এবং তারা হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখে। এরই মধ্যে গত ১০/১১/২০১৭ তারিখে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমার কিশোর ছেলে রাজনকে বিনা দোষে ধরে নিয়ে গিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ভূয়া মাদক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায় (ভাষাণটেক থানার মামলা নং- ১০,/১০/১১/২০১৭ ইং)। ওসির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তুমিও পুলিশকে টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা করো, না হয় এলাকা ছেড়ে চলে যাও, ডিস্টার্ব করো না।
তিনি আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধামকিতে ছেলেদের কথা চিন্তা করে এই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে গত ১৯/১১/২০১৭ তারিখ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এই হয়রানির কথা জানাই, তখন সাধারণ সম্পাদক আরেকজন সাংবাদিককে বিষয়টি নিয়ে ওসির সাথে কথা বলেতে বলেন। ওই সাংবাদিক তখন ওসি সাব্বির আহমেদ মুন্সীকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে বলে আপনি কিসের সাংবাদিক? আপনার মত সাংবাদিকদের সব সময় পকেটে রাখি, আর ফোন দেবেন না, সমস্যা হবে বলে ফোনের লাইন কেটে দেয়। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান করাকালীন রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানতে পারি ভাষাণটেক থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নূরুল ইসলাম শিকদারের নেতৃত্বে এসআই মাহাবুব, এসআই কবীর, এসআই রবিউল, এসআই ফারুক, এসআই বাসেদ আমার বাড়ীর গেট ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে বাড়ীর আসবাবপত্র ভাংচূড় করে ও রুমে ঢুকে নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ছোট ছেলে শ্রাবণকে বেদম মারধর করে এবং আমার স্বামী হাবীবুর রহমান বাচ্চুকে আটক করে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে শ্রাবণ তার পিতার জন্য থানা হাজতে খাবার নিয়ে গেলে এক মহিলা পুলিশ সদস্য জোড় করে তার পকেটে ১০ পিস ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে বলে তোর পকেটে ইয়াবা পাওয়া গেছে তোকেও জেলে ভরবো। পরে স্বজনরা ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিলে শ্রাবণকে ছেড়ে দেয়। পরে আমার স্বামীকে কোর্টে পাঠানো হয়। পরে আমরা জানতে পারি স্বামীর কাছ থেকে দুই হাজার ২০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার দেখিয়ে ও আমাকে পলাতক আসামী করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এরই মধ্যে স্বামীর জামিনের জন্য কোর্টে গেলে সেখানেও এসআই মাহবুব তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালায়। শুধু তাই নয় এরই মধ্যে ওসি ফোনে জানায় আমরা জানতে পারলাম তুই নাকি সংবাদিক সম্মেলন করবি? যদি করো আর সাংবাদিকদের ঘটনা জানাও তাহলে তোর দুই ছেলেসহ কপালে দুঃখ আছে। কাউকে কিছু বললেও কোনো লাভ হবে না। আমাকে কিছু করতে পারবি না বলে হুমকি দেয়।
তিনি জানান, বর্তমানে আমার ছেলেদের নিয়ে আমি গভীর উৎকণ্ঠায় থাকি। কারণ, স্থানীয় মাদক স¤্রাট কালা বাবুল, জুয়েল, হাসনা, রুবেল, ইমু, মাহমুদা, আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী নিকিতার সহযোগী কাশেম ও শাহিদা, আফরোজা, রেহেনি, রফিক ওরফে পাইটু, রায়হান, রনজু ও হেনা যেকোনো সময় আমার ক্ষতি করতে বা মাদক দিয়ে ধরিয়ে দিতে পারে বা অত্যাচার-নির্যাতন করতে পারে। এমতাবস্থায় আমার পরিবারকে রক্ষা করতে ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির জরুরী হস্তক্ষেপের দাবী জানান তিনি।

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK