মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭
Friday, 17 Feb, 2017 05:32:23 pm
No icon No icon No icon

সোনাপাচারে সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট

সোনাপাচারে সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট


টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা : কোনোভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না সোনাপাচার। ক্রমেই তা বেড়েই চলছে। বৈধ বা অবৈধভাবে দেশে আসা সোনার সম্ভাব্য গন্তব্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ভারত সোনা আমদানি বাড়িয়ে দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে সোনা পাচারের ঘটনা বেড়ে যায় হু হু করে। সোনাপাচারের সব চেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ট্রানজিট রুট বাংলাদেশ। আর পাচারের নিরাপদপথ বিমানবন্দর। তবে বাস ও ট্রেনে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা, বেনাপোল, কুষ্টিয়া, যশোর, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী দিয়ে পাচার হচ্ছে।
 
সোনাপাচারে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে দুই বাংলায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলোর সোনা ভারতে পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নিরাপদ ও প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে গোল্ড স্মাগলাররা। এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম জাতীয় দৈনিক জনতা
 
‌নিরাপদ ট্রাজিট রুট বাংলাদেশ-এই শিরোনামে পত্রিকাটির প্রধান প্রতিবেদক মশিউর রহমান রুবেল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, যে সব সোনা বাংলাদেশে আমদানি করা হয় এসব আসলে ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশে পাচার করা হয়। আকাশপথে সোনার খণ্ডাংশগুলো বাংলাদেশে আনা হলেও সড়কপথে সেগুলো ভারতে পাচার হয়ে যায়। সোনা বৈধভাবে হোক আর অবৈধভাবে হোক যেভাবেই বাংলাদেশে আসুক না কেন এগুলোর প্রায় সবই ভারতে পাচার করা হয়।
 
সৌখিন ও দামি এই পণ্যটি বাংলাদেশে আনা অনেকটাই সস্তা ও সহজসাধ্য ছিল বিধায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের পাচারচক্র ঢাকা তথা হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরকে নিরাপদ পাচার রুট হিসেবে বেছে নেয়। এদিকে, এই অবৈধ পাচার প্রতিরোধে বা ঠেকাতে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে সোনার উপর আমদানি শুল্ক ২০ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তারপরও কোনোভাবেই যেন পাচারচক্রের সোনাপাচার থামানো যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার পরও সোনা আসছে দেদার। প্রায় প্রতিদিন না হলেও প্রতি সপ্তাহে ধরা পড়ছেই ছোট-বড় চালান।
 
প্রশ্ন উঠেছে- বিমানবন্দরে কাজ করে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তাদের সাথে সক্রিয় থাকে এপিবিএন, থানা পুলিশ, র‌্যাব ও সিভিল এ্যাভিয়েশনের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী। তারপরও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যদিয়ে সোনাপাচাকারীরা তাদের পাচার কাজ চালিয়েই যাচ্ছে।
 
দৈনিক জনতায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দরে সোনা জব্দের ঘটনা অনেকটা নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গতকাল বৃহস্পতিবারও অভিযান চালিয়ে পৌনে ২ কেজি সোনাসহ মোহাম্মদ মান্নান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। যাত্রী মোহাম্মদ মান্নান মিয়া দুবাই থেকে ওমান হয়ে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২২ ফ্লাইটে বেলা ১১টায় ঢাকায় অবতরণ করেন। এ সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশিপূর্বক তার কাছ থেকে সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়।
 
আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে শুল্ক আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।
 
সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক জনতা প্রকাশিত সংবাদে বলেছে, এ যাবত বিমানবন্দরে আটক করা সোনার কোনো মামলার বিচারসম্পন্ন হওয়ার নজির দিতে পারেনি আদালত ও পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা শুধুমাত্র মামলা দায়ের করেই খালাস। এর অধিকাংশই চার্জশীট হলেও আদালতে বিচার প্রক্রিয়াসম্পন্ন হওয়ার নজির নেই। যারা ধরা পড়েছেন তাদের বেশিরভাগই জামিনে বের হয়ে ফের পাচার কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। বিমানবন্দরে যে পরিমাণ সোনা ধরা পড়েছে ; তা চোরাচালানের দশ ভাগের এক ভাগ।
 
সোনা আসে কীভাবে? স্ক্যানার এড়াতে ব্যবহার হয় অভিনব নানা পদ্ধতি। পায়ুদ্বারে লুকিয়ে সোনাপাচার। পাচার ব্যাগ-সুটকেসের হাতলে লুকিয়ে। এলইডি টিভির স্পিকারের নীচে লুকিয়ে পাচার। বিমানের সিটের সাইড প্যানেলে লুকিয়ে স্মাগলিং। শৌচালয়ের ডাস্টবিন দিয়ে পাচার। তদন্তকারীরা বলছেন, বিমানবন্দরের সংস্থার কেউ না কেউ এই চোরাচালান কাজের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এভাবে সোনা পাচার সম্ভব নয়। অপরাধের পরিসংখ্যানও সেই তত্ত্বই সমর্থন করছে।
 
এদিকে প্রতিবেশি দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নীল নকশায়, ভারতের প্রবেশদ্বার কলকাতা। তার ভৌগলিক গুরুত্ব দিলি্লর থেকেও বেশি। বাংলাদেশ ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ রয়েছে কলকাতার। গত কয়েক বছর ধরে কলকাতা দিয়ে সোনা ঢুকেছে সবচেয়ে বেশি। ২০১৩-১৪ সালে দমদমে ধরা পড়ে ১শ’ ১৩ কেজি সোনা। ২০১৫ সালে উদ্ধার হয়েছে ১শ’ ৪৭ সোনা কেজি।
 
ভারতের অপরাধ বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে দৈনিক জনতা জানিয়েছে, কোনোভাবে এই পাচার ঠেকানো যাবে না। এর শেষ নেই। কারণ, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাঙ্কিংয়ের যুগেও, ভারতবাসীর সঞ্চয়ের মৌলিক পদ্ধতি এখনও সোনা। যা প্রতিদিন বাড়াচ্ছে চাহিদা। যেই চাহিদা অক্সিজেন যোগাচ্ছে সোনাপাচারকারীরা।
 
সোনাপাচারে কারা জড়িত বা কারা এসব চালান আনছে-এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান দৈনিক জনতা পত্রিকাটির প্রতিবেদককে জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল হোতা বা ক্যারিয়ার ধরা পড়ছে না। যে কজন ধরা পড়ছে তারাও সোনার মালিক নয়। ওরা পেশাদার ক্যারিয়ার বা বহনকারী। ওরা শুধু স্টেশন টু স্টেশন ক্যারিয়ার। এ ব্যবসা করে তারা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেয়ে যায়। দুবাই থেকে সোনা কেনার টাকাও পাচার করা হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে।
 
এদিকে খোদ গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, বিমানের টয়লেট বা দেয়াল কেটে ভেতরে সোনা লুকানোর সাথে বিমানের লোকজন জড়িত। কোনো সাধারণ যাত্রীর পক্ষে এই টেকনিক্যাল কাজ করা সম্ভব নয়। উড়োজাহাজ যখন হ্যাঙ্গারে নেয়া হয় তখনই এ সোনা বের করে নেয়া হয় বড় চালানগুলো। যা আমাদের চোখ এড়িয়ে যেতেই পারে।
 
বিমানের হ্যাঙ্গারে কর্মরত এক শ্রেণীর মেকানিক ও ক্লিনার ফ্লাইটের ভেতরে যাতায়াতে সুযোগ পায়। তারা যে কোনো অজুহাতে ফ্লাইটে প্রবেশের দরুন টয়লেটের ভেতর থেকে সোনা সরানোর সুযোগ পায়। তাদের সাথে কেবিন ক্রুরা থাকতে পারে। এছাড়াও রয়েছে সিভিল অ্যাভিয়েশনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যারা বড় ধরনের সোনাপাচারের জড়িয়ে পড়ে।
 
তবে, সোনাপাচারের এ অবৈধ চক্র বা সিন্ডিকেটকে রুখে দিতে কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়ে বিমানবন্দরে সক্রিয় রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কাউকেই কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। সূত্র-জনতা

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 11 Banga Bandhu Avenue (2nd Floor), Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK