রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Wednesday, 14 Aug, 2019 09:52:13 am
No icon No icon No icon

আমি কবিতাকে ম্যাজিক রিয়ালিটি মনে করি

//

আমি কবিতাকে ম্যাজিক রিয়ালিটি মনে করি


কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক 
[ এই সময়কার জনপ্রিয় কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কলমে  কবিতা নির্ভর আলোচনা ]                                                                                          
এই কলম ধরার আগে নিঃসন্দেহে বলতে পারি, আমি কিন্তু 
পরিকল্পিত ভাবে চিন্তা - ভাবনা করে লিখতে বসেনি । সত্যি 
অর্থে, মোহহীনতাই একজন কবি ও লেখককে সম্মানের —
অধিকারী করে তোলে । আমি আমার কাব্যজীবনের চল্লিশটা 
বসন্ত দেখলাম, আত্মস্থ চেতনার তাগিদ ছাড়া আমার কাছে 
সময়ের অন্য কোনো প্রেরণার মূল্য নেই । বাংলার পাঠক এই 
কবিতার সাথে - সাথে আমাকে চিনে ফেলেছেন । আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি — মহৎ কবির লক্ষণই হল নিজের কবিতায় 
আত্মস্থ ভাবের আবিষ্কার করা, এবং তাতেই পূর্ণ অভিনিবিষ্ট 
হওয়া । এই প্রেরণাই আমাকে দিয়ে কবিতা লিখিয়ে নিয়েছে, 
তাই কোনো লোভের দিকে তাকাবার প্রয়োজন হয়নি । আরও 
পরিষ্কার করে যদি বলি, কোনো কাগজের চাহিদা মেটাতে বা 
যুগের আবহাওয়ায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে, কিম্বা অর্থার্জনের 
প্রেরণায় আমি কখনোই কার্যসাধনায় ব্রতী হইনি ।আমি সত্যি 
বলছি, আমাকে নিঃসঙ্গ রেখে ধীরে ধীরে এগিয়েছি,  কোনো 
চোটুল প্রলোভনে কখনো আমার ধ্রুব বিশ্বাস থেকে সরে কিন্তু 
আসেনি, খ্যাতির জন্য কোনও কৌশলী প্রচেষ্টা চালাইনি । —
তাই তো কবিতা প্রাণ পাঠকের মুখে শুনতে পাই আমার সেই 
কবিতার অমোঘ উচ্চারণ — যে পৃথিবী ভেজার কথা, সে পৃথিবী ভেজেনি "----  ।                                                                                                                                                                   
                          দূরলক্ষের ভেতর মহা প্রস্থান 
                          স্বপ্ন সাক্ষী রেখে চলে যেতে হয় ; মাটির প্রত্যন্ত 
                          কোনো খানে ! দয়ার স্তব্ধ নম্রতায় ভালোবাসা 
                          হাসে বকুল গন্ধে ****
                          ভিন্ন বিধান ঠেলে উঠে আসে পৃথিবীর সবচেয়ে 
                          সুন্দর এক মৃত্যু , যাঁর সাথে প্রতিদিন প্রতিটি প্রহর 
                          কথা হয় জীবনের । তবুও দূরলক্ষে চেয়ে বসে 
                          আছে অবাক ঈশ্বর ! এখানে চুপশব্দে আত্মার 
                          বহতা যাপন ; সব কিছু তথ্যনির্ভর, — শুনছে 
                          কথা মন, দেখছে অন্তর্ভেদী মনন, অনুধাবন করছে 
                          জ্ঞান - প্রজ্ঞার এক
       
এই ধ্বংসের মারমুখী সময়ে কবিতার কতটা প্রয়োজন আছে, 
এটা আমিও আমাকে প্রশ্ন করেছি । ডারউইনের বিবর্তনবাদে 
বাঁদর থেকে মানুষে রূপান্তর হলেও মানুষের মনোবৃত্তি, হিংসা 
দ্বেষ পরশ্রীকাতরতা যে সহজেযাওয়ার নয় !  পাশ্চাত্য শিক্ষায় 
শিক্ষিত হয়েও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এখনো সনাতন - - 
ধর্মের অভিশাপ, জাত - প্রথার আচরণবিধি স্তম্ভিত করে রাখে !  অথচ আমরাই উপগ্রহ নিক্ষেপণ করি বহিরাকাশে !  এই —
জন্যেই কী এতো কবি - শিল্পী এবং সাহিত্যিকের জন্ম,  কী 
করতে পেরেছি আমরা ? এই পৃথিবীটাকে ভালো রাখতে কি 
পেয়েছি, না আমরা ভালো আছি ?  এসব চিন্তা করেই আমার 
— কথা না রাখার কথা— কাব্যগ্রন্থের কবিতার সেই  অমোঘ 
উচ্চারণ —> যে পৃথিবী ভেজার কথা, সে পৃথিবী ভেজেনি !  "
আমি কবিতাকে সঙ্গে নিয়ে চলছি প্রায় ৩০ বছর ধরে ! এ কথা
আমি এর আগে অনেক - অনেক বার বলেছি । কবিতা চর্চা তো সাহিত্য ও ভাষা চর্চার নামান্তর । আমাদের সংস্কৃতি মেধা 
মননের এবং কল্পনা ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রয়োগ ঘটে সেখানে ।
কিন্তু অন্যদিকে এটা আবার দুঃখেরও সংবাদ । দুঃখ এই —
কারণেই যে, যেভাবে লেখকের সংখ্যা বাড়ছে সেভাবে কি এই 
সমাজে পাঠকও তৈরি হচ্ছে ?  আমি মনে করি, কবিতার —
নির্দিষ্ট কোনও সংজ্ঞা নেই । ব্যক্তিগত ধারণাতেই কবিতা —
সঞ্জীবিত । কবিতা মানুষের জীবন ধারণের সামগ্রী না হলেও 
বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন । এটা একটা বহমান প্রবাহ ।
বাংলা কবিতা নিয়ে যে পরীক্ষা - নিরীক্ষণ চলছেই তা  কিন্তু 
কোনো ভাবে অস্বীকার করার উপায় নেই । তবু বেনোজলে 
আমাদের বোধ ভেসে যাচ্ছে । অনেক লেখা পাতে এসে দেখি 
পড়ছে, কিন্তু অখাদ্যের কারণে মননে পৌঁছাচ্ছে না । যে হারে 
কবিতা ও কবির সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ভালো বা প্রকৃত কবিতা 
লেখা বাড়ছে না । সাহিত্যের আনন্দের ভোজে প্রকৃত মগ্ন 
পাঠককে অধিকাংশ সময়ই উপোস দিতে হচ্ছে !  আমি কিন্তু 
বিশ্বাস করি, আমার সময়ের সঙ্গে কবি বুদ্ধদেব বসুর কালের 
এই যে গুণগত পার্থক্য, এর জন্যেই সম্ভবত কবিতা পত্রিকার 
সমান্তরাল ইদানিং আর কোনো পত্রিকা নেই বাংলা ভাষায়  ।
অবশ্য এর মধ্যে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে কবিযশো প্রার্থীর সংখ্যা  !  কিন্তু কবিতা —তো কেবল কবিতা ছাপানোর পত্রিকা ছিল 
না । কবিতা ছিল সত্যিকারের কবিতার জন্য নিবেদিত একটি 
পত্রিকা । রবীন্দ্রনাথের মতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পী অথবা অতি 
শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন না বুদ্ধদেব বসু । কিন্তু তিনি রবীন্দ্রনাথের 
যোগ্য উত্তরসূরী ছিলেন । কর্মযোগী নন আপাত অর্থে । তিনি 
শিল্পকর্মকেই একমাত্র করণীয় কাজ ভাবতেন । যখন  তিনি 
অনুবাদ করেছেন সমস্ত অন্তরাত্মা ঢেলে দিয়েছেন সেখানেই ।
সম্ভবত এই একটি জায়গায় বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথকে ছাড়িয়েও গেছেন । জীবনানন্দকে তো অবশ্যই । জীবনানন্দে-
র অনুদিত কোন কবিতাই আমার চোখে পড়েনি আজ পর্যন্ত  ।
অথচ বোদলেয়র কিম্বা রিলকে !  আমার ধারণায়, বাঙালী —
পাঠক মাত্রই এই দুজন প্রধান কবিকে চেনেন প্রধানত  কবি 
বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদে । তবু এই দুজনই সব নন । এঁদের —
সঙ্গে আছেন পাস্তের নাক, হেন্ডালিন ও কামিংস্, কালিদাস - 
থেকে য়ুয়ান চন । জানিনা, বাঙালী জাতির ভেতর আজ এই 
মূহুর্তে কতজন লোক বুদ্ধদেব বসুর সাহিত্যকৃতি নিয়ে ভাবেন ।
কিন্তু অন্তত আমার কাছে রবীন্দ্রনাথের পরে তাঁর সমান্তরাল 
একটি নান্দনিক জগৎ যে দুজন বাঙালী যৌথভাবে  গড়ে —
দিয়েছেন তাঁদের প্রথমজন হলেন জীবনানন্দ দাশ,  এবং অন্য 
জন হলেন বুদ্ধদেব বসু  । যাই হোক আমার এই কবিতা নির্ভর 
হৃদয়তান্ত্রিক আলোচনা কতটা যুক্তিযুক্ত সে বিচার সত্যিঅর্থে 
আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম !  সবাই ভালো থাকুন এবং সুন্দর থাকুন ! 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK