সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
Thursday, 11 Oct, 2018 12:42:08 am
No icon No icon No icon

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর আত্মগত কবিতা নির্ভর সাক্ষাৎকার


আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর আত্মগত কবিতা নির্ভর সাক্ষাৎকার


কবিতা হোক কিম্বা অন্য কোন রচনা, কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের লেখা পড়তে পাওয়া এক গভীর অভিজ্ঞতা । বাংলা সাহিত্যের প্রধান শাখা গুলোতেই তাঁর অবস্থান বহতাময় । বেশ কয়েকটি     দেশে কবি বিদ্যুৎ এখন ভীষণ জনপ্রিয় ।  তাঁর বেশির ভাগ কবিতার মধ্যে আত্ম দর্শন পাঠক   অনুধাবন করে আসছেন । দুই বাংলার ভালোবাসার কবি বিদ্যুৎ ভৌমিককে অনেক অনেক প্রেম এবং পাহাড় প্রতিম অভিনন্দন রইল *** সম্পাদক ]                                                                 
*******************                                                                                           
সত্যি কথা বলতে কি, আমার কবিতা সম্পর্কে কিছু বলার বা নিজের কাব্যময় অনুভব নিয়ে বলতে বড়ই দ্বিধা জাগে । আসলে এই ব্যাপারটা অনেকটাই মায়াদর্পণ, অর্থাৎ ম্যাজিক রিয়ালিটি " বলা যেতে পারে । এই দর্পণে উকি দিয়ে দেখলে কত অলীক কিছু আমরা খুঁজে পাই । অক্ষরে অক্ষরে কতযে জড়ানো বিলাপ । তাই কবিতার প্রতি আভূমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেই হয় । কবিতা আমার নিজের প্রাত্যহিকতাকে 
তছনছ করে, চুরমার করে । সহজভাবে চলতে - চলতে কবিতা 
মানুষকে বেসামাল করে দেয় । একটা ভাল কবিতা পড়লে মন 
অনাস্বাদিত আনন্দে ভরে যায় । আমি মনে করি, এই ভালো লাগার একটা অদৃশ্য চাপা উত্তেজনা ও অস্বস্তি থাকে । তবে কি, আমি আদ্যোপান্ত ভাবে মনে করি — আমারা এই অস্বস্তি 
থেকে মুক্তি পেতে চাই না । একটা ভালো কবিতার জন্ম হয় আসলে মেধা ও আবেগের মিলিত রসায়ন থেকেই । শুধু আবেগ কবিতার সংহতিকে নষ্ট করে । আর মেধা নির্ভর কবিতা হৃদয়কে স্পর্শ করেনা । চেনা, জানা - দৃশ্য যিনি মৃদু উত্তেজনায় ফুটিয়ে তোলেন তাঁর কবিতায় থাকে আলোর কারুকাজ । আমি খুব সতর্ক থাকি যখন কলম নিয়ে বসি কিছু একটা লেখার জন্য । কবিতার জন্ম হয় না, আবির্ভাব হয় বলতে পারি । কবি অনেকটাই নিভৃতচারী, মনন ও তাঁর জীবনধর্মী চেতনাকে নিরন্তর লালন ও পালন করে আসছেন যুগ যুগ ধরে । তার ফল সরূপ শব্দের কারুকার্যখচিত ভাব - ভাবনায় গড়া কবিতার প্রকাশ হয় । আবার বলছি কবিতার জন্ম হয় না । আমি ৭০ - এর দশকের কিছু পর থেকে কবিতা লিখছি । আমি বিশ্বাস করি না, সত্যকে স্বরচিত সুন্দরের খামের ভেতর পুরে রাখতে চাই না । তবে রাখা বা না রাখার ব্যাপারে বিশ্বাস ~ অবিশ্বাসের দোলাচল, ঐতিহ্য ও সংস্কারের মান ভঞ্জন, বিষয় না বিন্যাস — মেধা না কেবল মনন — হৃদয়ে হৃদয় খোঁড়া — প্রবাহ জোড়া কেবলই একলা হতে থাকা, নিঃস্ব । একটা বিশেষ সত্যি কথা হল, — আমি মদ না ছুঁয়েও মাতাল । আসলে কি, যে নেশা আমি ৩০ /৩৫ বছর ধরে প্রতিনিয়ত করে চলেছি তার মায়াময় অনুভূতি আমি ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারবে না ।                                                                                                                                                                                                                                                               
        কিছু - কিছু অপূর্ণতা ম্যাকডেভিড মহাশূন্য মনে হয় 
        সে জন্য দিকচিহ্ন মুছে অতীত স্মরণের পথে একা হেঁটে 
        যাওয়া *****
       পাগল বৃষ্টিরদল অবুঝ শিকারী, সেখানে বিচ্ছেদজ্বালায় 
       নির্জন হয়ে থাকে পূর্বপরিচয় ।
        এই রাত্রির কাছে নামহীন তারাগুলো নির্ঘুম বহুকাল 
       অনির্দিষ্ট এই পথে আমাকে ডেকেছে কত মহত নরক 
       সেখানে দগ্ধ হয়েছে গোপন সর্বনাশ, —
       এরপর মৃত্যুঘুম থেকে তুলে নিয়ে গেল অলিক সকাল !                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                         
নিজের সঙ্গে অহর্নিশ যুদ্ধ চলছে, কোথাও প্রত্যন্ত গভীরে আদিম ধর্মের ক্লেদ ও দেশ - বিভাজনের ঠান্ডা অথচ রাজনৈতিক দাঙ্গা ।" উক্তিটি আমারই । আমার লেখক কিম্বা কবি জীবন ঐতিহাসিক কোনো ঘটনা নয় ; যা শুনে পাঠক সমাজ - এর কাছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংগ্রহ হয়ে দাঁড়াবে । কবিতা লিখছি, লিখে চলেছি নির্বিবাদে । একলা ঘরে অন্ধকারে — মনে মনে । অবিন্যস্ত ছড়ানো শব্দগুলোকে একটা সাদা পৃষ্ঠায় নীলকালিতে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখি । বড় বেয়াড়া ব্যস্ততা আমার, একটা কবিতা লেখার সময় নানান ঝঞ্ঝাট এসে সম্মুখে দাঁড়ায় ! যখন এই সব ভারসাম্যহীন ঝঞ্ঝাট দেখা দেয়, 
তখন কাগজ - কলম গুছিয়ে ভালো কিছু লেখা পড়ি । আমার কথা এখন অনেকেই জেনে গেছেন, টিভি চ্যানেলের এবং পত্র পত্রিকার দৌলতে । অনেক জায়গায় আমি সংবাদ শিরোনাম ! 
এই কবিতার জন্য অনেকের কাছে আমি হিংসার কারণ । যানি না, আমি তো কোনো কবিকে হিংসে করিনা তবে তাঁরা কেনযে আমাকে হিংসে করে, — এটাই ভাবতে অবাক লাগে ! ভারত ও বাংলাদেশের পাঠকবন্ধুদের ভালোবাসা প্রতিদিনই পাচ্ছি । প্রচুর চিঠি, ফোন, এস. এম. এস, — এসব তো চলতেই থাকে নিত্যদিন । আমাকে নিয়ে অনেক জায়গায় নানান খেঁজুড়ে গল্প - টল্প ইদানিং হয় বা হচ্ছে । সেসব কানেও আসছে । আমি আমার কবিতার ব্যাপারে একনিষ্ঠ, তাই কোনো কমপ্রোমাইস্ করিনা ! নিজের নামটাকে বহন করা অত সহজ সাধ্য ব্যাপার নয় । বন্ধু মহলটা আমার ভালোই । তাঁরা নানা ভাবে আমাকে উৎসাহ দেন । আমার কবিতার চাহিদা বরাবরই ভালো । আমার কাব্যগ্রন্থ ১ /কথা না রাখার কথা ২ /গাছ বৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিলো ৩ /নির্বাচিত কবিতা — র বাজারে বেশ কাটতি আছে । আমি মনে করি কেউ যদি তাঁর সৃষ্টির ভেতর নিজেকে ১০০ % দিয়ে দিতে পারেন, তাহলে তাঁর সাফল্য হবেই । কেন কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে না, কিম্বা কোনো প্রকাশক তাঁকে পাত্তা দিচ্ছেন না, এসব দুঃশ্চিন্তা তাহলে আর হবে না । এইসব আমি কোনোদিন চিন্তায় আনিনি । লেখাটা মন - প্রাণ দিয়ে লিখি যাই । ফলের পেছনে দৌড়াইনি কোনোদিন । একটা কবিতা সৃষ্টি হবার আগে যত যন্ত্রণা, লেখা হয়ে যাবার পর অভ্যন্তরে প্লাবিত আনন্দ  !  অনেকটা একটা শিশু জন্মের আগে এবং পরে যা ঘটনা ঘটে আমাদের মায়েদের । আমি একটা ঐতিহাসিক শহর হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে থাকি । অর্থাৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে । এখানে আমার অনেক কবি বন্ধুরা থাকেন, যাঁরা অহর্নিশ আদ্যোপান্ত ভাবে আমাকে কবি হয়ে ওঠার দুঃসাহস দিয়ে আসছেন দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে । এই পশ্চিমবঙ্গ এবং সুদূর বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর বেশির ভাগ পত্র পত্রিকা, বহু কাব্য সংকলন, এবং অগুন্তি কবিতা নির্ভর লিটল ম্যাগাজিনে দীর্ঘদিন ধরে লিখে চলেছি কবিতা, শুধু মাত্র কবিতা । আমি হাজার জায়গায় খাবলাই না । আমার প্রিয় কবির মধ্যে প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ  । তবে আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকলেরই প্রিয় । জীবনানন্দ, বিষ্ণু দে, বিনয় মজুমদার, — আমাকে ভীষণ ভাবে টানে । আপনারা সবাই জানেন, সুনীল দা অর্থাৎ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাকে কবিতার জগতে একটা ব্রেক দিয়েছেন । খুব স্নেহ করতেন আমাকে তিনি । এখনকার কবিদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাঁরা আমাকে অনুপ্রাণিত করেন । তাঁরা হলেন, — জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার, মৃদুল দাশগুপ্ত, অজিত বাইরী, শ্রীজাত *** এদের কবিতা ভীষণ ভাবে ভালো লাগে । সবশেষে বলি, — বাংলাদেশের পাঠকবন্ধুরা যাঁরা আমাকে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক হিসাবে চিহ্নিত করেছেন তাঁদের প্রতি রইল আমার অতল মনের কবিতাময় শুভ কামনা ও এক সমুদ্র ভালোবাসা !
**************************
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক 
৬৫ /১৭, ফিরিঙ্গি ডাঙা রোড, শ্রীরামপুর, হুগলি, সূচক ৭১২২০৩ পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ, মোবাইল নং ৬২৯০২৪৬৯৩২ // 
 
***********

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK