রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Friday, 14 Sep, 2018 12:05:14 am
No icon No icon No icon

টাইমস ২৪ ডটনেটের নিয়মিত লেখক ও কবি এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নতুন ৮টি কবিতা


টাইমস ২৪ ডটনেটের নিয়মিত লেখক ও কবি এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নতুন ৮টি কবিতা


নব পল্লবের ভীরে
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)
চির নতুনের, চির নবীনের পত্র পল্লবের শিহরন বুকে
কে মোরে জড়া জীর্ণ প্রবীন বলবে
শুভ সকালের প্রাতরাশ প্রাণে
কুটিল, কুশ্রী, অসুন্দর, অন্ধকার অমানিষাকে ঝেড়ে টেনে ফেলবে।

নব ধানে যে নবান্নের পায়েস, ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়ে ধরা দেয় সকলের
রং বেরংয়ের বাহারি রং যে মনকে ভাষায়
তবে কেন, বয়ো নির্ধারণের, এত কেন হবে, হাতকড়া
নবীন, প্রবীণ, কেন তবে, ভাসতে পারবেনা, এক ভেলায়।

প্রবীণ, নবীনের সম্মানজনক অবস্থান, অবশ্যই একে অপরকে দিবে
প্রবাহিত নদীর স্রোতধারা দেখ হবে মন্থর ও স্বাভাবিক যেন
জীবন চলার পথে উত্তাল ঢেউ জানো কাম্য নয়
প্রত্যেকে, প্রত্যেককে সম্মান করে, জীবন প্রদীপ জ্বেলে কাউকে ছোট করবে কেন।

প্রবীনেরে তুমি গুরুজন মেনে ভক্তি শ্রদ্ধা করো
অতিশয় ভক্তি শ্রদ্ধা দূরত্ব বাড়ায় গুরুজনের সাথে
নিঃসঙ্গতায় যে গুরুজন একাকীত্ব অনুভব করে
অনুসরণ করে চলো না সুশ্রী, সুধীজনের পাথেয়র পথে।

মর্মদহনে প্রবীন হতে যদিও তুমি আঘাত প্রাপ্ত হও
মাথা পেতে নাও না সে কষ্ট , জেনো এ সমসাময়ীক
সময়মত ঠিকই গুরুজন বুকে আগলে নিবে
দুঃখের চেয়েও ছাপিয়ে যাবে যে এ ভালবাসা অধিক।

মাপ পরিমাপের দাড়িপাল্লায় কি কখনো
ভালবাসাকে কখনো কি দাড় করানো যাবে
চলমান জীবনে যে জীবনের প্রতিটি ক্ষনে
প্রাকৃতিক নিয়মেই অপরকে সম্মান দিলে নিজে সম্মান পাবে।

******************************

হৃদয়ের ক্যানভাসে লিখা নাম
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

একটুকু মলিন হয়নি জানো
যে পাতায় লিখেছিলেম নাম
কেমন অদ্ভুত সুন্দরের অবয়ব
আজও তেমন আছে, যেন চির সবুজ।

কত কিছুই তো নষ্ট হয়ে যায়
মলিন হয়ে যায় উজ্জ্বলতা
জানো, সেই যে কবে লিখেছিলাম
আজও তেমনি আছে, সেই সজীবতা।

মাঝে মাঝে ভাবি আমি
সেই লিখার সাথে এখন 
তেমনি কি ভাব আমাকে নিয়ে
তুমি আছ আমার কাছে তেমনি, ছিলে যেমন।

আমার ঐ যত্নে লিখা, লিখাগুলি
কত রং, কত তুলি দিয়ে যে
লিখেছিলাম তোমার নাম
জানতো, তা বুঝেও ছিলে তুমি নিজে।

সেই লিখনের রেপলিকাও 
কেউ করতে পারেনি
পারবে না কেউ তাও জানি
এই বিশ্বাস নিয়েই বেঁচে আছি, কাউকে জানতে দেইনি।

ক্যানভাসের বয়স, বেড়ে যাচ্ছে, ক্ষণে, ক্ষণে
তাতে কি আসে যায়, তোমার কাছে
দিন চলে যাচ্ছে, ক্ষণে, ক্ষণে
আমি অপেক্ষায়, প্রতিক্ষণে হাতছানি মিছে।

সেই লিখা নামটার, উজ্জলতা বেড়েছে, অনেকখানি
নিয়মের কাছে আমি, আমিও হেরেছি
জীবনের ক্যানভাসে, নতুন রং ও এসেছে
কিন্তু সেই কালি , সেই তুলি, সেই রং, সেই নাম, যত্নে রেখেছি।

*******************

বিংশ শতকের সুশিক্ষিত ক্রীতদাস
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

বিংশ শতকে জ্ঞান বিজ্ঞানে
শিক্ষিত সুশিক্ষিত গুণীজন মোরা
শিক্ষার আলোতে আলোতে চোখ ঝলছেসে এমনি
প্রকৃত শিক্ষার বাতিকাঘর কি আদৌ জ্বালাতে পারছি আমরা।

ক্রীতদাস সম মুর্খ গরিব অন্ধকারসম নির্বোধ
আপাদমস্তক বিক্রিত জনা, অসহায়, অপারগ যে ছিল
তার পাশে যদি না দাড়ই আজ 
শিক্ষিত জনা, মোরা হব না কি অবোধ।

বোধ অবোধের প্রসঙ্গে না হয়, নাইবা করলাম যুক্তিতর্ক
প্রকৃত শিক্ষার আলোর বর্তিকা কি জ্বালাচ্ছে বিশ্বজনে
আমি আমি করে আমাকে নিয়ে বিংশ শতকে সকলে ব্যস্ত
মৌলিক অধিকারের তরে সোচ্চার রয়েছি বলতে মোরা কতজনে।

বিশ্বভ্রমান্ডে উন্নয়নের ধারা
 উন্নয়নের সুর ও গীতের ঝংকার
মধ্যবিত্ত আজ, উচ্চবিত্তের স্বার্থ রক্ষার স্বার্থে
 নিজের অবস্থান ধরে রাখতে যে ব্যস্ত সর্বজনে, গরীবের তরে কোথায় হুংকার।

বিশ্বজনে আলো জ্বালাতে হলে ত্যাগ করতে হয় যে কতকিছু
ত্যাগের মহিমা কতজনের ভিতর বল নিহিত আজ
সদা চঞ্চল, সদা ব্যতি ব্যস্ত, নিজেকে নিয়ে, অনেকেই আজ আমরা
প্রভাতে বল, কেমন করে পড়ব বল, মুক্ত বিহঙ্গের তাজ।

ঘর হতে মোরা বাহির হই ঠিকই, গন্তব্যের উদ্দেশ্য জানা
পথিমধ্যে যে অসহায়ের তরে হাত বাড়াতে হবে সদা
ব্যক্তি স্বার্থের কথাই যে মনে মনে, এও যে নিজে নিজে ক্রীতদাসত্ব
কেননা মোরা অবগুণ্ঠন খুলে জাগতে পারবনা সর্বদা।

শৃঙ্খলার যে বেড়াজাল নিয়ে সভ্য সমাজের আস্ফালন
বড় হবার যে পথ পেয়েছে বড় তাকে আরো হতে হবে
লতা গুল্মের মত নিষ্পেষনে হোকনা নিম্নবিত্ত, কার কি আসে যায়
সময় এসেছে, ক্রীতদাস হতে ঘুরে দাঁড়াবার বার্তা শুনিয়ে এগুবে।

মুখ বুঝে আর সইবে না, নিম্নবিত্ত, থাকবে না আর মুখবধির
অন্যায়ের প্রতিবাদে হবে সোচ্চার, হয়তবা সামনে সুদিন আসবে
রক্ত মশালে জ্বালাবে স্ফুলিঙ্গ, বিদ্যুৎ মেঘের ঘর্ষনের ঝলকানি
ক্রীতদাস সম মুখ বুজে নয়, শীতল পানি, সেও গর্জনে চারিধার ভাঙবে।

ভাঙ্গনের সুর শুনেছে বিশ্ব, এটাতো নয় প্রতিনিয়ত শোনার ধ্বনি
অতি বার বারা একদম ভাল নয়, নিম্নচাপের প্রবাহ যে সৃষ্টি হবে
শাসন শোষণের হাতিয়ারে যে লাগাম ধরে রাখবে
না হলে যে, বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিবে অনেকখানি।

সৃষ্টির শুরু হতেই ক্রীতদাস ছিল, সে ক্রীতদাস বাধ্য হয়ে শুনেছে অনেক কিছু
সমাজের অলিখিত অন্যায় অবিচারের 
যে দলিল গলায় পড়েছে সুশিক্ষিত ক্রীতদাস আজ
অতিমাত্রায় ভার দিয়ে দিলে মাথায় তার এ বোঝা
হয়ত বা বিশ্ব সমাজের সিংহাসন হারাবে খুব শীঘ্রই সে সম্রাট।

সময় থাকতে হও হুশিয়ার, বুঝে নাও ন্যায্য কাজের হিসাব
অযাচিত ভাবে কোন কিছুই যে ভাল নয় সমাজে
বিংশ শতকের সুশিক্ষিত ক্রীতদাসও যে বিদ্রোহ করতে পারে
সমাজপতিরা এখনি ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠে বাতি জ্বালাও প্রকৃত কর্ম সম্পাদনের মাঝে।

***************************

হাতছানি
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

বনের পাখির মত
মন রে বন্ধু তোর
বনের পাখির মত মন
তাইতো উইড়া বেড়াস যখন তখন।

যতই তোরে আমি
বানতে চাইলাম মনে
বাসা বানবার 
পাইলিনা কোন ক্ষণে।

ক্ষণে ক্ষণে তুই ঘুইরা বেড়াইলি
ঘুরলি দেখলাম রং তামাশার বনে বাদরে
আমার মত কইরা চাইলো কে আর তোরে
দিন শেষ দেখি, তুই আন্ধারে।

আন্ধার ঘর থিকা
আলো ফালাস এখন
আলো ফালাইতে চাস মোর পানে
আলো দেখি, তোরেতো দেখিনা আর তেমন।

আমি যে এখন আন্ধা প্রায়
মন ভরাইতে পারবি না আর কোন গানে
সময়ের গান সময়ে শোনাসনাইরে পাখি
অসময়ের গান যে এখন আর লাগেনা প্রাণে।

মন ভাইঙ্গা গেছে রে আমার
প্রাণ পুইড়া গেছে
সময় মত যদি ফিরা চাইতি
ভোগতে হইতো না আর তোরে, আমারে মিছে রে।

********************

কাঙ্ক্ষিত জীবন
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

প্রতিক্ষণে আমি পাইনে তোমায়
থাকি তোমারই আসে
বিরহ ব্যথায় মন পুড়ে যায়
কেমনে তোমায় পাব পাশে।

পাশে পেতে চাই তোমাকে আমি
অনুভবে অনুক্ষনে সারাদিন
প্রতিক্ষন যেন অপেক্ষায় থাকতে না হয়
চাই যে তোমায় প্রতিদিন।

পাওয়া না পাওয়ার মাঝে জানি
স্বপ্নেরা জাল বুনে
স্বপ্নের সাগরে ভাসতে 
চাইনা একা তুমি বীনে।

আমার আকাশে জ্বল জ্বলে তারা
আলো নিয়ে খেলা করে
সে আলোর, অবগাহনে ভাসতে চাই
কেবলি তোমার সনে।

মন মাধুরীতে স্বপ্নের ডানারা
কত রংয়ে রূপে সাজে
সেই সাজে কেবলই তুমি থাক
আমার জীবন মাঝে।

আমার আমিতে মিশতে যে চাই
তোমার মাধুরীর সনে
মাধুরী তথনই নিষিক্ত হয় 
সুর মিলে যখন দুজনের গানে।

গানে গানে থাকে সুরের বীনা
সুখ দুঃখের ছন্দ
তাল লয় ঠিক করে জীবনের গান ধরলে
জীবনে বহে যায় যে আনন্দ।

***********************

নব পল্লবের ভিড়ে
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

চির নতুনের, চির নবীনের পত্র পল্লবের শিহরন বুকে
কে মোরে জড়া জীর্ণ প্রবীন বলবে
শুভ সকালের প্রাতরাশ প্রাণে
কুটিল, কুশ্রী, অসুন্দর, অন্ধকার অমানিষাকে ঝেড়ে টেনে ফেলবে।

নব ধানে যে নবান্নের পায়েস, ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়ে ধরা দেয় সকলের
রং বেরংয়ের বাহারি রং যে মনকে ভাষায়
তবে কেন, বয়ো নির্ধারণের, এত কেন হবে, হাতকড়া
নবীন, প্রবীণ, কেন তবে, ভাসতে পারবেনা, এক ভেলায়।

প্রবীণ, নবীনের সম্মানজনক অবস্থান
অবশ্যই একে অপরকে দিবে
জীবন চলার পথে উত্তাল ঢেউ জানো কাম্য নয়
প্রত্যেকে, প্রত্যেককে সম্মান করে, জীবন প্রদীপ জ্বালাবে।

প্রবীনেরে তুমি গুরুজন মেনে ভক্তি শ্রদ্ধা করো
অতিশয় ভক্তি শ্রদ্ধা দূরত্ব বাড়ায় গুরুজনের সাথে
নিঃসঙ্গতায় যে গুরুজন একাকীত্ব অনুভব করে
অনুসরণ করে চলো না সুশ্রী, সুধীজনের পাথেয়র পথে।

মর্মদহনে প্রবীন হতে যদিও তুমি আঘাত প্রাপ্ত হও
মাথা পেতে নাও না সে কষ্ট , যেন এ সাময়িক
সময়মত ঠিকই গুরুজন বুকে আগলে নিবে
দুঃখের চেয়েও ছাপিয়ে যাবে যে এ ভালবাসা অধিক।

মাপ পরিমাপের দাড়িপাল্লায় কি কখনো
ভালবাসাকে কখনো কি দাড় করানো যাবে
চলমান জীবনে যে জীবনের প্রতিটি ক্ষণে
প্রাকৃতিক নিয়মেই, অপরকে সম্মান দিলে, নিজে সম্মান পাবে।

******************************

বাংলার রূপ
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

কেউ যদি বলে কেমন দেশ চাও তুমি
বলব আমি, বাংলাদেশের মত দেশ, কোথায় পাব আমি।

পাখ পাখালির কুহু তানে মোদের
ঘুম ভাঙ্গে আর প্রহর ফুরায় চাঁদের।

শিশির সিক্ত সোনালি ধানের বন্যায় 
স্বপ্ন বুনে, ধানে ধানে মাঠ ভরে যায় অনেক।

নদীর কুল ভাসে জোয়ারের ডাকে
এপার, নয়ত ওপার পলিতে ঢাকে।

মাছরাঙ্গার ঐ দুষ্টু ঢোকর
দূর থেকে দেখি
ভীষন মিষ্টি লাগে।

ধবল পালে বায়ু বয়ে যায়
নৌকা নিয়ে ঐ মাঝি উজানে ভাসায়।

কুলু কুলু তালে নৌকা চলে
উদাস বধুর মন কত কথা বলে।

ধু ধু মাঠে ঐ রাখাল চলে যায়
বাংলাদেশের রূপ মাধুরীর কথাই যেন বলতে চায়।

*********************

ভালবাসায় সিক্ত হোক ভুবন
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

কান্দে আমার মন রে বন্ধু
কান্দে আমার প্রাণ
প্রাণ ভ্রমরা যে প্রাণে নাই
করি কি এখন।

ক্ষণে, ক্ষণে, ক্ষণ চইলা যায়
রাত গড়াইয়া হয় ভোর
তোমার দেখা তবু পাইনা প্রাণপ্রিয়
শুনছি, ভালবাসা খুব মধুর।

মধুর সনে, ভ্রমরা নাচে
ফুলে, ফুলে, গায় গান
যে জন, যেজনরে চায়, কেন যে তার হয় না
হইলে, জুড়াইতো যে প্রাণ।

প্রাণে প্রাণে ভালবাসার কলি ফুটে
পুষ্পরেণুতে হয় মাখামাখি
প্রিয়জন কাছে আসুকনা প্রাণে
প্রাণের মানুষের সনেই, আজীবন হোকনা, চোখাচোখি।

***********************

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK