শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
Monday, 06 Aug, 2018 01:27:16 pm
No icon No icon No icon

বহুল আলোচিত লেখক ও কবি এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নতুন ৬টি কবিতা প্রকাশ


বহুল আলোচিত লেখক ও কবি এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নতুন ৬টি কবিতা প্রকাশ


আমরা যদি না জাগি মা 
কেমনে সকাল হবে
(চাই নিরাপদ সড়ক)
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

ভালবাসার ডানায়, বাধা যে, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন ও বিশ্বজন
সাবধানে, তোরা চলাচল করিস, রাস্তাঘাটে
যানবাহনের যে ভীষণ প্রয়োজন, বিংশ শতকে
সারি, সারি, আহত – নিহতের দেহ দেখলে যে, মন ভেঙ্গে যায়, আঘাতে।

পথতো জানি, পথিক সৃষ্টি করে, সেই পথেই লাগে যানবাহন
যানবাহনের কান্ডারিকে যে, যানের হাতল ধরতে হবে সাবধানে
সাবধানতাই যে, দুর্ঘটনার প্রতিষেধক
এ কথা ভেবেই কিন্তু, চালককে শৃঙ্খলাকে লিখে নিতে হবে তার সংবিধানে।

পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন, সময়োপযোগী পাকা, ঢালাই করা রাস্তা ভীষণ প্রয়োজন
প্রকৃত শিক্ষা. প্রকৃত শিক্ষাই নিতে হবে, প্রত্যেক চালককে
পরিবহন চালনার লাইসেন্সে কোন অনিয়ম নয়
এটাই কিন্তু, অনেকটাই, দুর্ঘটনার হাত থেকে, বাঁচাবে জনগনকে।

প্রতিটি পরিবহনের চালকের বয়সসীমা, অবশ্যই, বাস্তবসম্মত হতে হবে
ফিটনেস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, থাকতে হবে, পরিচ্ছন্নতা
বাহুবলীতে, অবৈধ রুট এর বিস্তার হতে দেয়া যাবে না
শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ ও মানবসেবা, পায় যেন অগ্রগন্যতা।

অতিমাত্রার দ্রুত গতি, কখনোই কোন চালকের হওয়া নয় কাম্য
মনে রেখ, একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না
নিজের দায়িত্বহীনতার কারনে যদি খুনী হও তোমরা
মহান স্রষ্টার কাছেও ক্ষমা পাবে না, যতই দাও ধন্না।

প্রভাবে, প্রতিপত্তিতে, হয়ত তুমি দাপটে হবে রাস্তার রাজা
অতি দানবীয় আঘাতে হাজার হাজার মানুষকে পথে বসাবে
বুকে হাত দিয়ে বলত, এতে কি তুমি সন্তুষ্ট হবে
রাতের বেলা কি তুমি, আসলেই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।

নিয়ম – কানুনতো মানুষই তৈরি করছে, মানুষই তা মেনে চলছে
তবে কেন মান্যবর ড্রাইভার ভাইরা, নিজেদের ও মানুষের নিরাপত্তা দিবে না
স্রষ্টার কথা মনে করে নেশা ও বিপথের পথ যারা নিয়েছে, তারা তা করবেনা
মূল্যবোধের আলো নিভে গেলে, আলো জ্বালাতে পিছ পা হবে না।

টাকা পয়সাই কি জীবনে সবকিছু, ভালবাসা বলে কি কিছুই নেই
ভালবাসা বুকে থাকলে কি ফুলের পাপড়িও দলতে পারবে সে
জানি পারবে না, তাইতো অনেকেই পারে না
সৎ ও সুন্দরভাবে অনেক চালকই, সফল জীবন প্রান্তে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, এত সড়ক দুর্ঘটনা, কি মেনে নেয়া যায়
আমরা মানি না, মানে না কেউ, মানবেও না কেউ
মাঝে মাঝে ওদেরও ঘুম ভাঙতে যে সময় লেগে গিয়েছিল
তাইতো মাতৃক্রোড়ের সন্তান ও অধিকার আদায়ে রাস্তায় সেও।

ওদের চাওয়া, মোদের চাওয়া, খুব কি বেশি কিছু
খুব সাধারন, অতি সাধারন, সাধারন জীবনের নিশ্চয়তা
চালক ভাই ও পরিবহন পরিচালকরাওতো একত্র হওয়া উচিত এতে
ওনাদের, স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকতে হবে, এটাই তো স্বাভাবিকতা।

হুংকারের ঝড়, পথে ঘাটে দেখি, দেখি কচি কোমল মুখ
অগ্নিঝরা বানীতে, আমি বড় উজ্জীবিত আজ
সড়ক দুর্ঘটনা এড়িয়ে, স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অধিকার সবার আছে
কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যা করছে তাতো নয় খারাপ কাজ।

নীতি নির্ধারক যারা আছে সমাজে দেশে
সময়ের কাজ তাদের সময় মতই করতে হবে
প্রিয়জন যদি অসময়ে দুর্ঘটনায় মরে যায়
আত্মীয় পরিজন, কেমনে বল, স্বাভাবিক রবে।

চালক, পথচারী, নীতিনির্ধারক সকলেই পথের কথা মাথায় রাখবে
প্রত্যেককেই সময়মত সাবধানতার সাথে কাজ করতে হবে
অসাবধানকারীদের ঘুম কেন ভাঙ্গাতে হবে কোমলমোতিদের
সকলে সকলের কাজ সঠিক ভাবে করলে, প্রকৃত, সকলের গর্ব সকলে করবে।

***************************

পারিনা আমি পারিনা ভুলতে
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

ভুলে যেতে চাই শুধু ভুলে যেতে
পারিনা আমি না না পারিনা
বুকের ভিতর কি কষ্ট কি ব্যথা
বলাতো যায় না, বলা হয় না এ কথা।

পৃথিবীর কতকিছুইতো চলে যাচ্ছে নিরবধি
জীবনের চলার পথ কেন যে হয় একমুখী।

পাই যাকে তাকেতো চাই না
অপেক্ষায় যে থাকে, দেখা তাকে দেই না।

যাব কি যাব না দেব কি দেব না
দ্বিধা দ্বন্দের এ খেলায়, কিছুই কি পাব না।

আলো খেলা করে দূর গগনে মিলায়
মনের আলো যে চিরতরে রয়ে যায়।

বুকের ভিতরে ছোট্ট অচেনা মনটি
আনচানে থাকে পাবে কখন কাঙ্খিত ক্ষণটি।

ক্ষণ আসে না মন ও হাসে না
তবুও বেঁচে থাকা, তবু কল্পকথা।

জীবনের সুরে তবুও মিথ্যে তরঙ্গের ঝংকার
দূর আকাশে তাকিয়ে মন বলে আমি কার।

মেঘের পরে মেঘ ভেসে যায়
অন্ধকার মেঘে চাঁদ ঢাকে আঁধারে হারায় ।

*************

জীবন ধারার প্রবাহ
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

কে আছে বলো, বন্ধু আমার 
কে আছে বলো, মোর স্বজন
দিন বুঝি ফুরাল, সন্ধা হল
খবর আর কে নিল, বল কজন।

শৈশব কালে, বন্ধু মিলে
খেলার ছলে মোর, গেল বেলা
মা, বাবা পরিজনে পরিবেষ্টিত ছিলাম
কৈশোরে শুরু হয়েছিল, খেলা।

খেলায় খেলায়, মোর কৈশোর শেষ হল
যৌবনে ছিল, কত রঙিন ঢেউ
ঢেউয়ে ঢেউয়ে, রংধনু সাজালাম
মুহিত হয়েছিল, কেউ কেউ।

মোহময়তায়, বেলা চলে গেল
সমাজের দর্পনে, এলো মোর ছবি
অহংকার, অহমিকতায়, ভুললাম কতকিছু
অস্ত বেলায়, যাচ্ছে বুঝি, মোর রবি।

রবির কিরনের সাথে যে, কিছু আলো দেইনি
তা আমি বলবোনা
আলোর নিচে যে, আঁধারও ছিল
তা যে, আমি ভুলবনা।

যৌবনের আলোর, পিদিম নিভুনিভু
প্রজ্জলনের, তবু আপ্রাণ প্রয়াস
আলো আধারির, এই কালে
পূর্বের ভালোকাজই দেবে, ভাল আভাস।

আভাসে, আভাসে, আলো বিচ্ছুরণে
ভালো কাজে,র আলোরিত আলো
এ আলো যে, মেঘে ডাকে না
সর্বজন বিদিত, ধুয়ে মুছে দেয়, সব কালো।

কালিমার কালো যেন, জীবনে না আসে
প্রতিরোধ করতে হবে শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্যে
শেষ জীবনে, আলো খুজে খুজে
ব্যর্থ প্রয়াসে, আলোর সন্ধানে, ডুবাবে হতাশে।

কৈশোর হতেই, আলোর প্রবাহ ধরে রাখতে হয়
দমকা হাওয়া হতে
আলো হল প্রবাহ ধারার মাধ্যম
ধরে রাখতে পারলে, সফলতা তাতে মিলে।

*********************************

আমার বাবা
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা

বাবা আমার, কত কষ্টে, কত ঘামে
রেখেছে মোদের, আদরে।

ঠান্ডা শিতল, কাক ডাকা ভোরে
সবাই ঘুমিয়ে, তিনি ঘুম থেকে উঠেছে ।

আমার বাবা
ঘুম ভাঙ্গিয়েছে, আদর দিয়ে-
নিয়ে গেছে, স্কুলে।

বাবার কথা, মনে হয়, ভাল লাগে
মিষ্টি মধুর, আদর শাসনে।

বাবাকে রেখেছি, মোরা সম্মানের
উচু এক আসনে
তোমার কথা মনে হলে, বাবা
আজো মোরা চলে যাই, সেই অতীতে।

মনে হয় যেন, এই বুঝি ডেকে
বলবে ওরে, তোরা কই
সোনার, টুকরাগুলো কি ঘুমিয়ে এখনো
স্নেহ, ভালবাসায়, মরেও ছায়া হয়েও যেন, তোদের পাশেই রই।

**************************

না হয়, বিনয়ীই না হয় হলাম
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

একটু বিনয়, একটু ছোট হওয়া, একটু না হয় হাসি
দোষের তেমন কি কিছু, এতো নয় অত ছোট কাজ
ছোট, ছোট, এমন অনেক কাজই যে, ছোটকে বড় করে দেয়
মানুষের তরে, মানুষকে পড়িয়ে দেয়, নতুন এক তাজ।

বড্ড বড় তুমি, ভীষণ প্রতিপত্তি তোমার, তুমি বিত্ত, বৈভবে অনন্য
তুমি আরো বড় হবে, আরো অনন্য হবে
যদি স্বস্তি ও শান্তিতে তোমার ছায়াতলে অপারগ ও পরগাছারা বাঁচে নির্বিঘ্নে
তবেই যে তোমার নামটি, স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সেই বড়কেইতো বড় বলা যায়, যে বড় ছোটকে বুকে আগলে রাখে
হাজার ঝড় তুফানে ছোট যেন ভীত অসহায় হয়ে না পড়ে
তালগাছেল ন্যায় বজ্র বুকে নিঃশেষ হতে দ্বিধা নেই
এমন বড়র কথাইতো সারা বিশ্ব মনে করে।

একজীবনে বাঁচব কত আর কতই বা এর ব্যাপ্তি
যথাযোগ্য মর্যাদায় সবাই যদি সবাইকে সন্মান করি
বিকশিত মন, সুন্দর প্রভাত, আলোকোজ্জ্বল দিন দেখব সবাই
কেননা সবাই এমন করেই জীবনের প্রদীপ জ্বালিয়ে ধরি।

নিজের ভিতরে, নিজেকে শাসন, প্রত্যেকের তরে প্রত্যেকের তা প্রয়োজন
অপরের সামনে নিজের জ্ঞান গর্ব জাহিরের প্রয়োজন নেই
প্রকৃত গুনীজন এমনিতেই গুণের প্রাচুর্যে হয় গৌরবান্বিত
তাইতো প্রতিটি মানুষ, কেননা প্রতিটি মানুষের গুণাবলী মূল্যায়নে সচেষ্ট রই।

মানুষ তুমি, মানুষ আমি, প্রতিটি মানুষেরই প্রয়োজন আছে এ বিশ্ব ভুবনে
দাম্ভিকতা, অহংকার, দূর্ব্যবহার, বিশৃঙ্খলতা ও সন্ত্রাস সাময়িক হয়ত সমাজে দৃষ্টিগত
মানুষের মনে এদের জন্য যে কি কালিমা লেপিত
শেষ বেলায় এরাই, হায়, আফসোস করে যখন এরা হয় শয্যাগত।

দিন থাকতে দিনের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত কর
নম্র, ভদ্র ও বিনয়ের আলোয় নিজেকে আলোতে ভাসাও
দূর হতে অন্ধকার হতে অনেকে দেখবে তোমার আলো
সমাজ সংসারে, এভাবেই, সুন্দরে সুন্দরে, জীবনকে কেননা সাজাও।

***************************

তুমি আসবে বলে
লেখক : মো: জাহাঙ্গীর হোসেন (সাবেক সেনা কর্মকর্তা)

তুমি আসবে বলে, রংধনুর সাজে
রাঙিয়েছি যে মন
তুমি আসবে বলে, মৃদু কন্ঠে গান ধরেছি
বসন্ত বাতাসের মতন।

তুমি আসবে বলে, ঘর সাজিয়েছি
ছিটিয়ে দিয়েছি, বেলি ফুলের ঘ্রান
তুমি আসবে বলে, দুয়ার লাগাইনি 
এসে যদি চলে যাও, বুঝতে পারব না তখন।

তুমি আসবে বলে, মনোবাগানে 
রোপিত করেছি রঙ্গন
তুমি আসবে বলে, নুইয়ে যেতে দিইনি গাছ
জল ঢেলেছি, সর্বক্ষণ।

তুমি আসবে বলে, চোখের পাতা এক করিনি
নিদ্রা যদি, চলে আসে চোখে
তুমি আসবে বলে আবেগে অনুভবে ভেসেছি
কত কথাই বলেছ, তোমরা আমাকে যখন তখন।

তুমি আসবে বলে একে একে
হাজারো গোলাপ সাজিয়েছি ফুলদানিতে
তুমি আসবে বলে ফুলের পাপড়িও ঝরতে দেইনি
পারবনা মানতে কোন কমতিতে।

তুমি আসবে বলে সবাই জানে ব্যস্ত ভীষন আছি
কোন কারনে, তোমার মুখে কমতি যেন না থাকে হাসি
তুমি আসবে বলে সবই করলাম হয়ে গেলাম বড় একা
তুমিতো বোঝনি, অনুভব করনি, সবই হল মোর বৃথা।

**********************

 

এই রকম আরও খবর




Editor: Habibur Rahman
Dhaka Office : 149/A Dit Extension Road, Dhaka-1000
Email: [email protected], Cell : 01733135505
[email protected] by BDTASK